১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে কোন খাবার নেই: ব্র্যাকের জরিপ

১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে কোন খাবার নেই: ব্র্যাকের জরিপ
১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে কোন খাবার নেই: ব্র্যাকের জরিপ - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৫,  আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২০, ২২:০২

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অথবা তাদের কাজ কমে গেছে। দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ১৪ শতাংশ মানুষেরই ঘরে কোনো খাবারই নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্র্যাকের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স রাফে সাদনান আদেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে জরিপটি করা হয়। ৬৪ জেলায় ২ হাজার ৬৭৫ জন নিম্নআয়ের মানুষ জরিপে অংশ নেন। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত জরিপটিতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স, আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং পার্টনারশিপ স্ট্রেংদেনিং ইউনিটের কর্মীরা।

জরিপে দেখা যায়, সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাদের কাজ কমে গেছে। ৮ শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনো বেতন পাননি। কৃষিকাজে সম্পৃক্তদের (৬৫ শতাংশ) তুলনায় অ-কৃষিখাতের দিনমজুর বেশি (৭৭ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ রিকশাচালক, ৫৮ শতাংশ কারখানা শ্রমিক, ৬২ শতাংশ দিনমজুর, ৬৬ শতাংশ হোটেল বা রেস্তোরাঁকর্মী জানান, চলতি মাসে তাদের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। ১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার।

জরিপে দেখা যায়, কী কী ব্যবস্থা অবলম্বনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতার স্পষ্ট ধারণা নেই। এমনকি করোনা সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি চলে না আসার যে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সে বিষয়েও ধারণা নেই অধিকাংশের।

৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রতিবেশী এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাকে শহরের হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। মাত্র ২৯ শতাংশ হেল্পলাইনে ফোন করার কথা বলেছেন।

জরিপে উঠে আসা চিত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাকের প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর ব্যবস্থাপনার জন্য করণীয় সম্পর্কে পৃথক, বৃহৎ মাত্রার প্রচারাভিযান চালাতে হবে।

২) সামাজিক দূরত্বের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের কাছে অতি শিগগির খাদ্য পৌঁছাতে হবে, নয়তো তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে না। জীবিকা অর্জনে তারা বাইরে বের হতে বাধ্য হবেন।

৩) শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন যারা গ্রামকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন। তাদের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

৪) এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বোরো ধান কাটা শুরু হবে যা চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। এ সময় কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সঠিক দাম পান সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম ধান ক্রয় অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

৫) গ্রাম থেকে শহরে সবজি, দুধ-ডিম-মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গ্রামে এসবের দাম কমে গেছে। খাদ্যসরবরাহ চেইন যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া সংকটপরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে পুনরায় ব্যবসা চালু করার জন্য অর্থায়নসহ অন্যান্য সহযোগিতা পৌঁছানোর পদ্ধতি-প্রক্রিয়া নিয়েও আগাম পরিকল্পনা করা উচিত।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আর ৯৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে এবং মোট মৃত্যু ২৭ জনে দাঁড়াল।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...