জোনভিত্তিক লকডাউন কাল থেকে

জোনভিত্তিক লকডাউন কাল থেকে
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ জুন ২০২০, ২০:২৬

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রোববার (৭ জুন) থেকে রাজধানীর দুই এলাকায় লকডাউন শুরু করা হবে। এরমধ্যে দিয়ে দেশে জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু হচ্ছে।

শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার ওয়ারী ও ধানমন্ডির রাজাবাজার এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউনের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা জানান, শনিবার দেশের কোনও এলাকাকেই লকডাউন করা হচ্ছে না। রোববার (৭ জুন) থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির রাজাবাজার ও পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হতে পারে।

একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন নতুন পদ্ধতি হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহর এবং জেলা, যেগুলোতে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

সূত্র জানায়, ব্যাপকভাবে সংক্রমিত এলাকাগুলোকে ‘রেড জোন’-এর আওতায় এনে পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যে এলাকায় জনবসতির প্রতি লাখে ৩০ থেকে ৪০ জন করোনা রোগী রয়েছে সেই এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ারী ও রাজাবাজার এলাকাকে লকডাউন ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

হাবিবুর রহমান খান জানিয়েছেন, যেসব এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লকডাউন করা হবে, সেই সব এলাকার কেউ কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। বাইরে থেকেও কেউ ওইসব এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। তিনি জানান, কোন এলাকা লকডাউন হচ্ছে তা এলাকাবাসীকে যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আগামীকাল রোববার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কিছু স্থানে জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লকডাউন শুরু হবে। রেড জোনে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে, একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়োলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, ঢাকায় ২০ হাজার ৭০৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে মিরপুর এলাকায়। সেখানে ৯৬৯ করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে মহাখালীতে। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৫৭ জন। আক্রান্তের তালিকায় এর পরে আছে উত্তরা, মুগদা ও মোহাম্মদপুর। এ তিন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩৩, ৪২৮ ও ৩৯৪।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...