প্রাণ পেয়েছে ঢাকার পরিবেশ-প্রকৃতি

প্রাণ পেয়েছে ঢাকার পরিবেশ-প্রকৃতি
প্রাণ পেয়েছে ঢাকার পরিবেশ-প্রকৃতি - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ এপ্রিল ২০২০, ১০:৪২

পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙছে ঢাকাবাসীর। ভোরের বাতাসে মিলছে শুদ্ধতার অনুভূতি। রাস্তায় নেই কোনও কর্কশ হর্ন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজধানীবাসী যখন ঘরে, ঠিক তখনই ঢাকার প্রকৃতি আর পরিবেশে ঘটেছে পরিবর্তন। নেই তেমন ধুলোবালি। রাস্তাতেও নেই ধোঁয়া।

সবুজ কচিপাতা চোখ মেলছে। কী ফুরফুরে তাদের মন! চুলের মতো তিরতির করে উড়ছে বাতাসে। কুড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে ফুল। কত রঙিন দেখতে! লাল-হলুদ আর বেগুনি। অন্যরকম এক আবেশ ছড়াচ্ছে প্রকৃতি। দেখলে হয়তো বিশ্বাস হতে চাইবে না, খোদ ঢাকার রাজপথের এই রূপ।

সকালে ঘুম ভেঙেই পাখির কিচিরমিচির শেষ কবে শুনেছেন—এমন প্রশ্নে বাসাবোর বাসিন্দা আফিফা মমতাজ জানান, আজ প্রথমবারের মতো বেশ কয়েকটি কাঠঠোকরা দেখেছেন তিনি। আর শুনেছেন পাখির কিচিরমিচির। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য ঘরে বন্দি থেকে যখন সবকিছু খারাপ লাগতে শুরু করে, তখন প্রকৃতি থেকেই আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

শুক্রাবাদের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ বললেন, ‘ঢাকায় এমন দৃশ্য! ভাবাই যায় না। কী সুন্দর সবুজ হয়ে আছে নতুনপাতা। ফুল। প্রজাপতিও উড়ছে দেখি। এবার তাহলে ভাবুন, ঢাকায় কী দূষণ হয়? শুধু যে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে তা নয়, এই প্রকৃতিও শ্বাস নিতে পারে না প্রাণ খুলে।’

করোনা প্রাদুর্ভাবে দেশ। সাধারণ ছুটির নোটিশ ঝুলছে দেয়ালে। বন্ধ অফিসপাড়া। গণপরিবহনের চাকাও আর ঘুরছে না। ঝাপ তুলছে না দোকানপাটের। কেবল খোলা খাবার আর ওষুধের পসরা। ঘর থেকে মানুষকে বেরোতে বারণ করা হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায়। মানুষ ঘরবন্দী। গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফা ছুটি চলছিল। এখন লম্বা হচ্ছে বিরতি। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত খুলবে না অফিস। তবে সীমিত আকারে খোলা থাকবে সেবা সংক্রান্ত দপ্তরগুলো।

গণপরিবহন আর জনশূন্য ঢাকা এখন আর দূষণের নগরী নয়। নেই গাড়ির ধোঁয়া। বাতাসে সেই ভারি শিশা। উন্নয়ন কাজ বন্ধ। ধুলোও তাই উড়ছে না। ফুরফুরে বাতাসে তরতর করে বেড়ে উঠছে সড়কদ্বীপের গাছ। পথ বিভাজনে সংসারপাতা ফুলগুলো। সারা বছরের ধূসরতা কেটে গেছে এ কদিনেই। আপন রূপে ফিরছে শোভা বৃদ্ধির জন্য লাগানো লতাগুল্ম।

এই শহর যে বায়ুদূষণের তালিকায় মাস কয়েক আগে শীর্ষে উঠে এসেছিল, এখন দেখে হয়তো কারো বিশ্বাস হবে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে এই কদিনেই ঢাকার সার্বিক পরিবেশের বেশ উন্নতি হয়েছে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতার কাছে নিয়োজিত মানুষের ছুটি নেই। ঝকঝকে তকতকে রাখার কাজ নেই বন্ধ। তাদের একজন মোমেনা খাতুন। তার ভাষায়, ‘রাস্তায় এখন বাইর হইলে দম নিয়া শান্তি পাই। ধুলাবালি নাই। পেট্রল পোড়া গন্ধ নাই। বুক ভইরা বাতাস নিতে পারি।’

সোম ও মঙ্গলবার ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ, ধানমন্ডি, বিজয়সরণি, মহাখালী, বনানী এবং বিমানবন্দর সড়ক ঘুরে দেখা গেছে পথের দুপাশে লাগানো গাছগুলোতে নতুন সবুজপাতায় রোদ পড়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। পথবিভাজনের ফুল গাছ, লতাগুল্মগুলোও সতেজ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোনো কোলাহল নেই। বাতাসে নেই ধুলোর ঝড়।

বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, এখনও আমরা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আসিনি। রাস্তায় মানুষ কমে যাওয়ার কারণে অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আমাদের দেশের বাতাস স্বাস্থ্যকর হতে হলে সূচক হতে হবে ৫০-এর নিচে।

তিনি বলেন, গত ছয় মাসে বহুবার আমাদের সূচক ৪০০/৫০০ পর্যন্ত উঠেছে। সে হিসাবে আমরা এখন ভালো আছি। তিনি বলেন, এটি তো সাময়িক। আমরা তো বের হবো। এই ঘটনা দিয়ে একটি জিনিস স্পষ্ট, আমরা আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি করে চলেছি প্রতিনিয়ত। তাই আবার যখন আমরা কাজে বের হবো, তখন যেন বিষয়টি মাথায় রাখি। আর সরকারের কাছে আবেদন থাকবে, আরও কঠোর হাতে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 




Loading...
ads






Loading...