মানবতার পাশে যারা

মানবতার পাশে যারা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ২৯ মার্চ ২০২০, ০০:২২,  আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২০, ০০:২৭

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও কাজ করছেন অনেক সংসদ সদস্য ও এলাকার  জনপ্রতিনিধিরা। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ ও নিজস্ব তহবিল থেকে গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা। খাদ্যসামগ্রী, উন্নত মানের পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), উন্নত মানের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটারাইজসহ নানা সামগ্রী বিরতণ করছেন। তবে অনেকে এখনো নিজের নির্বাচিত আসনের খবর না রেখে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। নিজেদের কর্মীদের দিয়ে নামমাত্র লিফলেট বিতরণ করেই যেন হাঁপিয়ে উঠেছেন তারা।

কিন্তু তাদের মধ্যে অনেক কর্মী দিয়ে কিংবা নিজে উপস্থিত হয়ে করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনপ্রতিনিধি ছাড়াও অনেকে ব্যক্তি নিজের উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর ঘরে-বাইরে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে অবস্থান নেয়া কুকুর-বিড়ালগুলো যেন অভুক্ত না থাকে তার জন্য নেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগ। শরীয়তপুর-২ আসনের এমপি পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এ পর্যন্ত এলাকায় ১০ হাজার দরিদ্র মানুষের খাবার বিতরণ, দুই হাজার উন্নত মানের পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), ১২ হাজার পিস উন্নত মানের মাস্ক, ১ হাজার হ্যান্ড স্যানিটারাইজ, ১ হাজার জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করেছেন।

আজ রোববার তিনি নির্বাচনি এলাকায় যাবেন। আজ ৫০০ গরিব অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে। নিজস্ব অর্থায়নে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তার মায়ের নামে গড়ে তোলা ‘বেগম আশ্রাফুন্নেছা ফাউন্ডেশন’র মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলা সির্ভিল সার্জন অফিস, জেলা পুলিশ সুপার এবং নড়িয়া, সখিপুর, ভেদরগঞ্জে পিপিই, মাস্ক বিতরণ করেছেন।

অন্যদিকে নিজ হাতে খাদ্যসামগ্রীর ব্যাগ নিয়ে রাতের আঁধারে গরিব-অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিতরণ করলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দার। শুক্রবার রাতে তিনি নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগরের বিভিন্ন গ্রামে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, তেল ও লবণ। এসএম জগলুল হায়দার জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্নবানে সাড়া দিয়ে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এলাকার ৫০০ গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছি। এছাড়াও সরকারি বরাদ্দ পৃথকভাবে বিতরণ চলছে। বরাবরের মতো শুক্রবার শতাধিক বাড়িতে নিজে গিয়ে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করি। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তাদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার অনুরোধ জানাই। উল্লেখ্য, রাতের আঁধারে অসহায়-গরিব মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়া, শ্রমিকদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়া, মাটির ঝুঁড়ি মাথায় নিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন সাতক্ষীরার এই এমপি।

এছাড়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিজ উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ তার নির্বাচনি এলাকায় দুই হাজার খেটে খাওয়া মানুষের বাড়ি ৭ দিনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি জানান, নিজ উদোগে তার নির্বাচনি তাড়াশ-রায়গঞ্জ এলাকায় লকডাউন চলাবস্থায় ৭ দিন পর পর খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ করতে না পারায় নি¤œ আয়ের মানুষ কৃষি শ্রমিক ,রিকশা-ভ্যান চালক, দরিদ্র শ্রমজীবি মানুষকে গতকাল শনিবার থেকে এমপির উদ্যোগে জনসমাগম না করে ৭ দিনের খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম মসুরের ডাল, ৫০০ মিলি লিটার ভোজ্য তেল।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক যতদিন প্রয়োজন ততদিন অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে তার ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। অপরদিকে সংসদ সদস্য শনিবার দুপুরে তাড়াশ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকাজে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিপিই বিতরণ করেন। 

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন: বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী  ভাইরাস করোনার ভয়াল থাবায় নাকাল নগরের দুস্থ-অসহায়, দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ উপলক্ষে শানিবার বিকেলে গোপীবাগের বাস ভবনের সামনে থেকে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, নগরীর প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের দুস্থদের জন্য পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশকিছু পদক্ষেপেরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিতরণ করা ত্রাণের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল,আলু, মুড়ি, টোস্ট বিস্কুট, সাবান, স্যাভলন, মাস্ক এবং হ্যান্ড গøাভস উল্লেখযোগ্য।  পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিদিনই ঢাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুস্থদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আর এ ব্যবস্থাপনা চলবে তার প্রয়াত বাবা ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে। যতদিন পর্যন্ত না স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে ততদিন পর্যন্ত তার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি নগরবাসীকে করোনা মোকাবিলায় ভয় না পেয়ে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেইসাথে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশের প্রত্যকটি বিত্তবানকে দুস্থ-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক।

চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস: ব্যতিক্রম উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার মানবতা ও পরিবেশবাদী সংগঠন দি বার্ড সেফটি হাউজের  চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাসের  ব্যক্তিগত উদ্যোগে  ফেসবুকের সহতায় ৫০টি  অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় বাইকে করে তিনি চাল-ডাল, তেল-আলুসহ খাদ্যসামগ্রীগুলো বিতরণ করেন। এতে প্রতিটি পরিবার ভালোভাবে  খাবার খেতে পারবে ৩/৪ দিন। মানবতার ফেরিওয়ালা মামুন বিশ্বাস বলেন, হাট-বাজার বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের একজনের রোজগারে পুরো পরিবার চলতো। এখন তাদের উপার্জন বন্ধ। এ জন্য সাধ্য অনুযায়ী ফেসবুকের বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আমি তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ছিন্নমূল মানুষদের পাশে রাব্বানী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত শতাধিক ছিন্নমূল মানুষকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শতাধিক মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, আটা, লবণ, তেল, মাস্ক ও সাবান বিতরণ করেন তিনি। দেখা যায়, ২ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, হাফ কেজি করে ডাল, তেল, লবণ, একটি মাস্ক ও একটি সাবান একটি প্যাকেটের মধ্যে করে ১১২ জন ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিতরণের সময় স্বেচ্ছাসেবকরা করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সুরক্ষিত কাপড় পরিধান করে। এবং যাদের মধ্যে বিতরণ করা হয় তাদের মাঝে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, এসব ছিন্নমূলের মানুষ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও অন্যরা না আসায় তাদের জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধ। তাই একজন মানুষ হিসেবে, মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি নিজ ফান্ড থেকে তাদের মধ্যে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করি। তিনদিন পরপর তাদের এসব সামগ্রী প্রদান করা হবে। রাব্বানী আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা কুকুর-বিড়ালগুলো যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য প্রতিদিন ১০ কেজি মুরগির গোস্ত রান্না করে কুকুরগুলোক নির্ধারিত (বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কুকুর একস্থানে না থেকে বিভিন্ন জায়গায় একটি দল করে থাকে) এসব খাবার দেয়া হবে। খাবার মধুর ক্যান্টিনের পাশে রান্না করা হবে।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...