আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ বন্ধে বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি

আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ বন্ধে বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ আগস্ট ২০২০, ১৯:০৫

দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি নির্মূল এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ বন্ধ ও বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসময় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে সিদ্ধান্তগ্রহণ, নীতি-কৌশল প্রণয়ন, কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও সেগুলোর বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে এবছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের অংশগ্রহণ’।

বিষয়টি সামনে রেখে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের সম্পৃক্ত করে ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে টিআইবি। যার মূল ভিত্তি হচ্ছে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা-সমাধান সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে ২০টিতেই সরাসরি তরুণদের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা ৪, ৫ ও ৮ এ স্পষ্টতই তরুণদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়াও হয়েছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তরুণ জনগোষ্ঠী শিক্ষা, পেশা ও মানসিক স্বাস্থ্যগত ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে নির্বাহী পরিচালক বলেন, পুরো বিশ্বের মতো কোভিড-১৯ বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক ও গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপর এর প্রভাব পড়লেও বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিটা বেশি। অতিমারি পরিস্থিতিতে তরুণদের চাকরীর ক্ষেত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি সাতটি দাবিও উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো-

১. এসডিজি অর্জনে সিদ্ধান্তগ্রহণ, নীতি-কৌশল প্রণয়ন, কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি বন্ধ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দূর্বলতা হ্রাস এবং উন্নত ও টেকসই নীতি-কৌশল নির্ধারণে সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অসঙ্গতি নিয়ে তরুণ সমাজ যাতে সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার আইনি অধিকারের চর্চা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একই ধরনের অন্য আইনের বিতর্কিত ধারাও বাতিল করতে হবে।

৩. সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে।

৪. জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ এর পূর্ণ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ কৌশল ও কর্ম-পরিকল্পনা নির্ধারণ করে সেগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং আধুনিক, সময়োপযোগী, বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

৫. কোভিড-১৯ অতিমারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় তরুণদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৬. কোভিড-১৯ বাস্তবতায় নতুন স্বাভাবিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

৭. তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের পাশাপাশি পরামর্শ ও উৎসাহ, আইনি সহায়তা ও বাজারে অভিগম্যতা নিশ্চিত এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, ব্যাংক ঋণ পাওয়ার শর্ত ও সুদহার সহজ করতে হবে।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads







Loading...