আঘাতের চিহ্নও ছিল সিনহার দেহে


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • ১০ আগস্ট ২০২০, ০৯:৫০,  আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০, ১০:০২

কক্সবাজারের টেকনাফে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার গায়ে গুলি লেগেছিল চারটি। এই চারটি গুলির কথাই পুলিশের হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুব কাছ থেকে গুলি করার কারণেই মারা গেছেন সিনহা মো. রাশেদ। নিহত সিনহার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রোববার র‌্যাবের কাছে জমা দিয়েছে পুলিশ। কক্সবাজার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে র‌্যাবের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহার গলা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও শাহীন আবদুর রহমান ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পাঠান পুলিশ সুপারের কাছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সুপার সেটি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের কাছে পাঠান।

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে একটাই প্রশ্ন- কেন গুলি করা হলো তাকে। ঘটনার পর থেকে সুরতহাল রিপোর্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আসলে কয়টা গুলি করা হয় সিনহাকে। ঘটনার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বলা হয়, ইন্সপেক্টর লিয়াকত চারটি গুলি করেন। আর সুরতহাল রিপোর্ট বলছে, শরীরে ৬টি গুলির দাগের কথা।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বলছে, মোট চারটি গুলি করা হয় সাবেক মেজর সিনহা রাশেদকে। রিপোর্টে উল্লেখ করা চিকিৎসকদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম গুলিটা সিনহার বাম হাতের বাহুতে লেগে ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে যায়। পরের গুলিটি বাম কাঁধের নিচ দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই গুলির জন্য সামনে ও পেছনের অংশে দুটি ক্ষত তৈরি হয়।

ময়নাতদন্তকারীরা দেখতে পেয়েছেন, শেষের পরপর দুটি গুলি, বুকের বাম পাশে এক জায়গা দিয়ে ঢুকে পিঠে পাশাপাশি দুটি ক্ষত তৈরি করে বেরিয়ে যায়। এই দুটি গুলি পাঁজরের হাড় ভেঙে ঢুকে, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস ভেদ করে বেরিয়ে যায়। খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়েছে বলেও ধারণা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের। এই দুটি গুলির জন্য মোট তিনটি ক্ষতের সৃষ্টি হয় সিনহা রাশেদের শরীরে।

সিনহার গলায়ও কিছু দাগ সংবলিত হালকা ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে। তবে সেটা গুলির চিহ্ন নয় বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ চার গুলির ছয়টি ক্ষতের কথা উল্লেখ আছে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে।

ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রায় অভিন্ন: পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের ময়নাতদন্তেও চারটির বেশি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে নিহত মেজর সিনহার সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ ছয়টি গুলির চিহ্ন খুঁজে পায়। কিন্তু টেকনাফ থানায় মেজর সিনহার হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ যে মামলা দায়ের করেছে তাতে উল্লেখ রয়েছে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত সেই রাতে চারটি গুলি করেছিলেন।

তবে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সেই রাতে পরিদর্শক লিয়াকতের গুলির পর ওসি প্রদীপ এসে আরো দুটি গুলি করেছিলেন মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর সিনহার গায়ে। এতে মনে করা হচ্ছে যে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং সুরতহাল রিপোর্ট প্রায় অভিন্ন।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা। তার (মেজর সিনহা) নিহতের ঘটনা নিয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উপ-পরিদর্শক নন্দ দুলাল রক্ষিত বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটিতে বলা হয়েছে, সেই রাতে পরিদর্শক লিয়াকত চারটি গুলিবর্ষণ করেছিলেন।

পরের দিন মেজর সিনহার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। উপ-পরিদর্শক সাইফুল তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, মেজর সিনহার মরদেহে ছয়টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গত শনিবার বলেন, ‘আমি মেজর সিনহার মরদেহ তন্ন তন্ন করে দেখেছি। মরদেহে আমি মোট ছয়টি ফুটো দেখতে পেয়েছি। যা সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।’

টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলা এবং পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বর্ষিত গুলি ও মরদেহের গুলির ফুটোর চিহ্ন নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর থেকে সবাই ময়নাতদন্তের অপেক্ষা করছিল। গত শনিবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে কাক্সিক্ষত ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের হাতে পৌঁছেছে।

ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। তবে একথা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেজর সিনহার মরদেহে চারটির অধিক গুলির চিহ্ন মিলেছে। এতে মনে হচ্ছে প্রায় অভিন্ন রয়েছে রিপোর্ট।

অপরদিকে সেই রাতের একজন প্রত্যক্ষদর্শী টমটম চালক গত শনিবার বিকালে জানিয়েছেন, ‘পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত গুলি করার পর মোবাইলে বলেন- স্যার, তিনটি দিয়েছি।’

টমটম চালক আরো জানান, এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর সিনহার বুকে-পিঠে লাথি দিয়ে ‘কুত্তার বাচ্চা’ বলে আরো দুটি গুলি ছোড়েন।

টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর নয়াপাড়ার বাসিন্দা ইজিবাইক (টমটম) চালক সরওয়ার কামাল (৩০) মুঠোফোনে বলেন, তিনি গত ৩১ জুলাই সন্ধ্যার পর শামলাপুর লামার বাজারে গিয়ে পরের দিন ঈদের জন্য একটি পাঞ্জাবি কেনেন। এরপর মেরিন ড্রাইভে ঘটনাস্থলের পাশের ব্রিজে বসে সিগারেট টানছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পান পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও তদন্ত কেন্দ্রের ক্যাশিয়ার (কনস্টেবল) মামুন কক্সবাজারমুখী একটি গাড়ি থামান।

সরওয়ার বলেন, গাড়ি থেকে এ সময় এক ব্যক্তি নামতেই পরিদর্শক লিয়াকত পর পর তিনটি গুলি করে দেন। এরপর ওই ব্যক্তির অপর সঙ্গী নামতেই তারও পা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন এক রাউন্ড। তবে সেই গুলি তার পায়ে লেগেছে কি না তিনি জানেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার আরো বলেন, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ওসি প্রদীপ এসে মেজর সিনহার শরীরে লাথি মেরে তিনিও দুই রাউন্ড গুলি করেন।

প্রদীপ-লিয়াকতের তিন দিনেও রিমান্ড হয়নি : সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে বাকি চার আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালতের নির্দেশনা মতে, চার আসামির জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলেও মূল অভিযুক্ত তিনজনকে গত তিন দিনেও রিমান্ডে নেয়া যায়নি। তাদের কেন রিমান্ডে নেয়া যায়নি, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি তদন্তের দায়িত্বভার পাওয়া সংস্থার কেউ।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মামলার এক নম্বর আসামি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, দুই নম্বর আসামি টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তিন নম্বর আসামি পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত। তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পাশাপাশি পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন বিচারক।

এরই মধ্যে গত শনিবার আদালতের আদেশের কপি কারাগারে এসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন জেল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, নথিপত্র আসার পর র‌্যাব সদস্যরা চার আসামিকে জেলগেটে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। গতকাল দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু অপর তিন আসামিকে এখনো রিমান্ডের জন্য ডাকা হয়নি। তারা কারাগারেই রয়েছেন।

রিমান্ডের আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বিলম্বের কারণ জানতে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর ইনচার্জ আজিম আহমেদকে কল দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে র‌্যাব-১৫-এর সেকেন্ড ইন কমান্ডার (টুআইসি) মেজর মেহেদী হাসানকে কল দেয়া হলে তিনি লাইন কেটে দেন। তাই আসামিদের রিমান্ড সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা সুবিধামতো সময়ে আসামিদের রিমান্ডে নেবেন। স্পর্শকাতর মামলা বিধায় সবকিছু গুছিয়ে তার পরই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে হয়তো। আবার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকিছু অডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। উঠে এসেছে নানা তথ্য। সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করা হবে। এ জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিতে বিলম্ব হচ্ছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। একই ভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে গত বুধবার কক্সবাজারের আদালতে হত্যা মামলা করেন তার বোন শারমিন। ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে (২১) মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে। এছাড়া আটজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইয়ুব আলী নামে একজন সার্জেন্টকে সাক্ষী করা হয়েছে।

সিফাতের জামিন আদেশ আজ: মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত কারাগারে আছেন। পরিবার তার জামিনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিনহা হত্যাকাণ্ডের সময় একই সঙ্গে সিফাত থাকায় তার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তার পরিবার।

ভ্রমণ-বিষয়ক তথ্যচিত্র বানাতে কক্সবাজারে ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত, শিপ্রা দেবনাথ এবং তাহসিন রিফাত। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিহত হওয়ার সময় সিনহার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিলেন সিফাত। সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর (সিনহা ও সিফাত) যোগসাজশে সরকারি কাজে বাধা, হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করা ও মৃত্যু ঘটানো। সিনহা-সিফাতরা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন সেখান থেকে শিপ্রা ও তাহসিনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গতকাল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শিপ্রা।

শিপ্রার জামিনের পর আজ সিফাতেরও জামিন হবে বলে আশা করছেন সিফাতের মামা মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আশা করছি জামিনটা হয়ে যাবে। আদালত পুরো বিষয় অনুধাবন করতে পারবেন, এটাই আমার চাওয়া।’

তবে সিফাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘জামিন পেলে পরবর্তীতে কী হবে সেটা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি আরো জানান, সিফাত ভালোই আছে, তবে তার পায়ে কিছুটা ব্যথা আছে।

সিনহা হত্যায় সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার কোবরার: সিনহা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল অভিনেতা ইলিয়াস কোবরার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি খবর বেশ আলোচনায় আসে।

তাতে জানা যায়, সিনহাকে যেখানে হত্যা করা হয় সেই বাহারছড়া সংলগ্ন মারিসঘোণা এলাকাতেই বসবাস করেন চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপ পরিচালনাকারী ইলিয়াস কোবরা। হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেলে তিনি নাকি মুঠোফোনে কল করে সিনহাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার কাছে নিয়ে যান। পরে সেই রাতেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা।

এ বিষয় জানতে ইলিয়াস কোবরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এসএমএস পাঠানো তো দূরের কথা, আমি লেখাপড়াই জানি না। এসব খবর ভিত্তিহীন। সিনহা হত্যার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার মানহানি করতেই এমন খবর রটানো হচ্ছে।’

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 





ads







Loading...