করোনার দুর্যোগে গ্যাস বিদ্যুতে দুর্ভোগ

করোনার দুর্যোগে গ্যাস বিদ্যুতে দুর্ভোগ - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ২৯ মার্চ ২০২০, ০০:১২,  আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২০, ০৯:১৮

মহামারী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে রাজধানী ঢাকা অঘোষিত লকডাউন হয়ে যাওয়ায় মহাসঙ্কটে পড়েছে গ্যাস ও বিদুতের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকরা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রতিদিনই জানানো হচ্ছে প্রিপেইড কার্ডে অগ্রিম টাকা ভরে রাখতে। সেই অনুযায়ী ডিপিডিসির প্রতিটি স্থানীয় অফিসকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

অথচ ২৫ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সবক’টি স্থানীয় অফিস বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যে কারণে অগ্রিম তো দূরে থাক, অনেক গ্রাহকের কার্ডের বিদ্যুৎ ফুরিয়ে গেলেও তারা তা রিচার্জ করতে পারছেন না। ফলে প্রচণ্ড গরমে প্রায় গৃহবন্দি মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

এদিকে টাকা রিচার্জ করলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটারে যোগ না হওয়ার নানা অভিযোগও রয়েছে গ্রাহকদের। গ্যাসের প্রিপ্রেইড গ্রাহকদের যারপর নাই অবস্থা। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা এসব দুর্ভোগের বিষয়টি অস্বীকার করে তা নগরবাসীর অজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, এসব বিল এখন সংশ্লিষ্ট অফিসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক এবং রকেট, বিকাশের মাধ্যমেও দেয়া যায়। ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি হওয়ার কথা নয়। 

রাজধানীর মিরপুর পীরের বাগের বাসিন্দা হোসনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রিপেইড মিটারে অগ্রিম টাকা ভরে রাখার নির্দেশনার বিষয়টি টিভিতে দেখার পরপরই তিনি স্থানীয় ডিপিডিসি অফিসে যান টাকা ভরে রাখতে। কিন্তু গিয়ে পুরো অফিস বন্ধ দেখতে পান।

পরপর দুই দিন একই অবস্থা দেখে তিনি বিরক্ত হয়ে বাসায় ফিরেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অফিস বন্ধ রেখে গণমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে ভোগন্তিতে ফেলার কি মানে? তিনি বলেন, পুরো ঢাকা লকডাউন হয়ে যাওয়ায় গলির বিকাশ কিংবা রকেটের দোকানগুলোও খোলা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে মেবাইলের মাধ্যমেও টাকা ভরা যাচ্ছে না।

অপর গ্রাহক রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকার বাসিন্দা রাশিদা আক্তার ডিনা বলেন, তার বাসার প্রি-পেইড মিটারে দেড় হাজার টাকা লোড করেন। কিন্তু এক মাস না যেতেই টাকা শেষ। এটি প্রতি মাসেই নাকি তার হচ্ছে। প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত বিল আসছে।

৩০ টাকা মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে। মাসে যে টাকা খরচ হতো এখন তার চেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচ করেও দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। আগে এক হাজার টাকায় মাস চলে যেত। এখন দুই হাজার টাকায়ও মাস পার হচ্ছে না।

এ ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই ভোগান্তি দূর করতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ভোগান্তি দিনের পরদিন বেড়েই চলছে। ফলে নতুন গ্রাহকরা এখন আর প্রি-পেইড মিটার সংযোগ নিতে চাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৭ লাখের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহককে পোস্টপেইড থেকে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব শহর এলাকা এবং ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রাম এলাকার সব গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রাহক সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের ভোগান্তির মাত্রাও বাড়ছে। দিন যত যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রি-পেইড মিটারে বেশি টাকা কেটে নেয়া এবং রিচার্জের ভোগান্তিতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া রিচার্জের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা এবং ছুটির দিনে রিচার্জ করা সম্ভব না হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে অনেক গ্রাহকের। যে কারণে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে তাদের। তবে কর্মকর্তারা গ্রাহকদের কোনো অভিযোগই মানতে নারাজ। ডিপিডিসির এমডি এ বিষয়ে জানান, প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জের জন্য এখন আর গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আগে সমস্যা ছিল। এখন বিদ্যুৎ অফিস ছাড়াও ১৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে বিচার্জের সুবিধা রয়েছে।

গ্রাহকরা যে কোনো জায়গা থেকে রিচার্জ করতে পারে। এছাড়া কোনো কারণে মিটারে টাকা না থাকলে লাইন অফ না করে কার্ডধরীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ধারও দেয়া হচ্ছে। আর মিটারে বেশি টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগও সঠিক নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, গ্রাহকরা এখনো এই পদ্ধতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। তাই এই ধরনের ভোগান্তিগুলো হচ্ছে।

এদিকে গ্যাসের প্রি-প্রেইড গ্রাহকদের অবস্থাও তথৈবচ। প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড অথবা ইউক্যাশের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং পদ্ধতিতে কার্ড রিচার্জ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন গ্রাহকরা। তারা মনে করছেন, কার্ড রিচার্জ করার উপায় সহজ হতে হবে।

যখন তখন রিচার্জ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভোগান্তি কমাতে মোবাইলে বিকাশ, রকেট কিম্বা অন্য কোনো মাধ্যমে রিজার্চ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, যেহেতু প্রিপেইড মিটার তাই গ্যাস যে কোনো সময় ফুরিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমে সহজে রিচার্জের ব্যবস্থা থাকা দরকার। তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারে তো বিল জমিয়ে রাখার সুযোগ থাকবে না। তাই সহজে বিল দেয়ার উপায় থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এরমধ্যে আবাসিক গ্রাহক প্রায় ২৮ লাখ। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...