করোনা আতঙ্ক চারদিকে

করোনা আতঙ্ক চারদিকে

poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫২,  আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৬

বিশ্বের প্রায় ২০৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্ক এখন চারদিকে। এ আতঙ্কে চিকিৎসা পাচ্ছেন না বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা। অন্যান্য রোগে আক্রান্তরাও একই ধরনের বিড়ম্বনায় ভুগছেন।

করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে ডিউটিতে যাচ্ছেন না অনেক চিকিৎসক। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নেই টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্ট। হাসপাতালগুলোতে গিয়ে সাধারণ সর্দি জ্বরের চিকিৎসাও পাচ্ছেন না রোগীরা। শুধু কি তাই, কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলেও তাকে করোনা রোগী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর শ্বাসকষ্টের কথা জানালে তো মহাবিড়ম্বনা। কিছুতেই সেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি নিচ্ছে না দেশের বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালগুলোর কেউই।

বিশেষ করে হার্ট, কিডনিসহ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক ডাক্তারের সেবার মধ্যে থাকতে হয়। এমন রোগীরা চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের খুঁজে না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসার আশায় সবাই ছুটছেন। সরকারী হাসপাতাল ও অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বারও বন্ধ। রোগীদের কান্না স্পর্শ করছে না ডাক্তারদের।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও যেন বিকার নেই। করোনার পাশাপাশি এই স্বাস্থ্যসেবার সঙ্কটের বিষয়টিতেও অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় করোনা ছাড়াই কেবল চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে পারেন অনেক মানুষ। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসা না পেয়ে।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। করোনায় আক্রান্ত না হয়েও চিকিৎসা সেবার অভাবে মারা যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। গত রোববার রাজধানীর ছয় ছয়টি হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেও কোথাও ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মো. আলমাস উদ্দিনের করুণ মৃত্যু পুরো জাতিকেই নাড়া দিয়েছে। আর যারা সাধারণ সর্দিজ্বরসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত তারাও চিকিৎসার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

আক্রান্ত অনেক রোগী, যারা ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েই এতদিন অভ্যস্ত ছিলেন তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। বলা চলে, করোনা মোকাবিলার নামে রীতিমতো ভেঙ্গে পড়েছে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা।

সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতেও এই নিয়ে মানুষ ক্ষোভ ঝারছেন। ফেসবুকে অনেকেই জানিয়েছেন কোথাও চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার কথা। ডাক্তারদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়ার অভিযোগ কেেরছন কেউ কেউ। জটিল রোগীদের কেউ আবার বলেছেন, একজন ডাক্তারের কাছে চার-পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত চিকিৎসা করানোর পরও এখন সেই ডাক্তারই ফোন ধরছেন না। সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

চারদিকে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার খবরে কর্তৃপক্ষ কিছুটা হলেও সরব হয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি জানিয়েছে, কিছু তথ্য এসেছে, প্রাইভেট চেম্বারে এতদিন যেসব বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগী দেখেছেন তারা চেম্বার বন্ধ রাখছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোও স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছে না। সবাই যেন যার যার কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান এ কামনা করেন উচ্চ পদস্থরা।

এ বিষয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিকিৎসক নেতা ও স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চিকিৎসকদের চেম্বারে বসা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপরও বহু চিকিৎসকই চেম্বারে বসেননি।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই চেম্বারে রোগী দেখছেন না। এর মধ্যে রাজধানীর পান্থপথে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট রোগী সোহেল রানা জ্বর ও জয়েন্ট পেইন নিয়ে নেফ্রলোজিস্টের পরামর্শ নিতে গেলে শমরিতা হাসপাতালে বিষেষজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় ডাক্তারর মুঠোফোনে জানান, এখন দেখতে পারবেন না। শুধু নাপা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব একব্যক্তি শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে। চেম্বারে কোনো ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যান স্কয়ার হাসপাতালে।

