ডিএমপি কমিশনারকে ঘুষের প্রস্তাব, তদন্ত হবে চিঠি ফাঁসের ঘটনা

ডিএমপি কমিশনারকে ঘুষের প্রস্তাব, তদন্ত হবে চিঠি ফাঁসের ঘটনা
- প্রতিবেদক

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৬ জুন ২০২০, ১৯:৩৭

ঘুষ দেয়ার অফার দেয়া ও দুর্নীর্তির অভিযোগে একজন যুগ্ম কমিশনারকে বদলী করতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কাছে ডিএমপি কমিশনারের লেখা গোপন চিঠি কীভাবে মিডিয়ার হাতে গেলো এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভাগীয় অত্যন্ত গোপন বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রধান মোহা. শফিকুল ইসলামসহ উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা খতিয়ে দেখবে কীভাবে এই অফিসিয়াল সিক্রেট আউট হলো। এদিকে সেই চিঠি পুলিশ সদর দফতরের পৌছার পরপরই তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শীঘ্রই পুলিশ কর্মকর্তা ইমামকে ডিএমপি থেকে অন্য কোন ইউনিটে বদলী করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের সাবেক এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, অধস্তন সহকর্মীকে ‘দুর্নীতির’ কারণে বদলি করতে এভাবে আইজিপির কাছে চিঠি দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। আমি হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতাম। এভাবে কেন চিঠি দেয়া হলো, সেটি বোধগম্য নয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, গোপন চিঠি ফাঁস হওয়াও পুলিশ প্রধান নিজেও কিছুুটা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। বিভাগীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা গতকাল শনিবার দুপুরে জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো করেসপন্ডেন্স পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে পৌঁছেনি। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এ বিষয়টি পৌঁছানো ও রিসিভড হওয়ার পরে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ও যথানিয়মে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্তে ও ব্যবস্থা নিতে আইজিপি প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেবেন।

এদিকে চিঠি দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। গতকাল তিনি বলেন, বিষয়টি একবারে অভ্যন্তরীণ বিষয়।তবে অফিসিয়াল গোপনীয় এই প্রতিবেদন কীভাবে মিডিয়ার কাছে গেছে, সে ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি দেখবে কীভাবে এই অফিসিয়াল সিক্রেট আউট হয়েছে। তদন্তের বিষয়ে ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, আইজি মহোদয় হয়ত অতিরিক্ত আইজি বা ডিআইজির নেতৃত্ব একটি কমিটি করে দেবেন। তারা তদন্ত করে দেখবেন।

তবে ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেন। তিনি বলেছেন, আমি হয়ত আভ্যন্তরীন ষড়যন্তের শিকার। তিনি (ইমাম) একজন অ্যাডিশনাল ডিআইজি। সবারই কিছু কিছু ধারণা আছে। আমি বললেই যে সাসপেন্ড হয়ে যাবে তা নয়, আগে তদন্ত হোক।

উল্লেখ্য, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনারের দুর্নীতি বিষয়টি অবগত করে গত ৩০ মে ডিএমপি সদরদফতরের প্যাডে আইজিপিকে একটি চিঠি দেন ডিএমপি কমিশনার। চিঠির স্মারক নং- ডিএমপি (সঃদঃ)/প্রশাসন/এ-৫১-২০২০/১০০৮। আইজিপির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেন একজন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা। ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের কাছে পার্সেন্টেজ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ফলে ওই কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে কর্মরত রাখা সমীচীন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র বদলি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। আইজিপির পাশাপাশি চিঠিতে পুলিশ সদরদফতরের ডিআইজিরও (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১২ সালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হিসেবে যোগ দেন মো. ইমাম হোসেন। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির উপ-কমিশনার (অর্থ) ও উপ-কমিশনার (লজিস্টিকস) পদে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে এখন যুগ্ম কমিশনার হিসেবে লজিস্টিকস বিভাগে কর্মরত তিনি।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...