যেভাবে করোনা টেস্ট হচ্ছে ঢামেক ও বিএসএমএমইউয়ে

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ এপ্রিল ২০২০, ১২:২২,  আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৩:০৪

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে ফ্রিতে করোনাভাইরাস টেস্ট করানো যাচ্ছে। এ টেস্টের ফল জানতে ঢামেকে সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘন্টা। আর বিএসএমএমইউয়ে ৪ ঘণ্টা। কিন্তু কীভাবে করা হচ্ছে করোনা টেস্ট?

বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য দুটি মেশিন (যন্ত্র) ব্যবহার করা হয়। একটি যন্ত্রের নাম এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন এবং রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন। প্রথমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখের লালা বা নাকের সোয়াব সংগ্রহ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনোলোজিস্ট।

ওই নমুনা নিয়ে আসা হয় ল্যাবরেটরির করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে। নমুনাগুলো প্রথমে ইনঅ্যাক্টিভেশন করা হয়। এই মেশিনে নমুনা আসার পর তা বিভিন্ন রিএজেন্টের মাধ্যমে তা প্রসেসিং করা হয়।

নমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কিটের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) বের করে আনা হয়।

এরপর আরএনএ-এ কোষের নমুনা ল্যাবরেটরিতে রাখা আরেকটি এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনের রাখা হয়। সংযুক্ত করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। এরপর বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। এই মেশিনের সঙ্গে কম্পিউটার সংযুক্ত রয়েছে।

কম্পিউটারে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সফটওয়্যার চালু করা হয়। যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলে, তখন কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে, করোনাভাইরাস পজিটিভ। আর যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাস না পাওয়া যায়, তখন করোনাভাইরাস নেগেটিভ লেখা ভেসে ওঠে।

ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম রাশেদ উল ইসলাম বলেন, একজন ব্যক্তির কোষের আরএনএ–তে করোনাভাইরাস থাকলেই তিনি করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ল্যাবরেটরির পিসিআর মেশিনের যুক্ত কম্পিউটার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস পজিটিভ।

আমাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার ল্যাবরেটরিতে যে কিট ব্যবহার করা হয়, তা চীনের একটি কোম্পানির। কোম্পানির নাম সানশিউর বায়োটেক লিমিটেড। এই কোম্পানির কিট ব্যবহার করে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে।

বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, যে পদ্ধতিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে, সেটি হলো পিসিআর পদ্ধতিতে মলিকুলার টেস্ট। এটা রক্তের পরীক্ষা নয়। যেকোনো ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালে এসে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৩৭ হাজার ৬৩৯ জন মারা গেছেন। বাংলাদেশে মারা গেছেন পাঁচজন, আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ জন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...