বন্ধের অনুরোধ সত্ত্বেও অনেক গার্মেন্টস খোলা

বন্ধের অনুরোধ সত্ত্বেও অনেক গার্মেন্টস খোলা - সংগৃহীত

poisha bazar

  • আসাদ জোবায়ের
  • ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:৩০,  আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:৪৮

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কারখানা বন্ধ রাখতে বিজিএমইএর অনুরোধ সত্তে¡ও রাজধানীর আশপাশে, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বেশকিছুৃ পোশাক কারখানা খোলা ছিল।

আবার কিছু কিছু কারখানা সকালে চালু হওয়ার এক-দেড় ঘণ্টা পরেই ছুটি দেয়া হয়েছে। এর আগে দিনভর নাটকীয়তা শেষে শনিবার রাতে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য কারখানা মালিকদের কাছে অনুরোধ করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।

গতকাল সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়ার পলাশবাড়ীর স্কাইলাইনের নিটিং, ইপিজেড এলাকার গোল্ড টেক্স, একটর অ্যাপারেলস, গ্লোবাল, শান্তা, সাভার কলমা এলাকায় হট ড্রেস গ্রুপ, সাভারে আল মুসলিম, আলনিমা, ডেনি টেক্স, ঢাকা টেক্সটাইল, সাভার টেক্সটাইল, বিরুলিয়া বউবাজার এলাকার এবিসি বাংলা অ্যাপারেলস লিমিটেড, বিরুলিয়ার মাইন্ড ওয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেড, হেমায়েতপুরের এবি অ্যাপারেলস, জামগড়ার এসএনএস অ্যাপারেলস, জামগড়ার নিটওয়্যার লিমিটেড, ছাফা সুয়েটার, এসকেআরএম ও আশুলিয়ার বারইপাড়ার তানজিলা টেক্সটাইল লিমিটেডসহ প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানা খোলা রয়েছে।

কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাসায় যেভাবে ভালো থাকার চেষ্টা করি নিজেরা ওই ভাবেই শ্রমিকদের কারখানায় ভালো রাখার চেষ্টা করছি। কাজের বেশিরভাগ ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। দু-একটি ক্রয়াদেশ রয়েছে যেগুলো জরুরিভাবে সিপমেন্ট দিতে হবে। তাই রোববার আমরা কারখানা খোলা রেখেছি। পরবর্তীতে বন্ধের নির্দেশ এলে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ ইপিজে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে সকালে প্রায় সব কারখানায় খোলা হয়েছিল। এক-দেড় ঘণ্টা পরে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির নোটিশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, আমরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি, অনেক কারখানাই আজ খোলা ছিল। আবার সেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এটি শুধু শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি জননিরাপত্তার প্রশ্ন। এভাবে তাদের জীবন নিয়ে যারা খেলছে তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার। এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল ছুটি। এরপর কারখানা মালিকদে চাপে শ্রমিকরা দেশের প্রত্যন্ত অ ল থেকে হেঁটে ঢাকায় চলে আসে। এসব ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে চলে এলে টনক নড়ে বিজিএমইএর।

শনিবার রাত ১০টার দিকে এক অডিও বার্তায় কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। কিন্তু ততক্ষণে অধিকাংশ শ্রমিক কারখানা এলাকায় চলে এসেছেন। এখন আবার প্রায় ১০ দিনের ছুটি দেয়ায় শ্রমিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

এদিকে দেরি হলেও তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর প্রত্যেক শ্রমিক মার্চের বেতন পাবেন বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি এ কথা তুলে ধরেন। অপর একটি বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা যে যেখানে আছেন, সেখানেই যেন অবস্থান করেন, এটা এখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

অডিও বার্তায় রুবানা হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন দেয়ার সময় সাধারণত মাসের সাত কর্মদিবস, যেটা ১০ তারিখে শ্রমিকরা পান। তবে প্রথমত, কোনো ব্যাংক এখন টাকা দিচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, নেগোশিয়েটিভ করতেও সময় লাগবে (৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণ পেতে)। সেক্ষেত্রে ১০ তারিখের জায়গায় ১৫ তারিখ হয়, হবে। তবে মার্চ মাসের বেতন প্রতিটি শ্রমিক পাবেন, এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। রুবানা হক আরো বলেন, শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতন পাবেন। মার্চ মাসের বেতন নিয়ে কোনো অনীহার সুযোগ নেই। কোনো শ্রমিক যদি কোনো কারণে উপস্থিত না থাকেন, তা হলে মানবিক বিবেচনায় তার চাকরিও থাকবে বলে জানান তিনি।


মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 




Loading...
ads






Loading...