করোনা আতঙ্কে রাজধানী ছাড়ছে নগরবাসী

করোনা আতঙ্কে রাজধানী ছাড়ছে নগরবাসী - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • হাসান মাহমুদ রিপন
  • ২০ মার্চ ২০২০, ০২:০৪,  আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০, ০২:০৮

করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। মৃত্যুর এই সংবাদ ভর করেছে করোনা ভাইরাস ভীতিতে। চারদিকে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরো বেড়েছে। আতঙ্কে রাজধানী ছাড়ছে নগরবাসী। চলাফেরায় আতঙ্ক কে কখন, কিভাবে আক্রান্ত হবেন এ নিয়ে। এরই মধ্যে ফাকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা।

নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছেন। ঢাকায় যাদের স্থায়ী বাস তারাও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আবার কেউ বাড়িতে অবস্থান করেই অফিসের কাজ সারছেন। এ অবস্থায় রাজধানী ক্রমেই ফাঁকা হয়ে আসছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় কেউ কেউ রাস্তায় নামাচ্ছেন না গণপরিবহন নিয়ে। এতে চিরচেনা ঢাকার রাস্তাঘাট যেন অচেনা রুপে আবিভর্র্‚ত।

রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ কর্মব্যস্ত দিনের তুলনায় দু-তিন দিন ধরে রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা। যান চলাচলও কম। ঘরমুখী মানুষরা বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে ভিড় করেছেন। কমলাপুর, বিমানবন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ভিড় করেছেন। এই ভিড় আরো দু-একদিন থাকতে পারে।

কারণ আরো দু-একদিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে পারেন অসংখ্য মানুষ। যাত্রীদের ভিড় নিয়ে বিমানবন্দর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, উত্তরা লের জেলাগুলোতে যাওয়া ট্রেনে তুলনামূলকভাবে বেশি ভিড় হচ্ছে। তবে বাস ও ট্রেনে চাপ থাকলেও সদরঘাট ল ঘাটে গত দুই/তিন দিনে উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

কমলাপুর রেল স্টেশনের কর্মচারী ইসমাইল বলেন, ঢাকা থেকে বিভিন্ন এলাকামুখী ট্রেনগুলোতে যাত্রী অনেক। তবে উল্টোটা ঢাকামুখীর বেলায়। ঢাকামুখী ট্রেনে যাত্রী আসছে হাতেগোনা কয়েকজন। অর্থাৎ ঢাকামুখী ট্রেনগুলো অনেকটা ফাঁকাই আসছে।

করোনা আতঙ্কে এখন ঢাকা প্রায় ফাঁকা। আগামী আরো এক বা দুদিন মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারে বলে বাংলাদেশ বাস ট্রাক মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, সকাল থেকে উত্তরা লের দূরপাল্লার বাসগুলোতে বেশ ভিড় ছিল। করোনা আতঙ্কে অনেকেই পরিবার পরিজনকে গ্রামের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন। সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালেও সকালে দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিল বলে জানান তিনি।

আব্দুল্লাহপুর থেকে পোস্তগোলা রুটে চলাচলকারী রাইদা পরিবহনের চালক আল আমীন বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যাত্রীসংখ্যা একেবারে কমে গেছে। যাত্রী নেই বলে রাস্তায় গাড়িও বেশি নামেনি।

পুরানা পল্টনে বেল্লাল আকন নামে এক যাত্রী জানান, তিনি উত্তরা থেকে বাসে মতিঝিল এসেছেন। রাস্তায় যানজট ছিল না, গাড়ির সংখ্যা ছিল খুবই কম। তার মতে, এমতাবস্থায় উত্তরা থেকে আধা ঘণ্টায় মতিঝিল আসা যায়। তবে বাসটি যাত্রী তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় বেশি সময় লেগেছে।

করোনা আতঙ্কের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টারসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সড়কে প্রাইভেট কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাসসহ শিক্ষার্থী বহনকারী অন্য যান চলছে না। অনেকেই ঘরের বাইরে না যাওয়ায় গণপরিবহনে সাধারণ যাত্রীও বেশ কমে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে এবং জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গ্রামীণফোন ইতোমধ্যে তাদের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসের কাজ করতে। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠানও তাদের কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছে। রাজধানীর স্টেডিয়ামগুলোতে খেলাধুলা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগেই। সিনেমা হলও বন্ধ। অসুস্থ থাকলে মসজিদেও না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাজধানীর শপিং মল ও মার্কেটগুলোয়ও সাধারণ সময়ের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম। ভিড় নেই শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোয়ও। আবার এরই মধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

 আতঙ্কের কারণে ঢাকার রেস্টুরেন্টগুলোতেও যাচ্ছে না ভোজনরসিকরা। বলা যায়, এক প্রকার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট। এরই মধ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন প্রকাশ্য জনসমাবেশ বাতিল করেছে। করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়েছে পর্যটন স্পটগুলোও।

এছাড়া দেশের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিমানের অধিকাংশ ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সারাদেশের মতো রাজধানীর নাগরিকরাও করোনা আতঙ্কে ভুগছে। তাই তাদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না।

এদিকে করোনা আতঙ্কে দূরপাল্লার বাসে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, মাত্র ২৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে এখন চলছে বাস। অথচ এই সময় সাধারণত তাদের বাসে শতভাগ যাত্রী থাকে। কিন্তু করোনা আতঙ্ক ও সতর্কতার কারণে যাত্রী ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বাসের যাত্রী কমে গেছে। অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন। তবে যাত্রী পাওয়ার ভিত্তিতে বাস চলছে।’

পরিবহন মালিক সমিতি থেকে তাদের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি টার্মিনালের বাসে স্প্রে এবং দূরপাল্লার রুটের বাসের যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হচ্ছে।’

রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ হবে কি-না?- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘রাজধানীতে বাস চলাচল সীমিত হতে পারে। তবে বন্ধ হবে না।’ এ বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানান এনায়েত উল্যাহ।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ






ads