লকডাউনে কঠোর বিধিনিষেধ


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ জুন ২০২০, ০৯:৫৫,  আপডেট: ০৯ জুন ২০২০, ১১:০০

এলাকাভেদে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন করে লকডাউন ঘোষণা-সংক্রান্ত প্রস্তাবে মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পর্যায়ক্রমে জোনিং এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তবে ওই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মেলেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্র। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের আগে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি কথা বলতে চাননি।

এদিকে জোনভিত্তিক লকডাউন কার্যকর অবশ্য শুরু হচ্ছে আজ রাত থেকে। রাত ১২টা থেকে রেড জোনে থাকা রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাজাবাজার এলাকা লকডাউনের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর রাজাবাজার ছাড়াও ওয়ারী এলাকা লকডাউনের কথা থাকলেও নির্দেশনা না পাওয়ায় আপাতত লকডাউন হচ্ছে না পুরান ঢাকার এ এলাকাটি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. হান্নানুল ইসলাম গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সীদ্ধান্তই আমরা কার্যকর করছি। নতুন করে লকডাউন করা হবে-এমন কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। নির্দেশ পেলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান বলেন, ‘মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল দুপুরে আমাদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পূর্ব রাজাবাজার লকডাউন করা হবে। এখানে ১৬ হাজার ভোটার আছে। তবে মোট জনসংখ্যা ৫০ হাজারের মতো। এখানে কোনো অফিস নেই। পুরোটাই আবাসিক। আমরা পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যাদের ঘরে খাবার নেই তাদের খাবারও পৌঁছে দেওয়া হবে। আর যারা টাকা দেবেন তাদের বাজার করে পৌঁছে দেওয়া হবে। এমনকি চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। আর কেউ মারা গেলে দাফনের ব্যবস্থাও করা হবে।’

গত শনিবার করোনা সম্পর্কিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উল্লিখিত চার শহরে প্রাথমিকভাবে আংশিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ঢাকার ওয়ারী ও রাজাবাজার এলাকাকে প্রাথমিকভাবে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রেড জোন এলাকায়ও লকডাউনে যাওয়া হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা অনুযায়ী যেখানে এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩০ জন করোনা শনাক্ত রোগী থাকবে সেটিকেই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি এবং স্বাস্থ্যবিদদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর জোনভিত্তিক লকডাউনের প্রস্তাব চ‚ড়ান্ত করা হয়। এই লকডাউন বাস্তবায়নে কারা কারা কাজ করবেন, কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে তৈরি করা হয় চ‚ড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা। যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কিভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে তার রূপরেখা ঠিক করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে ওই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত শনিবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশের লকডাউন এলাকার তালিকা। ‘গ্রিন, ইয়েলো ও রেড জোন’-এই তিন ভাগে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হলেও এসব জোনের নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের ভ‚মিকা কী হবে, এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। করোনা প্রতিরোধ সহায়ক এই ওয়েবসাইটটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), সরকারের এটুআই প্রকল্প, মন্ত্রিপরিষদ ও আইসিটি বিভাগের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে।

জোনভিত্তিক মানচিত্র প্রকাশের পর থেকেই দেশব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই ম্যাপ দেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে যোগাযোগ শুরু করে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। আলোচনায় আসে, দেশের ৫০টির মতো জেলায় লকডাউন শুরু হয়েছে।

ফলে স্থানীয়ভাবে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েন। তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দেয়। কেউই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই ওয়েবসাইটে গত শনিবার দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হয়। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হয়েছে দেশের ৫টি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হয় ৭৫টি।

ঢাকা মহানগরীর ৩৮টি এলাকাকে আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) বলে দেখানো হচ্ছে ১১টি এলাকাকে। ঢাকায় কোনো এলাকাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) হিসেবে দেখানো হয়নি।

