রাস্তা নির্মাণে পাতলা ঢালাই খাল পুকুরপাড় ছেঁটে বিল

মানবকণ্ঠ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২২ জুন ২০২০, ১১:৩৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে খাল কাটা ও পুকুর খনন-সংস্কারের নামে শুধু পাড়গুলো ছেঁটে বিল তোলা হয়েছে। এসব কাজের নামের খালি পাড়গুলো ছেঁটেছুটে যেন বিল তোলা না হয়, মন্ত্রণালয়কে সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া রাস্তাঘাট নির্মাণের সময় যেন ‘পাতলা ঢালাই’ না দেয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন তিনি।

গতকাল রবিবার গণভবনে একনেক বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। সেই সভাশেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে সংবাদ আছে, খাল কাটার নামে পুকুর কাটা-সংস্কারের নামে খালি পাড়গুলো ছেঁটেছুটে বিল তোলা হয়েছে। তিনি মন্ত্রণালয়কে বলেছেন, এটা ভালো করে দেখা দরকার।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ আসছে, ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হয়। তারা পুকুরের চারপাশ পরিষ্কার করে, কিন্তু নিচে যায় না। যদি বলে মাটি কাটছে, মাটি গেল কোথায়? পুকুর, খাল থেকে যে মাটি ওঠানো হবে, সে মাটি কোথায় গেল খোঁজ নিয়ে দেখুন। ভালো করে পরখ করে দেখুন।’ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের দ্বিতীয়বার সংশোধন বিষয় একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, এত সময় লাগল কেন? এটা ঠিক হয়নি। আরো আগে শেষ হওয়া দরকার ছিল। তিনি বলছেন, আর বাড়াব না। শেষ করো এখন।’ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়েছেন, আমরা পৃথিবীতে তৃতীয় অবস্থানে আছি মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে। তিনি বলেছেন, মাছ যে উৎপাদন হচ্ছে এগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলো যেন মানুষ ন্যায্যমূল্যে পায়, সেটার ব্যবস্থা করতে হবে।’ এ সময় দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান০ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জীবন চলতে থাকবে, জীবন স্থবির থাকতে পারে না। এর পরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি করোনার কারণে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তার পরও অন্ততপক্ষে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে ধারাবাহিকতাটা বজায় রেখে উন্নয়নের মূল গতিটা ধরে রাখতে। যে কারণে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়নে একটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যতটুকু সম্ভব উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে। করোনার কারণে এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যসহ অনেককে হারিয়েছি। দেশবাসীর কাছে এটুকু বলব যে, আসুন সবাই মিলে দোয়া করি আল্লাহ যেন এই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি দেন। জেলখানায় ভার্চুয়াল সিস্টেম স্থাপন: দেশের সব জেলখানায় ভার্চুয়াল সিস্টেম স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘কয়েদিরা যেন মানবিক সুযোগ-সুবিধা পায়, সেজন্য সব কারাগারই সংস্কার করতে হবে।’ এ বিষয়ে আলাপ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জামালপুরে ভার্চুয়াল কোর্ট গড়তে হবে। যাতে মামলা-মোকাদ্দমা ডিজিটালি সম্ভব হয়। জামালপুর তো আজকে হলো। অন্যান্য জেলার কারাগারগুলোরও সার্বিকভাবে ভার্চুয়াল সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে।

এমএ মান্নান আরো বলেন, “জামালপুর জেলা কারাগারের প্রকল্প যখন নিয়ে যাই, তখন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অত্যন্ত আবেগী হয়ে বলেন, এসব লোক কষ্ট করে, এরা যেন ভালোভাবে থাকতে পারে। এখানে ব্রিটিশ, পাকিস্তানি মনোভাব যেন থাকে না। তারা যেন মিনিমাম মানবিক আচরণ পায় এবং সুযোগ-সুবিধা পায়। তারাও যেন ফ্যানের বাতাস পায়, পানিওয়ালা টয়লেট পায়, রেডিও-টিভি দেখার সুযোগ থাকে। জেলে কিন্তু কিছু কিছু হাতের কাজ করা হয়। সেগুলো বিক্রি করা হয়। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, এখান থেকে যা আয় হবে, তার অর্ধেক তারা পাবে। বাড়ি যাওয়ার সময় নিয়ে যাবে। এটা অত্যন্ত ভালো কাজ। প্রধানমন্ত্রী বললেন, সব জেলেই এটা করতে হবে। সংস্কার শুধু জামালপুর জেল নয়, অন্যান্য জেলও সংস্কার করতে হবে। একটা আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, জেলের বাসিন্দারা যেন মানসম্মত অবস্থায় থাকতে পারে।”

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads