বন্যায় সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জুলাই ২০২০, ১৭:৩৭

দেশের ১৭টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি চলছে। এতে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৭ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা ২৩ জেলায় বিস্তৃতি লাভ করবে এবং তা আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব তথ্য জানান।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২৭ জুন থেকে যে বন্যা শুরু হয়েছিল সেটা আগাম বন্যা ছিল, সেটা ৬/৭ তারিখ থেকে উন্নতি লাভ করেছে। কিন্তু ১১ জুলাই থেকে আবার পানি বেড়েছে। পানি ১৭ জুলাই পর্যন্ত সর্বোচ্চ বাড়বে। সেই বৃদ্ধিটা আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ স্থায়ী হবে। ২৩টি জেলায় বন্যা বিস্তৃতি লাভ করবে।

মেঘালয়, চেরাপুঞ্জী, আসাম, ত্রিপুরা, চীন ও নেপালের পানি এসে দেশে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১৭টি। মোট বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৬৪টি, পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৯৪ হাজার ২৭৪টি, বন্যায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৭ জন।’

তিনি বলেন, বন্যার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে যাতে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে যেতে পারে সেজন্য বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে আট হাজার ২১০ টন চাল, দুই কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, গো-খাদ্য কেনার জন্য ৪৮ লাখ টাকা এবং শিশু খাদ্য কেনার জন্য ৪৮ লাখ টাকা আমরা দিয়েছি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙনে ঘর ভেঙেছে, এজন্য ঘর মেরামতে ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন, নয় লাখ টাকা নগদ দিয়েছি।

এনামুর রহমান বলেন, আমি মনে করি, আমাদের মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা যদি ত্রাণ প্রস্তুত ও বিতরণের কাজে অংশগ্রহণ করেন তাহলে অতীতে যেমন বড় বড় বন্যা মোকাবিলা করেছি, একইভাবে এবারও মোকাবিলা করতে পারব, মানুষের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারব।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে ১২টি জেলা বেশি বন্যা কবলিত এবং আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্রে লোক উঠেছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি, শুধু রান্না করা খাবার তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য।

ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখানে ২০ হাজার ১০ জন আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানান এনামুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads






Loading...