হাওয়া হয়ে গেল সাহেদ!


poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ১৪ জুলাই ২০২০, ০৯:৩০

করোনা ভাইরাসের টেস্টে নজীরবিহীন জালিয়াতি ঘটনার হোতা রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও হাসপাতাল মালিক বহুরূপী মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে কবজায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজনীতিবিদ, টক শো আলোচক ও সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে নামে চলা এই জালিয়াতের নামে অন্তত ৫৬টি মামলা রয়েছে। সবশেষ রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাওয়া সাহেদ এখন কোথায় রয়েছেন- এমন আলোচনা-গুঞ্জন সর্বত্র।

কেউ কেউ মনে করছেন, এই মহাপ্রতারক গোয়েন্দা নজরদারিতেই রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, র‌্যাব ও পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাহেদকে গ্রেফতারের টানা অভিযান চলছে। তার পাসপোর্ট জব্দ ও সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাই এই আসামির বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের বিরুদ্ধে রোববার সন্ধ্যায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার জন্য তদন্তকারীদের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্যদিকে মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাহেদের রিকশা ও ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স বাণিজ্য: তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সাহেদ করিমের প্রতারণার থাবা থেকে রেহাই পাননি দরিদ্র রিকশা ও ভ্যানচালকরাও। ভুয়া লাইসেন্সের ব্যবসা খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ভুয়া লাইসেন্সের জন্য প্রতিটি থেকে এককালীন দুই হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেন সাহেদ।

এ ছাড়া রিকশা প্রতি মাসে লাইসেন্সের জন্য তাকে দিতে হতো আরো ৫০০ টাকা করে। প্রতিটি ভ্যানগাড়ি থেকে দিনে নিতেন দুশ টাকার করে। প্রায় এক হাজার রিকশাচালক ও তিনশর কাছ থেকে এভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক সাহেদ। সাহেদের অফিস থেকে এমন অসংখ্য ভুয়া লাইসেন্স জব্দের তদন্ত করতে গিয়ে র‌্যাব এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব।

অন্যদিকে সাহেদের নামে এখন পর্যন্ত ৫৬টি মামলার সন্ধান মিলেছে। অনুসন্ধান চালালে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হত্যা, অপহরণ, ব্যাংকঋণ জালিয়াতি, হুমকি, প্রতারণা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। একজন মানুষের নামে এত মামলা থাকার পরও তিনি কিভাবে দিব্যি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন সেই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। কাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এসব মামলার হাত থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন সেই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সাহেদ বড় অন্যায় করেছেন, তার অপকর্মের ব্যাপারে ইতোমধ্যে র‌্যাব-পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে, তিনি যেখানেই থাকুক, তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নতুবা পুলিশ তাকে ধরে ফেলবে। সাহেদ যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারে।

তিনি বলেন, সাহেদ যত বড় ক্ষমতাবানই হোন না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তার বিদেশ যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে সাহেদের ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সাহেদকে গ্রেফতারে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাকে নজরদারিতে আনা সম্ভব হবে।

সাহেদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা: অর্থ আত্মসাতের দুই মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম মামলা আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদীর আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম মাসুদ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাসুদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। মামলার আসামি সাহেদ বাদীর দোকান থেকে বিভিন্ন সময় রড ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল নিতেন। মালামালের টাকা একসময় দাঁড়ায় তিন কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মালামাল নিয়ে টাকা না দেয়ায় পৃথক দুটি মামলা করি তার নামে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

চট্টগ্রামে রুট পারমিটের কথা বলে ৯১ লাখ টাকা নেন সাহেদ: করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে পালিয়ে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের মালিক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার চাচাত ভাই মো. সাইফুদ্দিন (৫৫) বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে নগরীর ডবলমুরিং থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ছাড়াও মো. শহীদুল্লাহ (৬০) নামে ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার একজন বাসিন্দাকে আসামি করা হয়েছে। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, করোনার জাল টেস্ট দেয়ার অভিযোগে গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার কোভিড ডেডিকেটেড রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুরের শাখা দুটি সিলগালা করে র‌্যাব। আর করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও সাহেদ পলাতক রয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ





ads






Loading...