‘খিচুড়ি রান্না’ নিয়ে হৈচৈ করার কিছু নেই : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সরকারের ভার্বমূতি নষ্টের অপচেষ্টা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:২১,  আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:২৩

খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি খোলাসা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ. জাকির হোসেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়। এ নিয়ে এতো হৈচৈ করার কিছু নেই।

এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রকাশের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মধ্য দিয়ে সরকারের ভার্বমূতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়েই অভিজ্ঞতা নিতে হয়। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করলে তার ফলও ভালো পাওয়া যায়। যেকোনো প্রকল্পে দেশে-বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিধান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলছেন, স্কুল ফিডিং পলিসির আওতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিদেশে প্রশিক্ষণে যে ব্যয় হবে তা অপচয় নয় বরং কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার দেয়ার উদ্যোগটি ভালো করে করা হচ্ছে। মিড-ডে মিল আমরা ১৬টি উপজেলায় পাইলটিং (পরীক্ষামূলকভাবে চালু) করেছি প্রোগ্রামটা। আমরা বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়াবো। তিনদিন বিস্কুট, তিনদিন রান্না করা খাবার খাওয়াবো। ডিম, কলা ইত্যাদি ইত্যাদি আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। যাতে আমরা বাচ্চাদের কিছুটা হলেও পুষ্টি দিতে পারি। সুন্দর স্বাস্থ্যবান শিশু না হলে পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারে না।

জাকির হোসেন বলেন, ১৯৪১ সালে ভারতের কেরালায় স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করেছে। আমি সেখানে দেখে এসে পাইলটিং করেছি। আমি যদি উকিল হই আমি কি সিনিয়রের কাছে শিখবো না?’ মিড-ডে মিলের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ডিপিপিতে সামান্য কিছু টাকা রাখা হয়েছে। যারা এই কর্ম পরিচালনা করবে, যেখানে দীর্ঘদিন থেকে এটা মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কিছু শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এটা কোনো খিচুড়ি পাক শিক্ষা নয়। এটা ম্যানেজমেন্টটা জানার জন্য, শেখার জন্য, কীভাবে করছে। এজন্য সামান্য কিছু টাকা ডিপিপিতে ধরা আছে।

এদিকে সচিবালয়ে নিজ দফতরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভায় স্কুল ফিডিং পলিসি অনুমোদিত হয়েছে। এই পলিসির ভিত্তিতে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করেছি। ১০৪ উপজেলায় চলমান প্রকল্পটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করা হবে। সেই নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে আমরা ২০২৩ সাল পর্যন্ত একটা প্রকল্প প্রণয়ন করে দাখিল করেছি।

সচিব বলেন, এই প্রকল্পে দুটি বিষয় আছে। বাচ্চাদের আমরা দুপুর বেলা খাবার দেব। খাবারটা হবে দুই ধরনের। তিনদিন বিস্কুট এবং তিনদিন রান্না করা খাবার। বর্তমানে ছয়দিন বিস্কুট দেওয়া হয়। রান্না করা খাবারের মধ্যে খিচুড়িটি সবচেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ। আর যারা এটি বাস্তবায়ন করবেন- আমাদের প্রধান শিক্ষক, কর্মকর্তা যারা মাঠ পর্যায়ে আছেন তাদের সক্ষমতার জন্য প্রত্যেকটা প্রকল্পে দেশে এবং বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড-ডে মিল চালু করতে হবে। কীভাবে ম্যানেজ করব, সেই ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্য, যে সমস্ত উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশে এই ব্যবস্থা চালু আছে সেই ব্যবস্থা দেখার জন্য এবং দেশে-বিদেশে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কম্পোনেন্ট রেখেছি সক্ষমতা অর্জনের জন্য।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...