বাংলাদেশে মরতে চান ভারতে আটকা পড়া ক্যান্সার রোগী

বাংলাদেশে মরতে চান ভারতে আটকা পড়া ক্যান্সার রোগী
বাংলাদেশে মরতে চান ভারতে আটকা পড়া ক্যান্সার রোগী - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ মার্চ ২০২০, ২০:৫২

বাংলাদেশের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মৌসুমী আকতারের বাবা (সাবেক সরকারি কর্মকর্তা) মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সহায়-সম্বল সব খুইয়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে নিরাশ হয়েছেন তিনি। এখন দেশে ফিরে বাকিদিনগুলো মেয়ে-ছেলে আর নাতি-নাতনির মুখ দেখে কাটিয়ে মরতে চান। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে আটকা পড়েছেন তারা।

শুধু ব্যাঙ্গালুরু নয়, এখন বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী যায় ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে। এছাড়া চেন্নাই, মুম্বাইও যান। এসব জায়গায় এখন হাজার হাজার বাংলাদেশি রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন আটকা।

ব্যাঙ্গালুরুতে আটকা পড়া এসব রোগী ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের দেশে ফেরার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু আটকা পড়ে আছেন সেখানে। তাদের টাকা-পয়সাও শেষ। ভারত লকডাউন হওয়ায় দেশ থেকে টাকাও নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। এজন্য দেশে ফেরার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।

ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ানা কার্ডিয়াক সেন্টারে ওপেন হার্ট সার্জারি করিয়েছেন ফেনীর ৫৭ বছর বয়সী মোস্তফা মজুমদার । ছেলে শাহরিয়ার মজুমদারকে নিয়ে সেখানে তিনি আটকা পড়েন। গত ১৮ মার্চ রিলিজ দেয়ার পর ২২ মার্চ টিকিট ছিল ব্যাঙ্গালুরু-ঢাকার। সেটা বাতিল হওয়ায় আবার ২৮ মার্চের টিকিট করেন, কিন্তু ভারতে লকডাউনের পর সেটাও বাতিল হয়েছে। সেখানে একই হোটেলে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন।

এ বিষয়ে মোস্তফা মজুমদার বলেন, টাকা-পয়সাও সব শেষ। ৫০০ রুপি করে প্রতিদিন হোটেল ভাড়া। খাওয়া-দাওয়া তো আছেই। ভারত তো নিজেদের লোকদের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ কখন নেবে?

মোস্তফা মজুমদারের মতো সেখানে আটকা পড়েছেন বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস ও তার ফুফা।

বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ভারতের ব্যাঙ্গালুরু শুধু ড. দেবী শেঠীর নারায়ানা হৃদয়ালয় হাসপাতালের আশপাশেই কমপক্ষে দুই থেকে তিনশ বাংলাদেশি ১৪ দিন ধরে এক প্রকার হোম কোয়ারেন্টাইনে। কমপক্ষে আরও ১৯ দিন পুরোপুরি গৃহবন্দি থাকতে হবে। তারপর কী হবে সেটাও জানি না। আটকা পড়া অনেকেরই টাকা-পয়সা শেষ বা শেষের পথে। আগামী দিনগুলো কীভাবে থাকবে কী খাবে, কীভাবে দেশে ফিরবে এই চিন্তায় ব্যাকুল। এছাড়া হোটেল মালিকরা যেকোনো মুহূর্তে হোটেল বন্ধ করে দিলে থাকার জায়গাটুকুও হারাতে হবে। এর মধ্যে অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজয় কৃষ্ণ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন।

ভারত থেকে এসব বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতে এখন লকডাউন চলছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বিমান চলাচল ও স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা ইচ্ছা করলেই এখন তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি না। তবে তাদের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিচ্ছি। অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...