'টেনশনে' হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয় আহমদ শফীর : দাবি আনাস মাদানীর

আহমদ শফী
আহমদ শফী - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৭

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও শতবর্ষী প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কারণে হলেও তার ছেলে আনাস মাদানী ইঙ্গিত করছেন, হাটহাজারি মাদ্রাসায় কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারনে 'টেনশনে' তাঁর 'হার্ট ফেল' হয়েছিল।

আনাস মাদানী বলেন, আমার আব্বা দীর্ঘদিন রোগে ভুগলেও ভালোর দিকে ছিলেন। বৃহস্পতিবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আব্বাজান হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেলেন ও উনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানকার ডাক্তাররা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন আব্বা টেনশনের কারণে হার্ট ফেল করেছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আহমদ শফী ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর পর তার ছেলে আনাস মাদানী তার পিতার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান, আহমদ শফীর ইচ্ছে অনুযায়ী তার একটিই জানাজা হবে। শনিবার বেলা দুটায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় এবং এরপর সেখানকার কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।

আনাস মাদানী বলেন, আমার আব্বা সারাজীবন এক জানাজার পক্ষে ছিলেন। এটাকে কেউ ভিন্নখাতে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না দয়া করে।

উল্লেখ্য, শতবর্ষী প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে আহমদ শফীর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ৮ নম্বর বেডে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন‌্য শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ মাঠ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

হেফাজত ইসলামের নেতারা জানান, হুজুরের বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বমি ও অস্বাভাবিকভাবে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসের মাত্রাও বেড়েছিল। তিনি খাবার খাচ্ছিলেন না। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়।

শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম বরকম আলী, মা মোছাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম। আহমদ শফীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তাঁর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ পাখিয়ারটিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক। ছোট ছেলে আনাস মাদানি হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক।

আহমদ শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ সালে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান, সেখানে চার বছর লেখাপড়া করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ১১ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এমএ (আরবি-ইসলামিক স্টাডিজ)-এর সমমান ঘোষণা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি, নাতনি রয়েছে। আল্লামা আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি।

১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। ছাত্রদের বিক্ষোভের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির সভায় আহমদ শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালকের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরপরই মাদ্রাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...