করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু

করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৫ মার্চ ২০২০, ২৩:৫৯,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ০৯:৪৭

প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার থাবায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ জনে। এদের মধ্যে ১৫ জন বিদেশ থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এসেছেন আর বাকি ২৪ জন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যারা বিদেশ যাননি কিংবা তাদের কোনো স্বজনরা বিদেশ থেকে আসেননি তারা কীভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন? এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর।

প্রতিষ্ঠানটি দুজন রোগীর ক্ষেত্রে তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত তার ‘সোর্স অব ইনফেকশন’ (সংক্রমণের উৎস) জানতে পারেনি। এ  থেকেই পরিষ্কার হয় যে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েনি।

গতকাল বুধবার করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ‘অনেকের মাঝেই এই আলোচনাটি দেখেছি যে, বাংলাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা। এরই মধ্যে আপনারা জানেন, আমরা দুইটি ক্ষেত্রে তদন্ত করছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটার ‘সোর্স অব ইনফেকশন’ (সংক্রমণের উৎস) জানা যায়নি।

সেক্ষেত্রে এটি সীমিত মাত্রায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু এটি আমি আগেও বলেছি, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার ক্ষেত্রে আমাকে বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ সেটি আমাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তসহ পেশ করতে হবে।

করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫, নতুন আক্রান্ত নেই: দেশে করোনা ভাইরাসে আরো একজন মারা গেছেন। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। অন্যদিকে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি, তাই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯-ই আছে। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো দুজন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন সাতজন।

গতকাল বুধবার আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে আরো ৮২ জনের। এদের মধ্যে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯-ই থাকলো।

তবে আগে থেকে যারা আক্রান্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন আজ বুধবার সকালে মারা গেছেন। তার বয়স ৬৪ বছর। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। বিদেশ ফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে গত ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অবস্থার অবনতি হলে গত ২১ মার্চ তাকে রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. ফ্লোরা জানান, দেশে বর্তমানে করোনা নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন এমন ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো দুজন। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট সাতজন।

কোভিড-১৯: নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ছে: সরকারের রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আরো কয়েকটি স্থানে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন,  ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে আইইডিসিআরে করা হবে। এখন যেহেতু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, পরবর্তীতে সাসপেক্টেড রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই আমাদের পরীক্ষার পদ্ধতি আরেকটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ঢাকার জনস্বাস্থ্য হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই রোগের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এ পরীক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

৮ এপ্রিল উহান থেকে লকডাউন প্রত্যাহার: মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনের মধ্যা লীয় হুবেই প্রদেশের যে রাজধানী শহর থেকে শুরু হয়েছিল, সেই উহান গত আড়াই মাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) থাকার পর অবশেষে সেখানকার বাসিন্দাদের মুক্তি মিলছে। আগামী ৮ এপ্রিল শহরটিতে আরোপিত লকডাউন প্রত্যাহার করছে কর্তৃপক্ষ।

আজ থেকে সৌদিতে কারফিউ, আরো কড়াকড়ি জারি: করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সৌদিতে সরকার ঘোষিত ২১ দিনের আংশিক কারফিউতে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে কার্যকর হবে এ কারফিউ। প্রাথমিকভাবে এ কারফিউ সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। তবে নতুন ঘোষণায় আরো ৪ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। অতএব, কারফিউ শুরু হবে বিকেল ৩টায়।

স্পেনে একদিনে ৭৩৮ প্রাণহানি: ইতালির পর ইউরোপের আরেক দেশ করোনা ভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ খবরে বলছে, ইউরোপের স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যদিয়ে ইতালির পর মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেল স্পেন। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক মৃত্যু নিয়ে দেশ এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৪ জন। গত মঙ্গলবার যা ছিল ২ হাজার ৬৯৬। এদিকে করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১।

স্পেনে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০ জন। সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৮১০ জন, আক্রান্ত ৪ লাখ: ওয়ার্ল্ডওমিটার এর তথ্যমতে মাত্র ৩ মাসেই বিশ্বের ১৯৭ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৮১০ জনের। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার ৩৬৭ জন।পুরোবিশ্বে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ১৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৯৮১ জনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসায় সারাবিশ্বের প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৮ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ইতালিতে মারা গেছে ৬ হাজার ৮২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন মারা গেছেন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২৪৯ জন।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 




Loading...
ads






Loading...