'হার্ড ইমিউনিটি' করোনাকে মৌসুমি রোগে পরিণত করবে

'হার্ড ইমিউনিটি' করোনাকে মৌসুমি রোগে পরিণত করবে
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৮

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় ধুঁকছে পৃথিবী। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে করোনা ভাইরাস নিয়ে ভয় ঢুকে গেছে জনমনে। তবে মানুষের হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হলে করোনাভাইরাসও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে মৌসুমি রোগে পরিণত হবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা।

গবেষকরা বলছেন, যত দিন না বেশির ভাগ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, তত দিন প্রায় সব ঋতুতেই এই ভাইরাসের প্রকোপ থাকবে। ফন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেল্থ নামে প্রকাশিত এক গবেষণার রিপোর্ট বলছে, একটা বড় অংশের মানুষের মানুষ যখন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, তখন সংক্রমণ নিজে থেকেই কমবে। আর তার জেরে করোনাও নির্দিষ্ট মৌসুমি দেখা দেবে।

লেবাননে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বেইরুটের গবেষক হাসান জারাকেট বলেন, ‌হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়া পর্যন্ত করোনা থাকবে এবং ছড়াবে। তাই শারীরিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখতে হবে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকা এবং ভিরভাট্টা এড়িয়ে চলতে হবে।

অন্যদিকে ক্রান্তীয় অঞ্চলে সারাবছরই অল্প–বিস্তর সক্রিয় থাকে ওই ভাইরাস। বেশ কিছু মৌসুমি ভাইরাসের চরিত্র নিয়ে গবেষণা করে দেখা হয়। তাপমাত্রা এবং আদ্রতার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন, তা নিয়ে আরো বিস্তর গবেষণা চলছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বে এরই মধ্যে তিন কোটির বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন ৯ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩১ হাজার ৯৭৬ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৪ জন।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ২ লাখ ১ হাজার ৩৪৮ জন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এ নিয়ে ৬৮ লাখ ২৮ হাজার ৩০১ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় এবং মৃতের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৩ জন। এবং এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩ হাজার ২৩০ জন।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় এবং মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ লাখ ২১ হাজার ৬৮৬ জন। এবং আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৪ জন।

করোনায় মৃতের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে মেক্সিকো। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭১ হাজার ৯৭৮ জন। আর এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩১ জন।

আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৯ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯১৭ জন।

সুস্থতার দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৪১ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ জন), দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত (৪০ লাখ ২২ হাজার ৪৯ জন), এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল (৩৭ লাখ ২০ হাজার ৩১২ জন)।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৫টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। সংক্রমণ দেখা দেয়ার সপ্তম মাসে এসে দিন দিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসতে শুরু করেছে। গত একদিনে (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনায় মারা গেছেন ২১ জন। যা গত ৪৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই একদিনে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ৬১৫ জন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে চার হাজার ৮২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছেন তিন লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯ জন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...