খিলক্ষেত এলাকা ছেড়ে বাসা বদলের চেষ্টায় ভুয়া ডাক্তার


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ আগস্ট ২০২০, ১০:০৩

বাসা পরিবর্তনের চেষ্টায় আছেন ভুয়া ডাক্তার রেজাউল হক। গতকাল রবিবার খিলক্ষেত বাজার গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। দীর্ঘদিন যাবত নিজেকে স্বনামধন্য ডাক্তার হিসেবে খিলক্ষেত বাজার এলাকার মানুষজনদের পরিচয় দিয়ে আসছেন এই রেজাউল। কিন্তু কিছুদিন যাবত তার বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ নিয়ে রোগীদের ঠকিয়ে যাচ্ছেন এমন সংবাদ দৈনিক মানবকণ্ঠে ধারাবাহিক প্রকাশের পর লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।

চোখ লজ্জার ভয়ে রেজাউল হক জনসম্মুখে বের হন না। পরিবার ও পরিজন ও তার খোঁজ পাচ্ছেন না। স্থানীয় একজন ফার্মেসির মালিক জানান, তার ভুয়া সনদের ঘোমর ফাঁস হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, যিনি গত ১৫ দিন আগেই ছিলেন এলাকার হিরো ডাক্তার। এখন সে বিড়াল হওয়ার পর বাসা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। যে কোনো মুহূর্তে সে খিলক্ষেত এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবেন।

এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার পর খিলক্ষেত বাজার এলাকা মুখ দেখাতে পারছে না ভুয়া ডাক্তার রেজাউল হকের স্বজনরা। গত কয়েকদিন যাবত খিলক্ষেত বাজার ও লেক সিটি এরিয়াতে দেখা যাচ্ছে না তাকে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুয়া ডাক্তার রেজাউলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক খবর প্রকাশ হচ্ছে দৈনিক মানবকণ্ঠে।

তার ভুয়া অপকর্মের বিরুদ্ধে যখন একের পর এক সত্য বেরিয়ে আসছে তখন সেই এসব এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পাশাপাশি রেজাউল হকের ভুয়া কর্মকাণ্ডের কারণে মুখ দেখাতে পারছে না স্বজনরা। গত দু’সপ্তাহ থেকে ভুয়া ডাক্তার রেজাউল হক আসলেই ডাক্তার না। এমন তথ্য চাউর হলে লজ্জায় মুখ ঢেকে চলাফেরা করেন তারা। এমন তথ্য জানিয়েছেন রেজাউল হকের এক নিকটত্মাতীয়।

এদিকে একজন রোগীর অভিভাবক জানান, রেজাউল হকের কোনো ডাক্তারি সার্টিফিকেট নেই। তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। তার প্রতারণার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাকে এখানেই থামাতে হবে। না হলে ডাক্তার সমাজের বদনাম হবে।

রেজাউলের এক নিকটাত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গণধোলাই আতঙ্কে দিন কাটছে রেজাউলের। তার বিরুদ্ধে সত্য কথা বেরিয়ে আসতে শুরু করায় তিনি ভয়ে আছেন।

কোনো আসল সনদপত্র না থাকার পরও রেজাউল বছরের পর বছর ধরে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তারি পেশা। সরকারিভাবে তার নেই কোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল অথবা ফার্মেসিতে নিয়মিত ভুয়া চিকিৎসা করে কামাচ্ছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। তার এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেত, পাতিরাসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

এদিকে সম্প্রতি একাধিক প্রতিষ্ঠানের তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিলেও কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। মূলত তিনি একজন ভুয়া ডাক্তার! এমনটি জানিয়েছেন একাধিক সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা।

তারা জানান, বাংলাদেশে বৈধভাবে সরকারি বা বেসরকারি প্র্যাকটিস করতে হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমঅ্যান্ডডিসি) থেকে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন নিতে হবে। যদি রেজিস্ট্রেশন না দেখাতে পারে তাহলে তিনি অবশ্যই বৈধ নন। এর আগে তিনি যেসব হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেছেন, সেসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আসল সনদ দেখাতে বললে তিনি না দেখিয়ে কৌশলে চাকরি ছেড়ে দেন।

অপরদিকে জানা গেছে, ভুয়া ডাক্তার রেজাউল হক বর্তমানে রাজধানীর খিলক্ষেত ক-১৯৬/১/বি, তেঁতুলতলার মেরিন হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার ও সেবা ফার্মেসি- খিলক্ষেত বাজারে নিয়মিত চেম্বার করেন। তার বাবার নাম মৃত ওয়ালিউল হক, মায়ের নাম ফরিদা হক, তিনি বর্তমানে থাকেন ৫ এসবি/২, বৈশাখী বিল্ডিং লেক সিটি কনকর্ড, খিলক্ষেত, ঢাকা।

অন্যদিকে ভুয়া সনদের কারণে আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার চাকরি চলে যায় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, রেজাউলের কোনো ডাক্তারি সনদ নেই। তিনি কোনো ডাক্তার নন। তবে এখনো আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এদিকে যেকোনো সময় ভুয়া ডাক্তার রেজাউল হক ধরা পড়তে পারেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। এমনটি জানিয়েছেন খিলক্ষেত বাজারের বেশ কয়েকজন রোগীর অভিভাবকরা।

তারা বলেন, রেজাউলের ভুল চিকিৎসার কারণে অনেকে মরতে বসেছে। তাই এ বিষয়ে তারা আইনশৃক্সক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগও করেছেন।





ads







Loading...