জানা যায়, সেখানেও তিনি কোনো ডাক্তার পান নি। এভাবে শুধু ল্যাব এইড, স্কয়ার, পপুলার, শমরিতা, ইউনাইটেড নয়। রাজধানীর সব হাসপাতালেই চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় ফ্লু এবং শ্বাসকষ্টজনিত কোনো রোগী আসলেই চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করছে এসব হাসপাতাল। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লুজনিত রোগী তেমন একটা নেই। তা ছাড়া এ ধরনের কোনো রোগী আসলে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে আরো দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো ডাক্তার জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেবেন না বলেও নোটিশ টাঙিয়ে রেখেছেন। বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনের কারণে জ্বর বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অনেক রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগী সরকারি হাসপাতালে রেফার করছে। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় আরও মুমূর্ষু হয়ে পড়ছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা চিকিৎসা করছেন না বলেন ডাক্তাররা।

মিরপুরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আলোক হাসপাতাল, কিংস্টোন হাসপাতাল, ডা. আজমল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে কোনো রোগী এলে সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। মিরপুর ১২ নম্বর কিংস্টোন হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, ইমার্জেন্সি ডাক্তারদের বলা হয়েছে- জ্বর, সর্দি, কাশি ও হাঁচি নিয়ে কোনো রোগী এলে সরকারি কুর্মিটোলা হাসপাতালে যেন রেফার করা হয়। এক চিকিৎসক বলছিলেন, যদি এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে কেউ আসে, কাউন্সেলিং করে পর্যাপ্ত মেডিসিন দিয়ে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। যেহেতু করোনা ভাইরাস শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা এখানে নেই, তাই আমারা রিস্ক নিতে চাই না।

দেখা গেছে, করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে রোগী আসাও অনেক কমে গেছে। আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় অনেক চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগী দেখাও বন্ধ করেছেন। ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিটি হাসপাতালে সিট খালি আছে অর্ধেকেরও বেশি। অথচ অন্য সময় বারান্দায় রোগী রেখেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায় না।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিএসএমএমইউ, মিটফোর্ডসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে রোগীর উপচেপড়া ভিড় থাকে। এখন একেবারেই ফাঁকা। করোনা আতঙ্ক ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হাসপাতালে রোগী আসছে কম। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর চাপ থাকে, সেখানে এখন নীরবতা। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় যারা আসছেন, তাদের সেবা দেয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতায়। শিশু হাসপাতালেও রোগীর চাপ কম। তবে, হাসপাতালে আইসিইউতে পর্যাপ্ত সিট না থাকায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে শুধু রাজধানীতেই নয়, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার হ-য-ব-র-ল চিত্রের খবর জানিয়েছেন সারাদেশে থাকা মানবকণ্ঠের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা। তারা জানান, একদিকে করোনার চিকিৎসা না পাওয়া অন্যদিকে করোনার আতঙ্কে হাসপাতালগুলোকে সাধারণ জ্বর-সর্দি, কাশি এমনকি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গেলেও ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না কোনো চিকিৎসা। জ্বর-সর্দি, কাশি হলেই করোনা আক্রান্ত হতে পারেন এই ভয়ে চিকিৎসকরা দিচ্ছেন না চিকিৎসা। করোনা আক্রান্ত রোগী এসেছেন কিংবা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন এমন সন্দেহে হাসপাতাল ছেড়ে ডাক্তারের পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। গত কয়েকদিনে যেসব হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী মারা গেছেন তার প্রায় প্রত্যেকটি হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স এমনকি রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে। বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসা না পাওয়াদের ক্ষোভ ফেসবুকে

