গবেষণা সংস্থার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

গবেষণা সংস্থার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
গবেষণা সংস্থার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ মে ২০২০, ১৬:১৮,  আপডেট: ১৬ মে ২০২০, ১৬:২৩

গবেষণা সংস্থার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাই, যখন দেশে কোনো দুর্যোগ দেখা দেয় বা মানুষ কোনো বিপদে পড়ে, কিছু নিয়ে শংকা-আশংকায় থাকে, তখন কিছু নতুন নতুন গবেষণা সংস্থা গজিয়ে ওঠে। এগুলোকে অন্য সময় আর দেখা যায় না।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে ঢাকায় তথ্যমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার জন্য ও বিরোধীদের হাতে সমালোচনার অস্ত্র তুলে দেবার জন্যই এরা মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে। এধরনের মনগড়া রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ গুজব রটনার শামিল এবং আমি আশা করবো, গুজব রটনার অপরাধ সংঘটন থেকে সবাই বিরত থাকবে।

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী'র 'সরকার মানুষ বাঁচাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি' মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওয়ার্ল্ডোমিটার উপাত্ত উদ্ধৃত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে করোনাশনাক্ত রোগীদের ১.৪৮ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেছে, যা ভারতে ৩.২ এবং পাকিস্তানে ২.১৪ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ মৃত্যুহার শতকরা ৫.৯৬, যুক্তরাজ্যে ১৪.৩৬, স্পেনে ১০ এবং ইটালিতে ১৪.১১ শতাংশ। এ পরিসংখ্যানই বলে, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশে করোনায় মৃত্যু বহুদেশের চেয়ে অনেক কম।

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্তই বলে দেয়, বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুহার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তো বটেই, ইউরোপ- আমেরিকার দেশগুলো থেকেও অনেক কম, এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের যথোপযুক্ত ব্যবস্থাই এর কারণ।

'করোনায় লোকক্ষয় রোধে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও প্রশংসার বদলে সমালোচনার জন্য বিএনপি প্রতিদিন মিথ্যাচারে ব্যস্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এমনকি দি ইকোনমিস্ট এবং ফোর্বস পত্রিকাও শেখ হাসিনার উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছে, প্রশংসা করতে পারেনা শুধু বিএনপি।'

'বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা রমহামারিতে সেবা না দিয়ে বরং বাণিজ্যমুখী আচরণ করছে' এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল করোনারোগীদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিলো, সেভাবে আসেনি। অনেকগুলো হাসপাতাল, তারা নিজেরাই অনেকটা বন্ধ করে রেখেছে। সেখানে কোনো করোনারোগী গেলে সেবা দেয়া তো দূরের কথা, তাকে অন্য কোথাও ঠেলে দেবার চেষ্টা চলছে, যা আমরা প্রতিনিয়ত পত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি।

'কিছু বেসরকারি হাসপাতালের এ আচরণ অত্যন্ত অমানবিক, কারণ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য' উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, হাসপাতালের উদ্দেশ্য যদি বাণিজ্য হয়, তাহলে তাকে হাসপাতাল বলা কঠিন। এছাড়াও আমরা দেখছি, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হাসপাতালকে যখন ভাড়া নেবার কথা বলা হয়, তখন অস্বাভাবিক অর্থ দাবি করা হয়। ২০০ বেডের একটি হাসপাতাল মাসে ১৭ কোটি টাকা দাবি করেছে, এবং একইসাথে ডাক্তার-নার্সদের থাকা-খাওয়ার টাকাও দাবি করেছে, যা অস্বাভাবিক। এসময় তিনি বেসরকারি হাসপাতালগুলো বাণিজ্যের মানসিকতা পরিহার করে সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন।

এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদের কাছে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর করেন তথ্যমন্ত্রী।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads






Loading...