সিনহা হত্যা : মাদক মামলায় শিপ্রার জামিন

মানবকণ্ঠ
শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৭,  আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৪:০৯

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা চলচ্চিত্রকর্মী শিপ্রা দেবনাথ মাদক মামলায় জামিন পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশ এ মামলা দায়ের করেছিল। তবে অপর চলচ্চিত্রকর্মী ও শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিন হয়নি।

আজ রোববার দুপুর একটার দিকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদলত রামুর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তার জামিন হয়।

সিফাতের জামিন শুনানি আগামীকাল করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে তদন্তকারীরা বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব এই দুই শিক্ষার্থীর জামিনের ব্যাপারে আইনজীবীর মাধ্যমে সহায়তা দেবে।

গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। একে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন তারা।

সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন মেজর সিনহা রাশেদ। ভ্রমণ বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেল বানানোর কাজও চলছিলো তার। এরই অংশ হিসেবে সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও তৈরির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার সঙ্গে কক্সবাজারে ডকুমেন্টারি তৈরির সময় যে তিনজন সঙ্গে ছিলেন সেই শিক্ষার্থী হলেন- শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং তাহসিন রিফাত নূর। তারা বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী। 

এদের মধ্যে তাহসিন রিফাত নূরকে তাদের অভিভাবকের কাছে আগেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি দুজন-শিপ্রা দেবনাথ এবং সাহেদুল ইসলাম সিফাত এখন কক্সবাজার কারাগারে ছিলেন। সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে পুলিশ।

সিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলা হচ্ছে, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার জন্য তাক করা। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের সাথে যোগসাজশে সিফাত এ কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলা মাদকদ্রব্য আইনে। সে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং গাঁজা যানবাহনে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধ।

অন্যদিকে শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, আত্মরক্ষার জন্য মেজর রাশেদ খানকে গুলি করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্টে তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এরপর সেটি খুঁজতে পুলিশ রিসোর্টে যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে সে রিসোর্টে গিয়ে একটি কক্ষে শিপ্রা দেবনাথ এবং আরেকটি কক্ষে তাহসিন রিফাত নূরকে পাওয়া যায়।

এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, শিপ্রা দেবনাথের কক্ষ তল্লাশি করে সেখানে বিদেশি মদ, দেশি চোলাই মদ এবং গাঁজা পাওয়া যায়।

শিপ্রা দেবনাথের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায়। তার বাবা-মা সেখানেই বসবাস করেন। ঢাকার রামপুরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন শিপ্রা দেবনাথ। শিপ্রা দেবনাথের একমাত্র ভাই প্রান্ত দেবনাথ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, বছরখানেক আগে কোনো এক বন্ধুর মাধ্যমে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সাথে পরিচয় হয় শিপ্রা দেবনাথের।

সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মা লন্ডনে বসবাস করেন। বাংলাদেশে তার নিকটাত্মীয় বলতে খালা এবং মামা। 

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদের মা’কে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 





ads







Loading...