৬৬ দিন পর ৩১ মে সচল হচ্ছে দেশ

 ৩১ মে সচল হচ্ছে দেশ
৩১ মে সচল হচ্ছে দেশ - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ২৮ মে ২০২০, ২৩:৫২,  আপডেট: ২৯ মে ২০২০, ১০:২৬

করোনা সংক্রমণরোধে টানা ৬৬ দিনের লকডাউন শেষে আগামী ৩১ মে থেকে সচল হচ্ছে দেশ। চালু হচ্ছে সরকার-বেসরকারি অফিস আদালত। একই সঙ্গে চলাচল করবে বাস, লঞ্চ ও রেল। অন্যদিকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, স্বল্প যাত্রী নিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস, লঞ্চ ও রেল চলাচল করবে।

প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ রোধে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ ছুটিতে ঘরবন্দি ছিল দেশের মানুষ। আর এ সময়ের মধ্যে খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে। দীর্ঘ লকডাউনে কাজ না থাকায় উপার্জন হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করেছেন।

এ অবস্থায় ঈদের আগে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা হলেও গণপরিবহন চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বিপণিবিতানে আশানুরুপ ক্রেতা সমাগমও হয়নি। এ সময় জরুরি সেবার জন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা ছিল না। তবে এবার সাধারণ ছুটি বাতিল করে অফিস আদালত খুলে দিয়েছে সরকার। এর সাথে উঠিয়ে নিয়েছে গণপরিবহন তথা বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

সারাদেশে আগামী ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচলের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সীমিত যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। নৌপরিবহন, ট্রেনও চলবে বলে তিনি জানান।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এখনো অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। তাই বাংলাদেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও অনেক দেশেই ফ্লাইট চালানোর সুযোগ নেই। তবে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে টানা ৬৬ দিনের লকডাউন শেষে অফিস খোলার পর সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরে অফিসে যেতে বলেছে সরকার। দেশে ৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ৩০ মে লকডাউন শেষ হচ্ছে।

৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখার আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নির্দেশনা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনাও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলি এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫, ৬, ১২ ও ১৩ জুনের সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞা চলাচালে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার ১৩ নির্দেশনা : দফতরের বাইরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘জীবাণুমুক্তকরণ টানেল’ স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। অফিস চালু করার আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিস কক্ষ, আঙ্গিনা, রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/ বিভাগের প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার, থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে। অফিস পরিবহনগুলো অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে ‘শতভাগ জীবাণুমুক্ত’ করতে হবে।

যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক (সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে।

সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যাবে। যাত্রার আগে এবং যাত্রাকালে পথে বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

খাওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব (ন্যূনতম তিন ফুট) বজায় রাখতে হবে। প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কর্মস্থলে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং ঘন ঘন সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

কর্মকর্তা/কর্মচারীদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কোনো কর্মচারী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে জানানো হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাস ধরে চলা লকডাউন আর না বাড়িয়ে আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস চালুর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই সময়ে গণপরিবহণগুলো কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নির্দেশনা জারি করবে বলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, উক্ত সময়ে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারে। তবে সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

কেউ মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সর্বাবস্থায় বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সরকারের নির্দেশনা মেনেই গণপরিবহন চলবে: নির্ধারিত সময়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ চালাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, সরকারের নির্দেশনা মেনেই তারা গণপরিবহন চালাবে। ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা, পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়ায় দেশের সব মানুষই উপকৃত হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্ব মেনে ফ্লাইট পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান।

তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জনবহুল স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ফুট মার্কিং করা, হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা, বিমানবন্দরে ঢোকার আগে ডিসইনফেকশন চেম্বার, থার্মাল চেক পয়েন্ট স্থাপন করা করা হয়েছে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে আমরা সবরকম সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত আছি।

বর্তমানে চীন ছাড়া অন্য সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইটও। তবে চার্টার্ড ফ্লাইট ও কার্গোবাহী ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি অবতরণ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত আছে।

এর আগে যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বেবিচক। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সীমিত পরিসরে গণপরিবহন, সরকারি অফিস চালু হবে। ফলে ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।

