মুজিববর্ষ উদযাপনে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন

মুজিববর্ষ উদযাপনে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন - সংগৃহীত

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ১১ মার্চ ২০২০, ০২:৪১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপনে বাধ সেধেছে ‘করোনা’ ভাইরাস। দেশের ‘করোনা’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন হলেও আওয়ামী লীগ সরকার রোগের বিস্তার রোধে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করেছে। উদ্বোধনী বিশাল অনুষ্ঠান স্থগিত করে বিদেশি অতিথিদের পরবর্তীতে সময় জানানো হবে বলে চিঠিও দেয়া হয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায় বাঙালি জাতির বঙ্গবন্ধু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।

 সেই জন্য সারাদেশে একসঙ্গে আতশবাজি ফোটানো হবে জানা যায়। করোনা ভাইরাসকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি ‘দল ও সরকারের’ পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।  জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিন ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষ উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান ঠিক হয়েছিল, সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্বের প্রায় একশ দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ওই আয়োজনে লাগাম টানা হয়েছে। মূল ওই অনুষ্ঠান স্থগিত করে এখন ১৭ মার্চ জনসমাগম এড়িয়ে এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম ক্ষণ হচ্ছে রাত ৮টায়।

বঙ্গবন্ধুর যে জন্ম ক্ষণ সেই জন্ম ক্ষণে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে একই সঙ্গে আতশবাজি ও আনন্দ আয়োজনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে। উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, অবদান ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে ‘চিত্রপটের দৃশ্যকাব্যে বঙ্গবন্ধু’ নামে থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফির আয়োজন থাকবে। জীবনকর্ম নিয়ে থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফির মতো থাকবে। এ আয়োজনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত বিখ্যাত ব্রিটিশ কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের একটা দল পারফর্ম করার কথা। তাদের রিহার্সাল চলছে এখন। আকরাম খানের পারফর্মেন্স পুনর্বিন্যাসিত কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানট গৃহে কিংবা যেখানে থাকুন না কেন যাতে সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী আয়োজন কীভাবে হবে, তার একটি ধারণা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে একটা নির্দিষ্ট সময়ে, একটা বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আমরা আয়োজন করব। সেটি সব টেলিভিশনের মাধ্যমে ও আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে ব্যবহার করে স¤প্রচারিত হবে এবং একইসঙ্গে সারা পৃথিবীতেও তা দেখা যাবে।’

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক জরুরি  বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গতকাল (রোববার) আমি, রেহানা, সায়মা, রেদওয়ান সবাই ছিলাম পরিবারের পক্ষ থেকে। আমরা সবাই মতামত দিয়েছি, জনগণের কল্যাণটা সব থেকে বড়।

 জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন আমাদের জন্য একটা বিশাল পাওয়া। আমরা সেটা উদযাপন করব। সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা একটু ভিন্নভাবে।’ মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে লোকসমাগম কম হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘লোকসমাগম যাতে একটু কম হয়, সেটা দেখে আমরা অনুষ্ঠান করব। এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করব, আমরা এমনভাবে করব যেন জনগণ কোনো ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে। এমনকি ২৬ মার্চ শিশুদের যে অনুষ্ঠান আমরা করি, সেটাও স্থগিত করে দিয়েছি; যাতে কোনোভাবে এটা মানুষের ক্ষতি করতে না পারে। তবে আমরা অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। পুষ্পমাল্য অর্পণ ও টুঙ্গিপাড়ায় শিশুদের অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে করব।’

এদিকে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পুনর্বিন্যাস কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ও সারাদেশে সব সহযোগী সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক শুভানুধ্যায়ী সবাই বিশেষ করে, আমাদের জেলা-মহানগর এমনকি উপজেলা পর্যন্ত কমিটিগুলো একইরকম কর্মসূচি পালন করবেন। সব সহযোগী সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। এ ছাড়া সারাদেশের মসজিদ, মন্দির প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে। ১৭ মার্চে সারাদেশে দুস্থ এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার এবং আলোকসজ্জা থাকবে।

সন্ধ্যা ৬টার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে যে কর্মসূচি রয়েছে তা একসঙ্গে সব গণমাধ্যম প্রচার করবে। দেশবাসীকে ঘরে বসে সেই আয়োজন দেখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, করোনা মোকাবিলাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য, মঙ্গলের জন্য মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি বলেই তা করেছি।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 

 






ads
ads