করোনা: আইসিডিডিআরবি-র বক্তব্য বিকৃত করেছে 'দ্য ইকোনোমিস্ট'


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ জুন ২০২০, ১০:৫০,  আপডেট: ০৭ জুন ২০২০, ১০:৫৫

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ আইসিডিডিআরবি'র বক্তব্য বিকৃত করেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. জন ক্লেমেনসের বক্তব্য অতি সরলীকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখের বেশি হতে পারে। কম সংখ্যক পরীক্ষার কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে দাবি করে গণমাধ্যমটি। আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর নির্বাহী পরিচালক জন ক্লেমেনসকে উদ্ধ্বৃত করে ঐ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে নিয়ে দ্য ইকোনোমিস্টের প্রতিবেদনে আইসিডিডিআরবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. জন ক্লেমেনসের মূল বক্তব্যকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিমাণ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আইসিডিডিআর,বি’র কোভিড ব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরেন। করোনা মহামারির শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মীদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে কর্মীদের ২৪ ঘণ্টার হটলাইনের মাধ্যমে স্টাফ ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যাদের এসব উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাদের নিজস্ব ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। আর যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি আইইডিসিআরের সহায়তায় আইসোলেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিং নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রাজাধানীর মহাখালীস্থ আইসিডিডিআর,বি ক্যাম্পাসের প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের চার থেকে পাঁচ শতাংশ সংক্রমিত হয়েছেন, যদিও আইসিডিডিআর,বি ক্যাম্পাস থেকে তাদের সংক্রমিত হওয়ার নজির পাওয়া যায়নি। গোটা ঢাকা শহরে করোনা ভাইরাসের যে সংক্রমণ, আইসিডিডিআর,বি কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তার প্রতিনিধিত্ব করে না। এই হারকে সরলীকরণের মাধ্যমে গোটা ঢাকা শহরের জন্য প্রযোজ্য বিবেচনা করাটাও যৌক্তিক নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

আরো বলা হয়, ঢাকা শহরের মোট জনগোষ্ঠী এখানকার কর্মীদের মতো ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে আক্রান্ত হয়েছে বলে যদি ধরে নেওয়া হয়, তাহলে ঢাকা শহরের কমপক্ষে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন বলে হিসাবে পাওয়া যাবে।

কোনো জরিপ ছাড়াই এ ধরনের দাবি করায় বিশেষজ্ঞরা গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইইডিসিআর উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কোন বেসিসে ক্যালকুলেশনটা করা হয় সেটা তারা প্রকাশ করেনি। প্রকাশ করা ছাড়া সাদামাটাভাবে এটা বললে তো সেটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আসে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, প্রকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নির্ণয়ে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে জরিপ করতে হবে। ঢাকায় সাধারণভাবে সংক্রমণের হারটা কত সেটা আসলে বের করাটা জরুরি। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে আরো বেশি গবেষণার ওপর জোর দেয়া উচিৎ ছিলো।




Loading...
ads






Loading...