১৪ শর্ত পালন সাপেক্ষে ট্রেন চলতে পারবে: রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ট্রেন চালাতে রেলের সব প্রস্তুতি আছে। প্রথমে কোন কোন রুটে কয়টা ট্রেন চলবে, এসব ব্যাপারে আগামী শনিবার বিস্তারিত জানাবে রেল মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কীভাবে টিকিট বিক্রি হবে, কবে থেকে টিকিট পাওয়া যাবে সে বিষয়গুলোও ঠিক করা হবে এদিন। এসব তথ্য জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া রেলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ১৪টি শর্ত পালন সাপেক্ষে ট্রেন চলতে পারবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মেনে ট্রেন চালানোর নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশের সব স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছে রেলের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, কোনো দাঁড়ানো টিকিট দেয়া হবে না।

আর টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। যাত্রীদের বসানোও হবে আসন ফাঁকা রেখে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালানো হবে। এছাড়া ট্রেনগুলো জীবাণুমুক্ত করা ছাড়াও, অনবোর্ড পরিচালিত ট্রেনগুলোর দরজা-জানালা, হাতল, সিট, হেড বেল্ট কভার, টয়লেট, মেঝে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে খাবার গাড়ি সুষ্ঠুভাবে পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করতে হবে। ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারে স্টেশনগুলোর মাইকে ঘন ঘন ঘোষণা দিতে হবে, বড় অক্ষরে লিখে কাউন্টারের সামনে সাঁটিয়ে দিতে হবে।

ইস্যুকৃত টিকিটের ওপর ‘ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে’ মোটা সিল মেরে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সর্বোপরি স্টেশনের দায়িত্ব পালনকালে প্রত্যেক কর্মচারীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সম্প্রতি গণপরিবহন বিশেষত ট্রেন পরিচালনার জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে যাত্রী ও কর্মীদের মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান, তাপমাত্রা পরিমাপ, সম্পূর্ণ ট্রেন ও স্টেশন নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলা, স্টেশনে হাতে তাপমাত্রা পরিমাপ যন্ত্রের ব্যবহার, অনলাইন টিকিট ক্রয়ে উৎসাহ প্রদান, পোস্টার ও ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে স্বাস্থ্যজ্ঞান পরিবেশন, যাত্রীদের বসার স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে চলাচলরত ট্রেনের ক্ষেত্রে যাত্রী নিয়ন্ত্রণসহ ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বাসযাত্রীদের চলাচলের স্থানগুলো পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত হতে হবে: বাস মালিকদের সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে ৪০ সিটের গাড়িতে ২০ সিট পরিপূর্ণ করে এক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী বহন করার নির্দেশনা আসতে পারে। এছাড়া গাড়িতে ওঠার আগে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা এবং প্রতি ট্রিপ শেষে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে গাড়ি পরিষ্কার করে করোনার সংক্রমণ থেকে যাত্রীদের রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাস স্টপেজে আসা যাত্রীদের তাপমাত্রা মাপার জন্য স্টেশনে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার রাখতে হবে। যাত্রীদের চলাচলের স্থানগুলো পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। বাস স্টপেজে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের অপেক্ষা করার স্থান, বাস কম্পার্টমেন্ট ও অন্যান্য এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারে সচেতন করতে হবে।

সিট কভারগুলো প্রতিদিন ধোয়া, পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যাত্রীদের অনলাইনে টিকিট কেনার পরামর্শ দিতে হবে। গণপরিবহনে ওঠা ও নামার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যাত্রীদের সচেতন করতে হবে। গণপরিবহনের চালক-শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পণ্যবাহী নৌপরিবহন চলছে আগে থেকেই। যাত্রীবাহী নৌযান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে। যাত্রীবাহী নৌপরিবহন চালুর জন্য বেসরকারি নৌযান মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।

সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। সীমিত আকারে পরিবহন চললে এ ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পরিবহন মালিকরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালাবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে গণপরিবহন সীমিত আকারে চালুর জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। কারণ পরিবহন খাতের ৭০ লাখ শ্রমিক অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে এই দুই মাস। এখন গণপরিবহন চলবে। সবরকম নিয়ম মেনেই।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গণপরিবহন সীমিত আকারে চালুর আগে সবাইকে সাবধান করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।




Loading...
ads






Loading...