কারাগারে পরিকল্পনায় ওয়ালটন শোরুমে ডাকাতি

- ছবি: প্রতিবেদক

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৫ জুলাই ২০২০, ২১:০২

ডাকাতির ও চুরি করার অপরাধে মাঝেমধ্যে কারাগারে যান রবিউল ইসলাম, সুমন, ও রানা। সেখানে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। কারাগারেই পরিকল্পনা করেন বড় ডাকাতির। সন্ধিান্ত অনুযায়ী আরো কয়েকজন সহযোগি নিয়ে গত ২৩ জুন মধ্যরাতে পান্থপথের ওয়ালটন প্লাজা শোরুমে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। ফ্রিজ, টিভিসহ প্রায় ছয় লাখ মূল্যের বিভিন্ন পণ্য ছিনিয়ে নেয়া হয়। এঘটনায় পর তদনে্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তার ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে পুলিশ। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক অভিযানে শেরেবাংলা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন রবিউল ইসলাম, সুমন, রানা ও সাথী। তাদের স্বীকারোক্তিতে ওই ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়।

রোববার দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশীদ।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা আন্ত:বিভাগীয় ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের কাছ থেকে ডাকারি করা ১৮টি ওয়ালটন ফ্রিজ ও তিনটি এলইডি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে পান্থপথের ওয়ালটন প্লাজা শোরুমে ডাকাতির মামলায় দুই আসামির এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আর এক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চেৌধুরী এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন- সুমন ও রানা। অপর আসামি সাথীকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার এসআই সুমন শীল তিন আসামিদের আদালতে হাজির করেন। আর আসামি রবিউল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আগেই আদালতে স্বীকারোক্তি দেন।

গত ২৩ জুন মধ্যরাতে পান্থপথের ওয়ালটন প্লাজা শোরুমে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওয়ালটন শোরুম টিম ম্যানেজার রানা মিয়া পরেরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই শোর'ম থেকে ২৪টি ওয়ালটন ফ্রিজ, পাঁচটি এলইডি টেলিভিশন, একটি মোবাইলফোন এবং ড্রাইভারের সাড়ে চার হাজার টাকা ও হেলপারের ৮০০ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা।

ডাকাতির বিবরণ দিয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হরুন অর রশিদ বলেন, কিশোরগঞ্জে ডিলারের কাছে (রহমত ইলেকট্রনিকস) পাঠানোর উদ্দেশে ওয়ালটন কোম্পানির নিজস্ব পরিবহনে (ঢাকা-মেট্রো-ড-১১-৭০-৩৫) শোরুমের কর্মচারী জিহাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মো. তারেক হোসেন মারফত মালামাল উঠানো হয় এবং পণ্যের চালান কপি চালক আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মিরাজের (১৯) কাছে হস্তান্তর করে শোরুম কর্মচারীরা চলে যান। তারা স্থান ত্যাগ করার পরপরই একটি খালি পিকআপযোগে সাত-আটজন দুষ্কৃতকারী এসে তাদের হাতে থাকা চাপাতির ভয় দেখিয়ে ওয়ালটনের ড্রাইভার-হেলপারকে গাড়িতে ওঠায় এবং বিভিন্ন জায়গায় মালামাল নামিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, মামলার তদন্তে প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই রবিউল ইসলামকে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকা থেকে সাতটি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়। অন্যান্য মালামাল ও আসামিদের কথা জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানায়, ডাকাতিতে তার চার সহযোগী মো. শাহজাহান , মেহেদী হাসান মৃধা ওরফে হাসান, মো. রনি (২৫) ও আব্দুর রহিম (২৮) ময়মনসিংহ জেলা ডিবি হাতে আটক হয়েছে। অপর আসামি সুমন রানাসহ অন্যরা পলাতক।

ডিসি হারুন আরো জানান, পরে ময়মনসিংহ থেকে হাসান ও রনির হেফাজতে থাকা দুটি ফ্রিজ ও দুটি টেলিভিশন উদ্ধার করে। পরে রবিউল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রবিউলের দেয়া তথ্যমতে শনিবার ডাকাতিতে অংশগ্রহণকারী সুমন ও রানাকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জাউচর আরশিনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার ও একটি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে, সাভার-আশুলিয়ায় মেহেদী হাসান মৃধার দুই আত্মীয়র বাড়ি থেকে দুটি ফ্রিজ জব্দ করা হয়। পরে তাদের তথ্য মোতাবেক সাথী নামে একজনকে গ্রেফতার ও তার দোকান থেকে ছয়টি ফ্রিজ উদ্ধার করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads






Loading...