সাংবিধানিক সংকটে পড়বে ইসি

সাংবিধানিক সংকটে পড়বে ইসি - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০১ জুন ২০২০, ০০:৫০

করোনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে থাকা জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নব্বই দিন সময়কাল পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হাতে থাকা নব্বই দিন সময়ও শেষ হওয়ার পথে। সে সময়ও যদি শেষ হয়ে যায় তবে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় কী করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) - এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। বিষয়টি নিয়ে ভাবনার কমতি নেই ইসি সংশ্লিষ্টদেরও। তারা বলছেন, দেশে যে হারে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে তাতে সিইসির হাতে থাকা সময়ে নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা আদৌ সম্ভবপর হবেনা। তাই, সংকট নিরসনে তারা রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ীই ভোটগুলো নিয়ে পরবতী করণীয় নিধারণ করবেন ইসি।

এবিষয়ে প্রধান নিবাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা সম্প্রতি কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক সভায় বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের শূন্য আসনে আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন (উপনির্বাচন) অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দ্বৈব দুর্বিপাক হলে এই সময়ের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সিইসি তার ক্ষমতাবলে ভোটের আয়োজন করতে পারেন। পরবর্তী ওই নব্বই দিনের মধ্যেও ভোট করা সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারে। এই সুযোগ রয়েছে। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। গত ২৯ মার্চ যশোর-৬ এবং বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ভোট গ্রহণের সপ্তাহখানেক আগে তা স্থগিত করা হয়।

বগুড়া-১ আসনটি শূন্য হয় ১৮ জানুয়ারি এবং যশোর-৬ শূন্য ২১ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী সংবিধানে প্রদত্ত নব্বই দিন সময় পার হয়ে গেছে। দ্বৈব দুর্বিপাকজনিত নব্বই দিন বর্তমানে সিইসির হাতে আছে। অর্থাৎ আসন শূন্য হওয়ার মোট ১৮০ দিন সময়ও পার হয়ে যাবে জুলাই মাসে। এক্ষেত্রে বগুড়া-১ আসনে ১৫ জুলাই এবং যশোর-৬ আসনে ১৮ জুলাই ভোটের সময় শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে রাষ্ট্রপতির কাছেই যেতে হবে ইসিকে। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুর কারণে গত ২ এপ্রিল শূন্য হয় পাবনা-৪ আসন। এ আসনে উপনির্বাচন করতে হবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে। করোনার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বেশকিছু স্থানীয় নির্বাচনও স্থগিত করতে হয় ইসিকে।

এ নিয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করে দেবে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারা যেভাবে বলবে নির্বাচন কমিশন সেইভাবে নির্বাচন করবে। আপদকালীন কোনো কারণে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে সরকার নির্বাচন স্থগিত রাখতে পারে। পিছিয়ে দিতে পারে।

এরআগে করোনার মধ্যেই ঢাকা-১০সহ তিনটি সংসদীয় আসনে ভোট্রহণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ইসি। এরপরই কমিশন সভা ডেকে অন্য নির্বাচনগুলো স্থগিতের স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত কমিশনের ওই সভায় নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চসিক, বগুড়া-১ ও যশোর-৬সহ সব নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগ যখন করোনা ঝুঁকিমুক্ত বলবে, তখন কমিশন নতুন তারিখ ঘোষণা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারো চাপে নির্বাচন স্থগিত করা হয়নি। যখন প্রয়োজন মনে হয়েছে, তখন ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ২৯ মার্চের আরো যেসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৯টি পৌরসভার বিভিন্ন পদের উপনির্বাচন, পাঁচ জেলায় জেলা পরিষদের ৫টি পদের উপনির্বাচন এবং ৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদের নির্বাচন।

স্থগিত নির্বাচনগুলো কোন পর্যায় থেকে শুরু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যে পর্যায় থেকে স্থগিত হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হবে। এসব নির্বাচনে নতুন কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন স্থগিত করায় আইনি জটিলতা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, সংবিধানে সংসদ নির্বাচন মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে করার বিধান আছে। তবে দৈবদুর্বিপাক হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার ক্ষমতা সিইসিকে দেয়া আছে। সবমিলে ১৮০ দিন বা ৬ মাস সময় পাব। আশা করি, এতদিন করোনার আতঙ্ক থাকবে না। যথাসময়ে নির্বাচনের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা যাবে। আর যদি করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকানো না যায়, তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে হতে পারে।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...