রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্তের দিনে ২০ জনের মৃত্যু


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৩ মে ২০২০, ১৪:৩৫,  আপডেট: ২৩ মে ২০২০, ১৫:৪২

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও এক হাজার ৮৭৩ জন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২ হাজার ৭৮ জনে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরসহ ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ৯৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ৮৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭৮ জনে।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২০ জন। তার মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও চারজন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে আটজন, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন এবং  সিলেট, খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাসায় চারজন এবং হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছেন একজন। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব আটজন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন এবং সত্তরোর্ধ্ব একজন রয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৯৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট ছয় হাজার ৪৮৬ জন সুস্থ হলেন।

বুলেটিনে বলা হয়, করোনা রোগী শনাক্ত বিবেচনায় এখন পর্যন্ত দেশে সুস্থতার হার ২০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ২৮৬ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন চার হাজার ৩০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪১ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৯ জন।

সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ছয় হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি। ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৩২২ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার ৪১৬ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ‍দুই হাজার ৮৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৫৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ জন।

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।

বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিনে দিনে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আজ দুপুর পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৮ মানুষ। এর আগে গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের আঘাত আসে।

এরপর এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার ৪ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ লাখ ৪ হাজার এক জন। অপরদিকে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।




Loading...
ads






Loading...