করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় অগ্রাধিকার আতিকুলের

ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম
ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম - সংগৃহীত

poisha bazar

  • হাসান মাহমুদ রিপন
  • ১৩ জুলাই ২০২০, ০৯:৩২

নগরবাসীর ভালোবাসা আর আবেগের এক নাম আনিসুল হক। তিনি ছিলেন জনতার নগরপিতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং আনিসুল হক যেন একে অপরের পরিপূরক। ডিএনসিসির নগরপিতা নির্বাচিত হওয়ার পর তার কর্মদক্ষতা ও পরিকল্পনা সমগ্র নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিল।

আজও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দৃষ্টান্ত টানা হয় আনিসুল হকের। কিন্তু হঠাৎই ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যুতে আশাহত হয় পুরো নগরবাসী। শঙ্কায় পড়ে যায় তার জায়গায় তে হবেন নগরপিতা। তিনি পারবেন আনিসুল হকের অভাব পূরণ করতে। এমন ভাবনার মাঝেই নতুন নগরপিতা হয়ে এলেন আতিকুল ইসলাম। আনিসুলের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তাকে মেনে নিলেন ঢাকা উত্তরের বাসিন্দারা। প্রথম দফায় তিনি স্বল্প সময় নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলেও তার উন্নয়ন কর্মদক্ষতায় আশা জাগে জনমনে। যার ফলে নগরবাসী ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত করে মো. আতিকুল ইসলামকে।

দ্বিতীয় দফায় ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে মো. আতিকুল ইসলামের দায়িত্ব নেয়ার দুই মাস বা ৬০ দিন পূর্ণ হলো আজ। তবে মূল কাজ বা পরিকল্পনার জায়গায় অন্য সবকিছুকে সরিয়ে দিয়ে হুট করে যে ‘করোনা মোকাবিলা’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে সেটা মেয়রের বিভিন্ন সময়ের কথাতেই পরিষ্কার।

পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও চিরুনি অভিযানও অব্যাহত। সমান তালে চলছে বর্জ্য অপসারণ। ইতোমধ্যে দুস্থ, হিজড়াসহ বিভিন্ন নিম্ন পেশার মানুষকে এ সহায়তা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ‘ভিশন ২০৪১’ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে (এসডিজি) সামনে রেখে করছেন ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা। সিটি করপোরেশন সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে বলেন, উন্নত দেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরকে প্রস্তুত করা এবং এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা-১১ অনুযায়ী সবার জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ বাসযোগ্য নগরী প্রতিষ্ঠায় ডিএনসিসি বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ডিএনসিসির উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত রাখছেন আতিকুল। দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

মশা নিধন কর্মসূচি দেখভাল শুরু করতে না করতেই দেশে হানা দেয় করোনা ভাইরাস। এরপর সিটি করপোরেশনের হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের কাজের উদ্বোধনের পর করোনা মোকাবিলায় দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আসছেন মেয়র।

মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেট করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য হস্তান্তর, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনে প্রতিমাসে ১০ দিন করে চিরুনি অভিযান, প্রতিটি ওয়ার্ডকে ৭ ভাগে ভাগ করে ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন করার কাজ সম্পন্ন করা, ডিএনসিসির আওতাধীন সরকারি সব হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা, করোনাকালে বিভিন্ন বস্তিতে রান্না করা খাবার বিতরণ, উন্মুক্ত স্থানে সাময়িকভাবে কাঁচা বাজার স্থানান্তর করা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধন কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করাসহ আরো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক দৃশ্যমান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন ডিএনসিসি মেয়র।

নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও একের পর এক এগিয়ে যাচ্ছে ডিএনসিসি। আর এই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে করপোরেশনের নবসম্পৃক্ত ওয়ার্ডগুলোতেও। এসব এলাকার নানা অবকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ প্রকল্প। এরই মধ্যে সরকারি খাসজমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তির খোঁজে মাঠে নেমেছে সংশ্লিষ্টরা। নেয়া হয়েছে মাস্টার প্ল্যানসহ স্বল্পমেয়াদি ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করার উদ্যোগ।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা চিকিৎসার জন্য আমাদের একটি মার্কেট স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ছাড়া ডিএনসিসি এলাকায় প্রতিদিন ১০টি ওয়াটার বাইজারের মাধ্যমে ব্যাপক হারে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছি। করোনা টেস্টের জন্য সাতটি স্থানে বুথ স্থাপন করেছি। নাগরিকদের মধ্যে খাদ্যসহায়তাসহ হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ করেছি। নগরীর বর্জ্য অপসারণেও ইতোমধ্যেই গতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনে চলছে চিরুনি অভিযান। যা প্রতিমাসে ১০ দিন করে চলবে। ডিএনসিসির এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। ঢাকাবাসী যেন উন্নয়ন ও চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত না হন সেজন্য করোনা মোকাবিলাসহ আরো কিছু কর্মপরিকল্পনাও রয়েছে।’ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব পরিকল্পনা দৃশ্যমান হবে বলে জানান তিনি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী এলাকাগুলোর ভূমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। উত্তর সিটিকে ঢেলে সাজানোর এই উদ্যোগে নবসম্পৃক্ত এলাকার উন্নয়নে নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রকল্প। এসব এলাকাকে গড়ে তোলা হবে আধুনিক নগরী হিসেবে। প্রকল্পে উত্তর সিটির নবসম্পৃক্ত এসব এলাকায় ছোট বড় সকল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণ, মশক নিধন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু, সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা, খেলার মাঠ ও পার্ক স্থাপন, বর্জ্য শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, একটি মসজিদ, একটি ঈদগাহ মাঠ, একটি পার্ক ও খেলার মাঠ, একটি মার্কেটসহ জনকাক্সিক্ষত উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ডিএনসিসির উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে। এরই মধ্যে ডিএনসিসির উন্নয়ন ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের চারটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে জরিপ শেষ করে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ডিএনসিসির নবসম্পৃক্ত এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক পরিকল্পনা করা হয়েছে। যা একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসি এলাকার আগের আয়তন ছিল ৮২ দশমিক ৬৩৮ বর্গকিলোমিটার। এর সঙ্গে আটটি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় বর্তমান আয়তন ১৯৬ দশমিক ২২৮ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এসব এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা করছে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ। আর এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাধ্যমে বর্জ্য শোধন ও সংগ্রহ বা ব্যবস্থাপনা করা, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্যাক্স কালেকশনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ‘ভিশন ২০৪১’ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে (এসডিজি) সামনে রেখে ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, কবরস্থান/শ্মশানঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক, অগ্নি-নিরাপত্তাসহ নাগরিক সেবার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ





ads






Loading...