সফল মন্ত্রী ও সংগ্রামী নেতা ছিলেন সাহারা খাতুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সফল মন্ত্রী ও সংগ্রামী নেতা ছিলেন সাহারা খাতুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ছবি : প্রতিবেদক

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ জুলাই ২০২০, ১১:৫৭

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও একজন সংগ্রামী নেতা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় বনানী কবরস্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে পুলিশ বাহিনীর জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে যাওয়ার পরও বাহিনীর যেকোনো সমস্যায় তিনি আসতেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ছিলেন একজন সংগ্রামী নেতা। তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে বিভিন্ন ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তাকে হারিয়ে শোকাহত।

এর আগে সাহারা খাতুন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তাকে উন্নত চিকিসার জন্য গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টা ১০মিনিটে বনানী কবরস্থানের সামনে কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাহারা খাতুনের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সাহারা খাতুনের মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, শুক্রবার রাত ১টা ৫৬ মিনিটে তার মরদেহবাহী ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-২১৪ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গত ২ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে গত ২২ জুন দুপুরে তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়।

২৬ জুন সকালে তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়। ফের নেয়া হয় আইসিইউতে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেযোগে থাইল্যান্ডে নেয়া হয় সাহারা খাতুনকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানান জটিলতায় ভুগছিলেন ৭৭ বছর বয়সী এই নারী রাজনৈতিক। অ্যালার্জিজনিত সমস্যা নিয়ে ২ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা তাকে। তারপর থেকেই অবস্থার অবনতি ঘটে তার। কয়েকদফা আইসিইউ'তে চিকিৎসা দেয়ার এক পর্যায়ে গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ ও মাতার নাম টুরজান নেসা। সাহারা খাতুন তিন মেয়াদ ধরে ঢাকা-১৮ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

২০০৮ সালে মহাজোট ক্ষমতায় এলে প্রথমে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। পরে সেখান থেকে সরিয়ে পাঠানো হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে।

সাহারা খাতুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads






Loading...