সারাদেশকে তিনটি জোনে (রেড, ইয়লো ও গ্রিন) ভাগ করে এই লকডাউন প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, গত শনিবার আমরা সরকারের উর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানেই পুরো বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের পালা। এছাড়া এটা নিয়ন্ত্রণের তো আর কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। এই প্রক্রিয়ায় সফল হওয়া যাবে বলেই আমাদের জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক আজাদ বলেন, করোনা সংক্রমণ বিবেচনা করে চিহ্নিত করা রেড, ইয়লো ও গ্রিন এলাকা কিভাবে পরিচালিত হবে, তার রূপরেখাও ইতিমধ্যে ঠিক করা হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এলাকাভেদে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন করে লকডাউন ঘোষণা সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়।

জোনিং করে লকডাউনের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনা হয়নি, মন্ত্রী (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) মহোদয়ের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে সংক্রামক ব্যাধি আইন আছে, এটা সেই আইনের মধ্যে দেয়া আছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর অথরাইজড।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন যে, আইনটি ব্যবহার করে যেভাবে জোনিং করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে এটা সারা পৃথিবীতে করা হচ্ছে। এটাতে সুবিধা আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য এক্সিকিউটিভ মিনিস্ট্রি, তারা বসেই যদি মনে করে কোনো জায়গাটাকে রেড জোন ডিক্লেয়ার করলে সবার জন্যই ভালো, কারণ সবাই তখন সতর্ক হতে পারবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোনো এলাকায় যদি অধিক সংক্রমণ থাকে সেই এলাকাকে যদি স্পেশালি নিয়ন্ত্রণে নেয়া যায়, সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন গতকালই।’

জোনিং ভিত্তিক লকডাউন প্রসঙ্গে সরকারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমান উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেন বলেন, ‘আমরা তো শুরু থেকেই এভাবে কাজ করতে বলছি। এটাই মহামারী নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। ঢাকার টোলারবাগে বা মাদারীপুরের শিবচরে এটা করে ভালো ফল মিলেছে।

এখন এটা না করতে পারলে কিন্তু একসময় পুরো দেশটাই রেড জোন ঘোষণা করা লাগতে পারে। কারণ হঠাৎ করেই সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে ঝুঁকি নেয়া উচিত হবে না। এটা শুধু হুকুম দিয়ে হবে না, মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রান্তিক মানুষ যারা তাদের ঘরে খাবার পৌঁছাতে হবে। তাদের সামাজিক সহযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা করতে হবে। দেখেন, কার্ফু দিলে কি কোনো লাভ হবে? সেনারা কি কাউকে গুলি করতে পারবে? এটা তো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না, এটা জনস্বাস্থ্যের সমস্যা।’

লকডাউন এলাকায় যা চলবে না, যা চলবে: করোনা সংক্রমণ বিবেচনা করে চিহ্নিত করা ঢাকার লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা কিভাবে পরিচালিত হবে, তার রূপরেখাও ঠিক করা হয়েছে। লকডাউন ঘোষিত এলাকায় চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবল রাতে মালবাহী যান চলতে পারবে। ওই এলাকার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য থাকবে হোম ডেলিভারি ও নির্ধারিত ভ্যানে করে কাঁচাবাজার কেনাবেচার সুযোগ। এখানকার অফিস-আদালত বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকবে।

খুব প্রয়োজনে চললেও তা হবে খুবই নিয়ন্ত্রিতভাবে। করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য থাকবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ বুথ। থাকবে চিকিৎসা পরামর্শের সুযোগ। কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্বে পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে লকডাউনসহ অন্যান্য বিষয় বাস্তবায়িত হবে।

এভাবে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা কিভাবে চলবে, তা বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে ওই রূপরেখায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম রূপরেখা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এলাকা চিহ্নিত করে দেয়া হলেই তা বাস্তবায়িত করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুরুর জন্য ইতিমধ্যে দু-একটি জায়গা ঠিক করা হয়েছে।

