প্রতারক সাহেদকে নিয়ে যা বললেন সাবেক জেনারেল

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৯ জুলাই ২০২০, ১০:৩৮

চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, আলোচিত রানা প্লাজা ধসের সময় তিনি ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। উদ্ধারকাজে তার ভ‚মিকা সেসময় প্রশংসিত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদ থেকে অবসরে যান। সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের বিভিন্ন দুর্নীতির ঘটনায় এর মালিক মোহাম্মদ শাহেদকে নিয়ে গত ৭ জুলাই রাতে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

মানবকণ্ঠের পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার সময় বিমানবন্দরে দেখা। ভদ্রলোক বললেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি সংক্রান্ত প্রধান। আবুল কালামের স্থলাভিষিক্ত। ঢাকা ফিরে জানলাম বিষয়টি পুরোই মিথ্যা। কিন্তু কিছু পুলিশ-আনসার তাকে সালাম দিয়ে বিদায় দিল। বিগত ডিসেম্বরের ঘটনা বলছি। শাহেদ-সাহেদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও তার আসল নাম কিন্তু মো. শাহেদ করিম, বাবা: সিরাজুল করিম, মাতা : মৃত সুফিয়া করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। তার মা মৃত্যুবরণ করেন ৬ নভেম্বর ২০১০ সালে। প্রতারক শাহেদের একাধিক নাম রয়েছে- সে কখনো কখনো মেজর ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, কর্নেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, কখনো মেজর শাহেদ করিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, কিন্তু তার আসল নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে শাহেদ করিম লেখা। কিন্তু বর্তমানে সে মো. শাহেদ নামে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে যার নাম্বার হলো : ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫ আর এ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয় ২৫-৮-২০০৮ সালে। কিন্তু তাতে তার মা মারা গেছে লেখা রয়েছে, অথচ তার মা মৃত্যুবরণ করেন ৬ নভেম্বর ২০১০ সালে। তাতেই প্রমাণ হয় এটাও ভুয়া। ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১ রয়েছে। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।

এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও প্রতারণা বাটপারি করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। বিএনপি সরকারের আমলে রাজাকার মীর কাসেম আলী ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তাদের মাধ্যমে তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনের অন্যতম কর্তাব্যক্তি হয়ে ওঠে সে।

শাহেদের বেশকিছু প্রতারণার প্রমাণ তৎকালীন প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা বর্তমানে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জু ঝসযঁংংধরহ গড়হলঁ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাহসী ছাত্রলীগ নেতা এসএম হলের শামীম তথা শামীম আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা চড়ষধংয ঈযড়ফিযঁৎু’র কাছে রয়েছে।

১/১১ ফখরুদ্দীন সরকারের সময় আর খাম্বা মামুনের সাথে সে ২ বছর জেলও খাটে। জেল থেকে বের হয়ে শাহেদ ২০১১ সালে ধানমণ্ডির ১৫নং রোডে এমএলএম কোম্পানি বিডিএস ক্লিক ওয়ান নামে বাটপারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। আর সেসময় তার নাম ছিল মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী।

তার বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে সে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক বিমানবন্দর শাখা থেকে ৩ কোটি টাকা লোন নেয় আর সেখানে সে নিজেকে কর্নেল (অব.) পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন, সে ব্যাপারে আদালতে ২টি মামলা চলমান আছে। এ সম্পর্কে একুশে টিভি ২০১৫/১৬ সালে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

এই প্রতারক মো. শাহেদ ওরফে মেজর/কর্নেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, ওরফে শাহেদ করিম, ওরফে মো. সাহেদ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্তাব্যক্তিদের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে থাকে। প্রকাশ্যে অনেক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেই মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। তার গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও সাইরেনযুক্ত হর্ন ব্যবহার করে। সে নিজেকে কখনো মেজর, কর্নেল, সচিব, এমনকি সে নাকি ’৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর এডিসি ছিল- এমন পরিচয়ও দিয়ে থাকে। আবার কিছুদিন যাবৎ সে বিভিন্ন টিভিতে টকশোতে খুব নীতিবাক্য বলে। বর্তমানে সে উত্তরাস্থ ১১ নং সেক্টরের ১৭ নং রোডে, বাড়ি নং-৩৮ একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছে যার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, যা র‌্যাবের অভিযানেই প্রমাণিত হয়েছে আর হাসপাতাল চালানোর মতো কোনো ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি নেই তবুও দালালের মাধ্যমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ক্রয় করে এনে তাদের আটকে রেখে হাজার হাজার টাকা আদায় করে। এ ছাড়া প্রতারণার টাকায় সে উত্তরা পশ্চিম থানার পাশে গড়ে তুলেছে রিজেন্ট কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি- যদিও এর একটিরও কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আর অনুমোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর আগেও সে উত্তরাস্থ ৪, ৭ ও ১৩ নম্বর সেক্টরে ভুয়া শিপিংয়ের ব্যবসা করেছে।

সেই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছে। বর্তমানে তার ভিজিটিং কার্ডে সে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দেয়। কিছুদিন আগে সে একটি অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছে। অথচ অস্ত্রের লাইসেন্স করতে বাৎসরিক ন্যূন্যতম ৩ লাখ টাকা ইনকাম ট্যাক্স দেয়া লাগে। আমার জানামতে সে কোনোদিনও ইনকাম ট্যাক্স দেয় না। শাহেদের প্রতারণা সম্পর্কে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ১১-১২-২০১৪ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং অপরাধ জগৎ পত্রিকাও নিউজ করে। শাহেদের বেশ কয়েকটি গাড়ি রয়েছে, সে গাড়িগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তার গাড়িতে ভিভিআইপি ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড, অবৈধ ওয়ারল্যাস সেট আর অস্ত্রসহ ৩ জন বডিগার্ড থাকার কারণে সাধারণত পুলিশ তার গাড়ি থামানোর সাহস পায় না।

তার অফিসে লাঠিসোটা রাখা হয় এমনকি তার অফিসের ভেতরে একটি টর্চার সেলও রয়েছে। কোনো পাওনাদার টাকা চাইতে এলে পাওনাদারদের সেখানে টর্চার করা হয়। তার অফিসে সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয় বেশি আর অনেক সুন্দরীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায়। এর মধ্যে ধানমণ্ডি, মিরপুর, উত্তরায় বেশি। সেগুলোর কয়েকটি মামলার নং- বাড্ডা- ৩৭(৭)০৯, আদাবর-১৪(৭)০৯, লালবাগ-৪৭(৫)০৯, উত্তরা ২০(৭)০৯, উত্তরা ১৬(৭)০৯, উত্তরা ৫৬(৫)০৯, উত্তরা ১৫(৭)০৯, ৩০(৭)০৯, ২৫(৯)০৯, ৪৯(০৯)০৯, ১০(৮)০৯ সবগুলো মামলা ৪২০ ধারায়।

তার প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় অ্যাকাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, রিজেন্ট হাসপাতাল লি. ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় অ্যাকাউন্ট নং-০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬, ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা রয়েছে। বর্তমানে সে রিজেন্ট গ্রুপ ও কর্মসংস্থান সোসাইটি কেকেএসের নামে প্রতিষ্ঠান বাড়ি ১৬ রোড ১৭ সেক্টর ১১ উত্তরা ঢাকায় বসে সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এত গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি বিভাগ সবাইকে ফাঁকি দিল লোকটা! তার মানে সবাইকে সে ম্যানেজ করে ফেলেছে। মন্ত্রী, সচিবের পাশে বসে থাকে! একটা বিরাট পরিবর্তন দরকার। সব পচে গেছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...