জামিন পেলেন সিনহার সঙ্গী সিফাত

মানবকণ্ঠ
চলচ্চিত্রকর্মী সাহেদুল ইসলাম সিফাত - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১০ আগস্ট ২০২০, ১২:৫২,  আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০, ১৫:২৭

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গী চলচ্চিত্রকর্মী সাহেদুল ইসলাম সিফাত সবগুলো মামলাতে জামিন পেয়েছেন। তিনি সিনহার ভিডিওচিত্র নির্মাণ টিমের সদস্য ছিলেন।

পুলিশের গুলিতে সিনহা নিহতের পর গ্রেফতার হন সিফাত। এরপর এ ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি মামলার দু’টিতে আসামি করা হয় তাকে। সিফাতের বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা মামলা দুটি দায়ের করা হয় টেকনাফ থানায়।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালত-৩ সিফাতকে তার বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায়ই জামিন দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাহেদুল ইসলাম সিফাতের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা। এসময় বিচারক সিফাতকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরেরও আদেশ দেন। 

এর আগে রোববার মেজর সিনহার আরেক সঙ্গী মাদক মামলায় গ্রেফতার শিপ্রা দেবনাথকে জামিন দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রামুর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালত।

গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। একে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি করেন তারা।

সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন মেজর সিনহা রাশেদ। ভ্রমণ বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেল বানানোর কাজও চলছিলো তার। এরই অংশ হিসেবে সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও তৈরির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার সঙ্গে কক্সবাজারে ডকুমেন্টারি তৈরির সময় যে তিনজন সঙ্গে ছিলেন সেই শিক্ষার্থী হলেন- শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং তাহসিন রিফাত নূর। তারা বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী।

এদের মধ্যে তাহসিন রিফাত নূরকে তাদের অভিভাবকের কাছে আগেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি দুজন-শিপ্রা দেবনাথ এবং সাহেদুল ইসলাম সিফাত কক্সবাজার কারাগারে ছিলেন।

সিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলা হচ্ছে, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার জন্য তাক করা। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের সাথে যোগসাজশে সিফাত এ কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলা মাদকদ্রব্য আইনে। সে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং গাঁজা যানবাহনে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধ।

অন্যদিকে শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, আত্মরক্ষার জন্য মেজর রাশেদ খানকে গুলি করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্টে তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এরপর সেটি খুঁজতে পুলিশ রিসোর্টে যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে সে রিসোর্টে গিয়ে একটি কক্ষে শিপ্রা দেবনাথ এবং আরেকটি কক্ষে তাহসিন রিফাত নূরকে পাওয়া যায়।

এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করে, শিপ্রা দেবনাথের কক্ষ তল্লাশি করে সেখানে বিদেশি মদ, দেশি চোলাই মদ এবং গাঁজা পাওয়া যায়।

শিপ্রা দেবনাথের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায়। তার বাবা-মা সেখানেই বসবাস করেন। ঢাকার রামপুরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন শিপ্রা দেবনাথ। শিপ্রা দেবনাথের একমাত্র ভাই প্রান্ত দেবনাথ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, বছরখানেক আগে কোনো এক বন্ধুর মাধ্যমে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সাথে পরিচয় হয় শিপ্রা দেবনাথের।

সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মা লন্ডনে বসবাস করেন। বাংলাদেশে তার নিকটাত্মীয় বলতে খালা এবং মামা।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদের মা’কে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...