জীবনযাত্রা যেভাবে চলবে: রূপরেখায় বলা হয়েছে, মেয়রের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা কমিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত করা এলাকা থেকে অগ্রাধিকার ও পারিপার্শ্বিক সক্ষমতা বিবেচনা করে এলাকা বা স্থান বাছাই করে নির্ধারিত জোনে (মূলত লাল) লকডাউনসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে করা কমিটি লকডাউন বাস্তবায়ন করবে। তারা লকডাউন বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং নাগরিক সুবিধা অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সরকারের এটুআই প্রকল্পের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা চিহ্নিত করবে, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে। লাল চিহ্নিত এলাকার মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হবে। আর হলুদ এলাকায় অফিস, কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ-শিল্পে ৫০ শতাংশ কর্মী দিয়ে চালু রাখতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানাকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। তবে এই এলাকায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত: লাল ও হলুদ এলাকার করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ভ‚মিকা পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লাল ও হলুদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, লকডাউন এলাকার করোনা রোগীদের সরকারÍনির্ধারিত আইসোলেশন (বিচ্ছিন্ন রাখা) কেন্দ্রে রাখা হবে। রোগীরা যাতে টেলিফোনের মাধ্যমেও চিকিৎসা পরামর্শ পেতে পারেন, সে জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিটি লাল ও হলুদ এলাকার জন্য একটি চিকিৎসক ‘পুল’ প্রস্তুত করবে। এই পুলে থাকা চিকিৎসকরা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন। এই চিকিৎসক পুলে মনোবিজ্ঞানী রাখার চেষ্টা থাকবে।

লকডাউন এলাকার কোনো ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার বাইরে আসার প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অনুমতি নিয়ে বাইরে আসা যাবে। কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬২৬৩ বা চিকিৎসক ‘পুলে’ ফোন করলে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

আর লকডাউন এলাকায় কেউ মারা গেলে ‘আল মারকাজুল ইসলাম, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম বা এ ধরনের কাজে নিয়োজিত সংস্থার মাধ্যমে দাফন বা সৎকার করা হবে।

নানা বিধিনিষেধ: লাল এলাকায় মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। লাল ও হলুদ এলাকায় শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় মুদি দোকান খোলা থাকবে। লাল এলাকায় গণপরিবহন চলাচল করবে না, এমনকি এই এলাকায় স্টপেজও থাকবে না। তবে কেবল রাতে মালবাহী যান চলাচল করতে পারবে।

হলুদ এলাকায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলতে পারবে। একজন করে যাত্রী নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা চলতে পারবে। এই এলাকায় মালবাহী যানও চলবে। আর সবুজ এলাকায় যানবাহন চলতে পারবে। লাল এলাকার মসজিদে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় দূরত্ব বজায় রেখে যাওয়া যাবে।

লাল ও হলুদ এলাকার মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করার জন্য ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুসরণ করে সড়ক ও গলির মুখ বন্ধ করা হবে। এ ছাড়া মহল্লার ভেতরে আড্ডাও বন্ধ থাকবে। লাল ও হলুদ এলাকায় কাঁচাবাজারের জন্য নির্ধারিত ভ্যান সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। আর লকডাউন এলাকায় বস্তি থাকলে দুই সপ্তাহের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা রয়েছে গাইডলাইনে।

লাল বা হলুদ জোনে অবস্থিত অফিস-আদালত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলা বা বন্ধ রাখার পক্ষে সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা আসতে হবে বলে মনে করে সিটি করপোরেশন।

সচেতনতায় নানা ব্যবস্থা: কোভিড-১৯ প্রবণ এলাকায় কেউ গেলে বা কোভিড শনাক্ত হওয়া রোগীর কাছে গেলে মোবাইলে ‘পুশ অ্যালার্ম’, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালুর চেষ্টা চলছে। লাল বা হলুদ এলাকার আওতাভুক্ত এলাকা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, টেলিভিশন ও মসজিদের মাইক থেকেও সতর্কীকরণ বার্তা প্রচার করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের প্রধান ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, লাল, হলুদ ও সবুজ-এই তিন ধরনের এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজটি বিশেষজ্ঞরা করছেন। সেটি হওয়ার পরই সরকারে সিদ্ধান্তে তা কার্যকর হবে। তবে ঢাকার দু-একটি জায়গায় দু-এক দিনের মধ্যে তা চালুর চেষ্টা চলছে।

 





ads







Loading...