স্কুল খোলার নির্দেশনা: কিছুই জানে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫০,  আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:০০

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও এখনো স্কুল খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, এই সময়ে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামীম আরা নাজনীন স্বাক্ষরিত নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় পুনরায় চালুর নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় পুনরায় চালুর আগে অনুমোদিত নির্দেশিকার আলোকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা হবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে আলাদাভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৫০টির বেশি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এসব নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়, স্কুল খুললে সব শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে এবং হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে সপ্তাহের একেক দিন একেক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও নিরাপদ এলাকা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক বিদ্যালয় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার স্থাপন বা সম্প্রসারণ, মেয়েশিশুর ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় খোলার আগে অবশ্যই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ ও টয়লেটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর পাঠ পরিকল্পনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক— দু’জনেই গণমাধ্যমকে বলছেন, তারা এ ধরনের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু বলা হয়নি। দেখা যাক, হয়তো নির্দেশনা চাইতেও পারে, বলতেও পারে। উনারা যদি আমাদের কোনো মতামত চায়, তখন আমরা বলব। এর আগে আমরা কিছু বলতে পারি না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, নির্দেশিকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যদি আমাদের কাছে মতামত চায়, তবে অবশ্যই তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়ে মতামত জানানো হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার আগে প্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশিকা দেওয়া হলেও সেটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কেন যোগাযোগ করা হয়নি। জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এই নির্দেশিকাটি মূলত আমাদের রিওপেনিং প্ল্যান। আমরা যখন এই করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্কুলগুলো খুলব, তখনকার করণীয় কী— আমাদের সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাত্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নির্দেশিকার বিষয়ে কিছু জানে না। প্রাথমিকের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল খোলার সময়ে এগুলো অনুসরণ করব। যখনই স্কুল খোলা হবে, এই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, স্কুল খোলার সময় হলে তখন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না করে স্কুল খোলার নির্দেশিকা দেওয়াকে সমন্বয়হীনতা বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তো সমন্বয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু তারা যদি সমন্বয়টা না করে, তাহলে কী করার আছে? স্কুল খোলা সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাহায্যও প্রয়োজন। কারণ স্কুল খোলার আগে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্কুলেও তো সচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে।

একইসঙ্গে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পালনের বিষয়েও প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে, সমন্বিত করে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের সহায়তাও নেয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। এরপর করোনা সংক্রমণ রোধে দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এরপর কয়েক ধাপে এই ছুটি বাড়ানো হয়। এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads