ইভিএমে ভোট নিয়ে সুজনের দুই শঙ্কা

ইভিএমে ভোট নিয়ে সুজনের দুই শঙ্কা
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৬

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ নিয়ে দুটি সুনির্দিষ্ট শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমি জানি ভোট নিয়ে অনেকের মনে অনেক অস্বস্তি আছে, শঙ্কা আছে। একটা উদ্বেগের কারণ হলো, নির্বাচন কমিশনের অতীতের ভূমিকা। আমাদের জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভূমিকা ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। এর সঙ্গে আরেকটি সমস্যা হলো, সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হবে। ইভিএমের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। একটি দুর্বলতা হলো, ভোটার ভেরিফাইয়েবল পেপার লোডেড ট্রেইল নেই। যেটা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেখানকার ইভিএমে সংযুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি কাকে ভোট দিলেন সেটা নির্ধারণ করা যায় এবং একই সঙ্গে ভোটের শেষে ভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভোট পুনরায় গণনা করা যায়। বর্তমানে যে ইভিএম আমরা ব্যবহার করছি সেই ইভিএমে নির্বাচন কমিশন যা বলবে তাই আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইভিএমে আরেকটি দুর্বলতা হলো– আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভোটারদের শনাক্ত করা হয়। অনেকের আঙুলের ছাপ ইভিএম পড়তে পারে না। তাই কর্মকর্তাদের এই ইভিএমকে ওভাররাইট করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তার মানে ভোটারের পরিচিতি যদি নির্বাচনী কর্মকর্তা আপলোড করতে পারে, ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচনি কর্মকর্তা তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এটা একটা ভয়াবহ বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা, ইভিএম হচ্ছে একটা যন্ত্র, আমার-আপনার ফোনের মতোই। আমরা এই যন্ত্রকে যে নির্দেশ দেবো সেই কমান্ড অনুযায়ী এটা কাজ করবে। ইভিএমের কমান্ডে থাকবে আমাদের নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়।

সুজন সম্পাদক আরও বলেন, আমরা দেখেছি, অনেক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কমিশন নির্বিকার ছিল। কিন্তু নাগরিকদের নির্বিকার করার সুযোগ নেই। দেশের মালিক হিসেবে নাগরিকের দায়িত্ব ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। কারণ ভোটাধিকার হলো নাগরিকের মালিকানার প্রতীক। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের সোচ্চার হওয়ার একটাই পন্থা, সেটা হলো ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

দলমত নির্বিশেষে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, শতরকম আশঙ্কা, বিপত্তি থাকলেও আপনারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোন। এর মাধ্যমে আমরা পাতানো নির্বাচনের সংস্কৃতি, বিতর্কিত নির্বাচনের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবো।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads