অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মতো ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’

মানবকণ্ঠ
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ জুলাই ২০২০, ১০:২৪

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতো ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ নামে আরেকটি বই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানান তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর এ-সংক্রান্ত একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এই কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়া চীন’সহ বঙ্গবন্ধুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত বইগুলোর তথ্য তুলে ধরেন। এই বইয়ের তথ্যগুলো কিভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছিলেন তা জানান। বঙ্গবন্ধুর লেখা বা তার সংশ্লিষ্ট দেশে-বিদেশের ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে তা প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও এ সময় তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা নিয়ে নতুন বই প্রকাশের প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ একটা লেখা আছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতোই উনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু লেখা। সেই লেখাগুলো আমি প্রস্তুত করেছি। তা প্রায় তৈরি হয়ে আছে। ওটা আমরা ছাপতে দেব। আমার ধারণা, এটা ছিল একটি রাফ কাজ। প্রথমে তিনি ওটা করেন। তারপর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রস্তুত করেন ছাপানোর জন্য। ওটার (বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা) বিষয়ে আরো কিছু কাজ আছে।

বঙ্গবন্ধু কখনো জেলজীবনের কথা বলতেন না: জাতির জনক তার জীবদ্দশায় সন্তানদের বা পরিবারের সদস্যদের কাছে কখনো জেলজীবনের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতেন না বলে শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি কিন্তু কখনো তার কারাজীবনের কোনো কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা কিছুই তিনি বলেননি। যেটুকু আমরা জানি এই বই পড়ে। তার লেখা পড়ে আমরা এটা জেনেছি। এর বাইরে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কোনোদিন তিনি মুখ ফুটে বলতেন না যে উনার কষ্ট ছিল। কখনো বলেননি। আমি রেহানাকে জিজ্ঞাসা করেছি। ওতো ছোট ছিল, ও মাঝেমধ্যে আব্বাকে এ সমস্ত জিজ্ঞাসা করত, যা আমরা সাহস পেতাম না। আমি কয়েকদিন আগেও জিজ্ঞাসা করেছি ‘তুই কি কিছুই শুনিস নাই?’ জবাবে বলল ‘আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেছিলেন তোর শোনা লাগবে না। শুনলে সহ্য করতে পারবি না।’ উনার কথা ছিল, ‘শোনার দরকার নেই। আমি বলব না। তোরা সহ্য করতে পারবি না।’ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এত কষ্ট একজন মানুষ একটা দেশের জন্য, জাতির জন্য করতে পারেন তা ধারণার বাইরে। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন সংগঠন করার জন্য। আওয়ামী লীগ করার জন্য। দেশের মানুষের জন্য সবকিছুই ছেড়েছেন। বঙ্গবন্ধু ইচ্ছা করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু উনার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।’

পাকিস্তান কারাগারে থাকার ঘটনার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে: সংসদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কারাগারের রোজনামচা মূলত ১৯৬৬-৬৮ সাল পর্যন্ত। ’৭১ সাল থেকে আমরা উনার কোনো লেখা পাইনি। কারণ একাত্তর সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে)। সেখানে কিভাবে ছিলেন, কী অবস্থায় ছিলেন, আসলে তার কিছু আমরা জানি না। সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে আইয়ুব খানের ডায়েরিতে, অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত এটা। সেখানে উনার সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো, উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি ‘জয় বাংলাদেশ’ বলতেন। উনি বলতেন ‘আমাকে যা খুশি তাই করো। আমার যেটা করার তা করে ফেলেছি। অর্থাৎ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই’। এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো আমার চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা। আর আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়েছিলাম। জেলখানা ভেঙে নতুনভাবে করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা দেয়ালের ছবি পেয়েছি। আর কিছু পাইনি। তবে আমার চেষ্টা আমি করে যাচ্ছি।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লাসিফাইড রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি রয়েছে। সাউথ এশিয়ার কিছু বিষয় আছে। অনেকগুলো কাগজ। বিশাল। এগুলো আমার অফিসে ছিল। করোনার কারণে একটা সুবিধা হয়েছে। ঘরে থাকার কারণে সেগুলো সব ধীরে ধীরে দেখছি। সেখানে ওই সময়কার কিছু পাওয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করছি। যদি কিছু সংগ্রহ করা যায়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...