উপেক্ষার সুর মন্ত্রণালয়ের

উপেক্ষার সুর মন্ত্রণালয়ের
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৩ জুলাই ২০২০, ১৮:০৯

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত দুটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৬ হাজার ৯৩৬ প্রার্থী গত এক বছর ধরে প্যানেল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের দাবি করে আসছেন। তাদের অনেকের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আর কোনো প্যানেল করা হবে না। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

২০১৪ সালে স্থগিতের পর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন এবং ২০১৮ সালে নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেব। ২৬ হাজারের বেশি শূন্য পদ রয়েছে। আমি মহাপরিচালককে বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করতে বলেছি। কোনো প্যানেল হবে না। প্যানেল করার সুযোগ নেই।’ আগে উত্তীর্ণদের প্যানেল করা হতো, এখন কেন হবে না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘২০১৪ সালের আগের যাদের প্যানেল করা হয়েছিল, তাদের মামলা শেষ হওয়ার পর সবাইকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন নতুন করে নিয়োগ দেয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ২০১০ ও ২০১১ সালের পুল ও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে উচ্চ আদালতে ৪৯০টি রিট আবেদন করেন। প্যানেলভুক্ত ছিলেন ৪২ হাজার ৬১১ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী। আবেদনে পুল ও প্যানেলভুক্ত নিয়োগের অপেক্ষায় থাকাদের নিয়োগ নিশ্চিত না করে কেন নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়।

রিট আবেদনের পর ২০১৪ সালের নিয়োগ স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। রিট আবেদন শেষ হতে চার বছর সময় লাগে। চার বছর পর ২০১৮ সালে রিট নিষ্পত্তি হলে আবেদন করা প্রার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ। শেষ পর্যন্ত মোট উত্তীর্ণ হন ২৯ হাজার ৫৫৫ প্রার্থী। নিয়োগ দেয়া হয় ৯ হাজার ৭৬৭ জনকে। উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন প্যানেলভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।

একই বছর (২০১৮ সাল) আবার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নিয়মিত ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন করেন ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ জন। পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। নিয়োগ দেয়া হয় ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন পুল বা প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

রিট নিষ্পত্তির পর ২০১৪ সালের স্থগিত হওয়া ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন এবং ২০১৮ সালের বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির প্রত্যাশায় থাকলেও সরকার প্যানেল করেনি।

২০১৪ সালে স্থগিত হওয়া এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের পক্ষে প্যানেলভুক্তির দাবিতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সালেহা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘মামলার কারণে চার বছর অপেক্ষার পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাদ পড়া প্রার্থীদের প্যানেল করা হয়নি। ২০১০-২০১১ সালে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে সরাসরি এবং প্যানেলভুক্ত করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চার বছর অপেক্ষার পর আমরা প্যানেলভুক্ত হতে পারছি না। আমরা ২০১৮ সালের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি বয়স না থাকার কারণে।

প্যানেলের অপেক্ষায় থাকা আমরা ৯০ শতাংশ প্রার্থী অংশ নিতে পারিনি। স্থগিত পরীক্ষাটি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হলে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়। ২০ হাজার শূন্য পদ থাকলেও নিয়োগ দেয়া হয় মাত্র ৯ হাজার ৭৬৭ জন। আমরা আশা করেছিলাম প্যানেল করে দ্রুত নিয়োগ দেয়া হবে। এখন প্যানেল হচ্ছে না। বয়স চলে গেছে প্রায় সবারই। মেধা তালিকায় থাকা এসব প্রার্থীর কী হবে?’

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads






Loading...