ডাক্তার দেখানো নিয়ে নিজেদের ভোগান্তির কথা অনেকে তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। প্রতাপ শেখর নামের একজন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, নিউমোনিয়া এমন রোগ হলে কোনো সাধারণ হাসপাতাল চিকিৎসা দিচ্ছে না। বলছে করোনার উপসর্গ; কুর্মিটোলা হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট ৪টা হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সেখানে গেলে বলছে, রোগীদের বাসায় গিয়ে টেস্ট করা হবে। কেন সশরীরে চলে এসেছেন? ফোন করতে হবে হটলাইনে। ফোনে সিম্পটম শুনে আমরা স্যাম্পল কালেক্ট করব। হটলাইনে উপর্যুপরি ফোন দিলেও তারা আর রিসিভ করছে না। সৌভাগ্যক্রমে রিসিভ করলেও জিজ্ঞেস করছে, কোনো বিদেশ ফেরত বাংলাদেশির সংস্পর্শে এসেছেন কি না? না এলে করোনা টেস্টের দরকার নেই, সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসা করান। সাধারণ হাসপাতাল গো-ধরে আছে, তারা এমন রোগী ভর্তি করাবে না। ক্রিটিকাল রোগীরা এ অবস্তায় আর সার্ভাইভ করছেন না। রোগী নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফেসবুকে নিলুফার জাহান বলেন, আমার মাকে নিয়ে এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। এসে দেখছি ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ। আরেক ডাক্তারের কাছে দেখানোর জন্য গেলাম। ডাক্তার রোগ সম্পর্কে জানার পর রোগী দেখতে চাচ্ছেন না। এ নিয়ে কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

ব্যক্তিগত সুরক্ষার অভাব বলছেন ডাক্তাররা

করোনা আতঙ্কে চিকিৎসক ও নার্সদের একটি বড় অংশ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) স্বল্পতা এবং সাধারণ রোগীরা যে করোনা আক্রান্ত নন, তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণেই মূলত হাসপাতালগুলোতে এমন সংকট সৃষ্টি হয়েছে-এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞ কয়েকজন ডাক্তার। তাদের মতে, যাদের ন্যূনতম করোনার উপসর্গ রয়েছে, তাদের পরীক্ষা করানো জরুরি। তাহলেই চিকিৎসকরা নিশ্চিন্তে সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে পারবেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে।

সরকারি একটি হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্দি-কাশির চিকিৎসা করার জন্য আলাদাভাবে ব্যবস্থা করেছে। আমাদের এখানে তো সেরকম নাই। তারপরেও ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা আমরা দিচ্ছি। কিন্তু অনেক উপসর্গ থাকলে আমরা তাদের বিশেষ হাসপাতালগুলোতে যেতে বলি। আমাদের এখানে তো আরও রোগী আছে, তাদেরও তো সুস্থ থাকতে হবে।

কর্তৃপক্ষ যা বলছেন

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের কাছে খবর আসছে। সারাদেশে অনেক হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা থাকার পরও সেই মাত্রায় তারা সেবা দিচ্ছে না। বেসরকারি ডাক্তাররা অনেকেই চেম্বার বন্ধ রেখেছেন। হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। আমি আশা করব ডাক্তাররা, দেশের এই দুর্দিনে এগিয়ে আসবেন, দেশবাসীর পাশে দাঁড়াবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নজরে নিয়েছেন বিষয়টি। তিনি বুধবার চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা কেেরছেন। সব চিকিৎসককে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) মহাসচিব ডা. জাকির সুমন বলেন, সরকারি-বেসরকারি কোনো চিকিৎসকের অপেশাদার আচরণ মেনে নেয়া হবে না। হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগীর চিকিৎসা বা ভর্তি না করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সবার বরিুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হল। সব হাসপাতালে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের জন্য পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেয়া হয়েছে। যদি রোগীদের সেবা দেয়া না হয় তাহলে এগুলো করা হল কেন?

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব (স্বাচিপ) ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, হাসপাতালের পরিস্থিতি কিভাবে পরিবর্তন করা যায় তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদায়ের সঙ্গেও কথা বলছি। আসলে করোনার আতঙ্ক থেকে এই অবস্থা। দরকার ডাক্তারদের কাউন্সেলিং। এটা করতে পারলে ভাল হতো।

বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীদের অনেকেই হয়তো ভয়ে আসছে না। তাছাড়া যানবাহন বন্ধ থাকায় অনেকে অফিসে যেতেও পারছে না। ছুটিতে গ্রামে চলে যাওয়ার কারণেও কর্মী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কিন্তু চেম্বারে বসতে চিকিৎসকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানিয়েছি, অনেকদিন হয়ে গেছে। যারা যারা আসেননি তারা যেন তাদের চেম্বারে বসেন। আমরা চেষ্টা করছি, সবাই ভিড়ের মধ্যে না গিয়ে যার যার চেম্বারে যেন বসেন।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads