যাত্রী নেই, বিমান আছে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ জুন ২০২০, ১১:৩৫,  আপডেট: ০৩ জুন ২০২০, ১১:৫৭

দুই মাসের বেশি সময় পর অভ্যন্তরীণ আকাশপথ খুলেও আশানুরূপ যাত্রী মিলছে না বিমানে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানের বিপণন কৌশল খুবই খারাপ। সংস্থাটির কোনো জাবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। দুর্নীতির ছায়া থেকে মুক্ত হতে পারছে না সংস্থাটি। টিকিট থাকার পরও তারা বলে টিকিট নেই। তাছাড়া অন্য এয়ারলাইনসের তুলনায় বিমানের টিকিটের দামও বেশি।

মূলত এসব কারণে সংস্থাটি যাত্রী টানতে পারছে না। যাত্রী সংকটের এমন দশায় রীতিমতো বিস্মিত বিমানের কর্তারা। গত ১ জুন থেকে চালু হয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট। তৃতীয় দিনও যাত্রীর অভাবে সবকটি ফ্লাইট বাতিল করে বিমান। এদিকে অন্য দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ারের ফ্লাইট যথারীতি পরিচালিত হলেও গতকাল দুটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

কেন যাত্রী মিলছে না জানতে চাইলে বিমানের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান বলেন, হতে পারে ভাড়া একটা ফ্যাক্টর। এমনিতেই ভাড়া বেশি, তার ওপর আবারও ভাড়া বাড়াতে চেয়েছিল বিমান। একজন বোর্ড মেম্বার হিসেবে তাতে দ্বিমত করে ভাড়া না বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরেছি। অন্যদিকে বিমানের তুলনায় বেসরকারি এয়ারলাইনসের ভাড়া কম ধরা হয়েছে।

এদিকে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি কমাতে বিমান চলাচল শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে মাত্র ২৪টি ফ্লাইট অনুমোদন দেয় সিভিল এভিয়েশন। সাথে জুড়ে দেয়া হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ৩৫ দফা নিদের্শনা। বিমান সংস্থাগুলোর প্রত্যাশা ছিল, সাধারণ ছুটিতে আটকে পড়া মানুষ কর্মস্থলে যোগদান বা বাড়ি যেতে বেছে নেবেন আকাশপথ। কিন্তু এখনও পিছু ছাড়েনি ভ্রমণে ভীতি। 

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, আপাতত কয়েক দিন যাত্রী কম হতে পারে। কারণ যাত্রীদের একটু শঙ্কা আছে। তবে আমরা যেসব ব্যবস্থা নিয়েছি তা জনগণ জানতে পারলে যাত্রী বাড়বে।

এদিকে সব প্রস্তুতি থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় রাজশাহী, বরিশাল, যশোর ও কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দুই মাস আগে চিঠি দেয়া হলেও সাড়া না মেলার অভিযোগ শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালকের।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচালক এ কে এম জুনায়েদ বলেন, আমরা চাই আগের মতো সবগুলো স্টেশন চালু হোক। আমার ধারণা বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ সেবা যারা পরিচালনা করছেন তারা সবাই প্রস্তুত আছেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. এইচ এম তৌহিদ উল আহসান বলেন, কোভিড-১৯ বিস্তার রোধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার সে বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় চারটি বিমানবন্দরে সেবা চালু করা যাচ্ছে না।

শাহজালালসহ দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে চিকিৎসক থাকলেও বাকী চারটি বিমানবন্দরে নেই থার্মাল স্ক্যানার ও চিকিৎসক।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেনারেল ম্যানেজার তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী সংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার আমাদের কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, শুক্রবার থেকে আমাদের ফ্লাইট চলবে।

 




Loading...
ads






Loading...