ত্রাণের অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি গায়েব!

ত্রাণের অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি গায়েব! - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৪১,  আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১১

দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ঢেউটিন ও কম্বল বিতরণের নামে অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি লোপাট করে নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যেসব এলাকায় এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে সেখানে আদৌ বিতরণ করা হয়েছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সংসদীয় কমিটি। অভিযোগটি কমিটিতে উত্থাপিত হওয়ার পর বিশাল অঙ্কের এই টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে এর কোনো ডকুমেন্টই পেশ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

অর্থ ব্যয়ের কোনো রেকর্ডই নেই তাদের কাছে। এদিকে মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা যখন বিষয়টি নিয়ে অডিট করে তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢেউটিন ও কম্বল ক্রয় করে বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ সময় তারা প্রায় ৪৬ কোটি টাকা খরচের কোনো রেকর্ডপত্র হাজির করতে পারেননি।

আর যেসব রেকর্ড উত্থাপন করা হয়েছে তাতে এসব ত্রাণ পণ্য ক্রয়ে কার্যাদেশ দেয়ার সরকারি নিয়মকানুন মানা হয়নি। সর্বনিম্ন দরদাতাদের কাজ না দিয়ে নিজস্ব ঠিকাদারদের মাধ্যমে ক্রয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কার্যাদেশের চেয়ে কোটি কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৪তম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ  মন্ত্রণালয়ের ২০০৭-১২ অর্থবছরের হিসাব সম্পর্কিত মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ অডিট অধিদফতর কর্তৃক ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে প্রণীত অডিট আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।

উত্থাপিত পাঁচটি অডিট আপত্তির সাথে জড়িত মোট টাকার পরিমাণ ৬১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৮০ টাকা।

কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মনজুর হোসেন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান ও মো. জাহিদুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহকামাল, অডিট অফিস এবং জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন। 

সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঢেউটিন ক্রয়কালে দরপত্র মূল্যের ওপর উৎসে ভ্যাট কর্তন না করায় ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি আপত্তিটি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।

কার্যাদেশ ও চুক্তি বহির্ভূতভাবে ঠিকাদারকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করায় সরকারের ৪১ লাখ ১৬ হাজার ১৪৭ টাকা ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে প্রমাণক জমাদান সাপেক্ষে আপত্তিটি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে ঢেউটিন ক্রয় না করায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে তৃপক্ষীয় মিটিং করে আপত্তিটি অনধিক এক মাসের মধ্যে অডিট অফিসের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মোট ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৪২৩ টাকার নিরীক্ষাযোগ্য রেকর্ডপত্র নিরীক্ষায় উত্থাপন করা হয়নি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে বাস্তব যাচাই সাপেক্ষে আপত্তিটি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে কম্বল ক্রয় না করার ফলে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৭ টাকা আর্থিক ক্ষতি মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি বাস্তব যাচাই সাপেক্ষে আপত্তিটি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...