করোনার লক্ষণে খাগড়াছড়ি ও রাজশাহীতে ২ জনের মৃত্যু

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:৩৫

খাগড়াছড়ি ও রাজশাহীতে পৃথক দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকা দুটিতে। খাগড়াছড়ির মৃত্যু ব্যক্তি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাশ। গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ওই রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। অন্যদিকে
রাজশাহীতে মৃত নারী জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।

পৃথক এই দুই মৃত্যুতে ঘটনাস্থলে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাশ জানান, সেখানে নিহত ব্যক্তির বয়স ৩০ বছরের মতো। বুধবার দুপুর ২টার দিকে শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসলে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। পরে রাতেই তার মৃত্যু হয়। তিনি দিনমজুরী পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

করোনার লক্ষণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় মৃত ব্যক্তি থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সদও হাসপাতালের আর.এম.ও ডা: পূর্ণ জীবন চাকমা। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয় বলে কেউ নেই। তাকে এলকাবাসী হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ২ চিকিৎসকসহ ২ নার্স ও ১ আয়াকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, খাগড়াছড়িতে মাত্র ২০০ পিপিই পাঠানো হয়। যা ১০টি করে ৯টি উপজেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানে পিপিই সঙ্কট রয়েছে। মৃত ব্যক্তির নমুনা রিপোর্ট এলে জানা যাবে আসলে কি হয়েছে। তাই তিনি কাউকে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। মরদেহ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিহতের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে মৃত্যু নারির সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নারী।

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। এই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উৎকণ্ঠা আর তৎপরতার মধ্যেই তার মৃত্যু হল।

হাসাপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৪৬ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালি এলাকায়। ২০ মার্চ তিনি জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ২২ মার্চ আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আইসিইউ’র ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এই নারীর স্বজনরা বলতে পারছেন না তিনি ভাইরাস বহনকারী কারও সংস্পর্শে গিয়েছেন কি না। এটা নিয়ে তারা একটু শঙ্কায় ছিলেন। এজন্য এই ইউনিটের দায়িত্বরত সবার সুরক্ষা পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল ওই নারীর নমুনা সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...