নাসিম ও শেখ আবদুল্লাহর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জুন ২০২০, ১৩:৫৯,  আপডেট: ১৪ জুন ২০২০, ১৪:০৯

আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত দুই নেতার মৃত্যু দেশ ও আওয়ামী লীগের জন্য বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় দুই নেতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

রোববার (১৪ই জুন) দুপুরে, সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, যে দুজন মানুষ সবসময় পাশে ছিলেন, তাদের দুজনকেই একই দিনে হারালাম। সংসদে বারবার শোক প্রস্তাব নিতে হচ্ছে। এটা কষ্টকর। মনসুর আলী সাহেব বাবার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের পরিবারের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক মনসুর আলী সাহেবকে ডেকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি তাতে বলেন, তোমার হাতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, তুমি ভাবলা কীভাবে আমি তোমার মন্ত্রী হব'। তারপর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হল। ১৫ আগস্ট আমাদের বাসায় হামলা হওয়ার পর মনসুর আলী সাহেব বহু চেষ্টা করেছেন। তারপর ঘটনাপ্রবাহে জেলখানায় তাকে হত্যা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮১তে আমি ফেরার পর শহীদ পরিবারের সবাইকে আমি কাছে ডেকে এনেছি। সেই সময়ে বারবার নাসিম ভাই আমার পাশে থেকেছে, সমর্থন করেছে। সেই দুজনকে হারালাম। নাসিম ভাই বারবার হামলার শিকার হয়েছেন, মার খেয়েছেন। ১/১১ এ গ্রেফতার হলেন তিনি। জেলখানায় স্ট্রোক করলেন। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার কারণে সে সময় তিনি বেঁচে যান। কিন্তু তার একটা পাশ তখনই প্যারালাইজড হয়। রাজপথে তিনি বারবার অত্যাচার সহ্য করেছেন। তবুও থেমে থাকননি। ঐক্যের বিষয়ে কাজ করা, বারবার সভা করার কাজ করেছেন তিনি। তার চলে যাওয়া দলের জন্যে বড় ক্ষতি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা সেখানে। আমার অবর্তমানে সেখানে সংগঠন ধরে রাখা, নেতাকর্মীদের প্রতি নজর রাখার কাজ করেছেন তিনি। আমি যখন সরকারে ছিলাম, বিরোধী দলে ছিলাম তিনিই এলাকার দেখভাল করেছেন তিনি। তার মৃত্যু হল হঠাৎ করে।

তিনি সবাইকে বোঝাতে পারতেন। ওলামা, মাসায়েখদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করেছেন তিনি। কওমিদের সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়ে সবচেয়ে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যে অবস্থাটা দেখছি এমনটা কখনও দেখিনি। আমার সহযোদ্ধা, আমার ক্যাবিনেট মন্ত্রী মারা যাচ্ছেন। অথচ আমি তাদের দেখতে পারছি না। আমি গুলি বোমা গ্রেনেড হামলা দেখেছি। অথচ এখন এই করোনা পরিস্থিতিতে আমাকে বলা হচ্ছে, আপনি এখানে যেতে পারবেন না, ওখানে যেতে পারবেন না।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদের মূলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে চলতি সংসদের সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, অধিবেশনের শুরুতে সম্পুরক কার্যসূচী শোক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন স্পিকার। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। এসময় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র জীবন বৃত্তান্তসহ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এরপর মোহাম্মদ নাসিমের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। পরদিন ১১ জুন সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর দুই দিনের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...