এমপি হোস্টেলে করোনা আতঙ্ক

এমপি হোস্টেলে করোনা আতঙ্ক
এমপি হোস্টেলে করোনা আতঙ্ক - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১০ মে ২০২০, ০০:৪৩,  আপডেট: ১০ মে ২০২০, ১০:০৮

মহামারী করোনা ভাইরাস আতঙ্ক দেখা দিয়েছে খোদ সংসদ এলাকায়। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেও এর থাবা থেকে রেহাই মেলেনি পাশের ন্যাম ভবনে বসবাসরত এমপিদের পরিবারের। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন এমপি হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রয়েছেন।

সংসদ ভবন ও ন্যাম ভবনে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে তাদের অর্ধশতাধিক সহকর্মীকে। আর সবার পরিবারকেও যাপন করতে হচ্ছে ‘বন্দিদশা’।

জনপ্রতিনিধি হয়েও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অনেকটাই ঘরমুখী হয়ে পড়েছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, হুইপ ও এমপিরা। বেছে নিয়েছেন স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইন। অনেকে নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও মাঠে বেরোচ্ছেন না। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এলাকার লোকজনের খবরাখবর নিচ্ছেন এদের অনেকেই।

সপ্তাহখানেক আগেও এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও ধান কাটায় অংশ নেয়া এবং ঘটা করে ধান কাটার মেশিন বিতরণের ধুম পড়ে। কিন্তু গত চার-পাঁচ দিন ধরে তাতে ভাটা পড়েছে। বেশিরভাগ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি এখন ঢাকার বাসায় আছেন।

যারা এলাকায় আছেন তারাও বাইরে বের হননি। এরই মধ্যে একজন এমপি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আরেক এমপির পরিবারের সদস্য এবং সংসদ ভবন এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এতেই উদ্বিগ্ন হয়ে ঘরমুখী হতে শুরু করেছেন অনেক এমপি। সতর্ক অবস্থানে থাকছেন তারা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্যদের নিরাপদে রাখতে তারা বাড়তি সতর্কতা নিতে শুরু করেছেন। কারো কারো বাইরে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের থেকেও বাধা পেতে হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন এমপি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের চাপ আগে থেকেই ছিল। এখন নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকার এবং রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর স্ত্রীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর এই চাপ আরো বেড়েছে।

তবে চাপ হোক আর উৎকণ্ঠা হোক, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই দুর্যোগের সময় ঘরে থাকার সুযোগ নেই। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে বলে মন্তব্য তাদের।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকার নিজে এবং রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীর স্ত্রী করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। অবশ্য ইতোমধ্যে কাজী কেরামত আলীর স্ত্রী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। অপরদিকে শহীদুজ্জামান জাতীয় সংসদ এলাকায় ন্যাম ভবনের বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

শহীদুজ্জামানের সংস্পর্শে আসায় নওগাঁ-৬ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম ও নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দিন তরফদারও আছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে।

এদিকে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য ইতোমধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছে। এ কারণে আরো অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এসব পুলিশ সদস্য সংসদ ভবনের ভেতরে অবস্থানকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ অন্যান্য ভিআইপিদের বাসা এবং সড়কের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন।

করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই দলের সিনিয়র নেতা, অসুস্থ ও প্রবীণ এমপিদের বাসার বাইরে বের না হতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই নির্দেশনার কথা একাধিকবার তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সার্বক্ষণিক বাসায় অবস্থান করছেন।

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল এ বিষয়ে বলেন, ‘উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তো থাকেই। একজন এমপি আক্রান্ত হওয়ার পর একটু আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, এটা স্বাভাবিক। আমি করোনা পরিস্থিতির পরপরই এলাকায় অবস্থান করে ত্রাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে রয়েছি। আমরা যদি হাত গুটিয়ে আতঙ্কে ঘরে বসে থাকি তাহলে জনসাধারণ সেবা থেকে বি ত হবে। তবে আগাগোড়াই আমি সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। একজন এমপি আক্রান্ত হওয়ার পর আরো সতর্ক রয়েছি।’

বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের চাপ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীও রাজনীতি করেন। ফলে তার থেকে চাপ আসছে না। তবে সন্তানসহ অন্যদের থেকে কিছুটা চাপ তো আছেই। আর আমার মনে হয় এ ধরনের চাপ সবার ওপরই কমবেশি থাকার কথা।’

এদিকে একাধিক এমপি জানিয়েছেন, করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারী। এটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এর বিরুদ্ধে অতি সাহস দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনী এলাকার যে কাজে না গেলে চলবেই না সেখানে তারা যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, অন্য কাজগুলো ডিজিটালি চালাচ্ছেন। নিজে না গিয়েও যদি কাজটি ভালোভাবে হয় তাহলে যাওয়ার দরকারটাই বা কী! এমপিরা তো এলাকার নির্বাহী নন। ত্রাণ বিতরণসহ অন্য যেসব কাজ চলছে সেখানে এমপিরা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে করণীয় সব কাজই করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

করোনা আক্রান্ত নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকার জানান, তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন। ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলছেন।তবে এলাকায় যখন ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের জন্য উদ্বেগ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘এমপি হিসেবে আমাদের ভয় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। করোনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। যে কেউ করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন।’

অন্য এমপিদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, স্বভাবতই সেটি থাকবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, একেবারেই ঘরে বসে থাকতে হবে। সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ






ads