৭ কার্যদিবসেই বাজেট পাস!

৭ কার্যদিবসেই বাজেট পাস!
৭ কার্যদিবসেই বাজেট পাস! - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ২৯ মে ২০২০, ০০:০১

দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বাড়লেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বসতে যাওয়া এবারের বাজেট অধিবেশন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে নতুন এক ইতিহাস। এটি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় বাজেট এবং দেশের ইতিহাসের ৪৯তম বাজেট।

সীমিত পরিসরে আগামী ১০ জুন অনুষ্ঠেয় সংসদের এই অধিবেশনে বাজেট পেশ থেকে শুরু করে পাস হয়ে যেতে পারে মাত্র ৭ কার্যদিবসেই। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে বাজেট পাসের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণের ভয়াবহতায় এবারের অধিবেশনে থাকছে না কোনো আড়ম্বর। সাধারণত প্রতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে এক ধরনের উৎসব বিরাজ করে সংসদ সচিবালয় বা সংসদ এলাকায়। এবার আর সেই উৎসবের আমেজ থাকছে না। অনেক বিধি-নিষেধ মেনে শুরু হবে অধিবেশন।

যেহেতু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তাই সবকিছুই সীমিত আকারে হতে যাচ্ছে। বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিবেন নির্বাচিত কিছু এমপি। বাজেট অনুমোদনের সভায়ও উপস্থিত থাকবেন সব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। মাত্র ১০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ এবারের বাজেট অনুমোদন দিবে। এরপর অর্থমন্ত্রী তা সংসদে পেশ করবেন।

এদিকে যেসব ভিআইপি সংসদে ঢুকবেন, তাদের স্টাফদের প্রবেশে এবার নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে। অন্যবারের মতো আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছেনা কূটনীতিক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এমনকি গণমাধ্যম সম্পাদকদেরও।

সংসদ সচিবালয় জানায়, আগামী ১০ জুন বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্যের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষ করেই দিনের কার্যসূচি মুলতবি হতে পারে। এরপর ১১ জুন সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নতুন অর্থবছরের অর্থাৎ ২০২০-২০২১ এর বাজেট অনুমোদন দেয়া হবে।

অন্যান্য বাজেট অধিবেশনের মতো এবারো মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদন হওয়ার পর সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বসেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ খসড়া বাজেটের অনুমোদন দেবেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

এবারের বাজেট অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ জন মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, এরকম একটি বিজ্ঞপ্তি এরই মধ্যে জারি হয়েছে। এছাড়া একজন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অন্যান্য বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রিসভার পূর্ণ সদস্যরাই উপস্থিত থাকতেন। এবার সংসদ সচিবালয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসতে হচ্ছে না।

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের জন্য নির্ধারিত মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১০ জন সচিব/সিনিয়র সচিব উপস্থিত থাকবেন। প্রতি অর্থবছরে বাজেট উপস্থাপনের দিন বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের সম্পাদকরা আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার অতিথি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বাজেট বইয়ের সেটও ছোট হচ্ছে। শুধু অত্যাবশকীয় ৬টি বই এবারের বাজেট ব্যাগে থাকবে। তবে কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার পাটের ব্যাগ আর থাকছে না।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট অধিবেশনে সবকিছুই সীমিত আকারে হবে। শুধু কোরাম পূর্ণ করার তাগিদে নির্দিষ্ট কিছু সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে থাকা স্টাফদের প্রবেশে অনুমতি থাকছে না। সংসদ সদস্যদের বসার স্থান নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে হবে। সংসদের ভেতরে প্রবেশ গেটেই থাকবে থার্মাল স্ক্যানার। প্রত্যেকের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।

এবার আর বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হবে না। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। তবে এবার টানা বাজেট অধিবেশন চলছে না। প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ১০, ১১ জুন চলার পর ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১৪ ও ১৫ জুন চলবে আবার বিরতি। এভাবে বিরতি দিয়ে মোট ৭ কার্যদিবস চলতে পারে অধিবেশন।

সংসদ সচিবালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন পর্যন্ত যতদূর জানি মোট ৭ কার্যদিবস বাজেট সেশন চলবে। তবে বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। অধিবেশন কতদিন চলবে, কীভাবে চলবে সব চূড়ান্ত হবে ১০ জুন অধিবেশন শুরুর আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। স্পিকারের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন।

বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার টানা অধিবেশন চলবে না, গ্যাপ দিয়ে দিয়ে সেশন চলবে। সেশনে সকল সংসদ সদস্য থাকবেন না। কোরাম যাতে পূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রেখে সিলেকক্টিভ কিছু সংসদ সদস্য থাকবেন।




Loading...
ads






Loading...