কারো সোনার হরিণ কারো গলার কাঁটা

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সাইফুল ইসলাম
  • ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০১:১৪

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সকল রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।

তবে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে মনোনীত এবং কাউন্সিলর পদে সমর্থিত প্রার্থী দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনড় রয়েছে। বিদ্রোহীদের জন্য দলীয় প্রার্থীদের বেশ জটিলতায় পড়তে দেখা গেছে। বিদ্রোহীরা দলের মনোনীত প্রার্থীর জন্য গলার কাঁটা হলেও কেন্দ্রের অনেক নেতার জন্য সোনার হরিণ বলে মনে করছেন দলের সমর্থিত প্রার্থীরা।

বিদ্রোহীদের পেছনে কেন্দ্রের এক শীর্ষ নেতার হাত আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা এখন জোরেশোরেই চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন, চাঁদাবাজ-দখলবাজ প্রার্থীদের আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয়ায় ‘বিদ্রোহী’র সংখ্যা বেড়েছে। অবশ্য তারা নিজেদের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে পরিচয় দিতে নারাজ।

তারা বলছেন, দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেননি তারা। শুধু স্থানীয় প্রার্থীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দলের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি একটা কথা বলি, আপনাদের (সাংবাদিক) প্রতি সম্মান রেখে- আমাদের মতো দেশে এসব শৃঙ্খলাবিরোধী বিষয়টা দলের মধ্যে থাকে।

আমরা তো অনেক বছর ক্ষমতায় আছি। ২০০৯ সাল থেকে ১১ বছর। এতে বিদ্রোহ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী এই বিষয়গুলো থাকবেই। এত বড় দলের মধ্যে এসব সমস্যা থাকবেই। কিন্তু সেটা তো আমাদের বিজয়ের পথে অন্তরায় হয় না। আমরা তো নির্বাচিত হচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এসব ছোটখাটো সমস্যা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দলকেও সংগঠিত করছি। আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হচ্ছি এবং বিরোধী দলের যে চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জও আমরা মোকাবিলা করছি। আমাদের পরিবারের ভেতরের এই বিষয়টা নিয়ে তো কোনো অসুবিধা দেখছি না। সেটা যদি নিউজ করার জন্য করতে হয় আপনারা করবেন। কোনো অসুবিধা নেই। বিদ্রোহের জন্য আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এমন তো না। বিএনপিকে কি প্রশ্ন করেন তাদের যে বিদ্রোহী আছে? -বলেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবকণ্ঠকে বলেন, সিটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ পদ হচ্ছে মেয়র। বিদ্রোহী কাউন্সিলররা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে কোথাও কোথাও বিদ্রোহীর কারণে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দলীয় বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেয়ার জন্য আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। যারা বিদ্রোহী রয়েছেন তারা শেষ মুহূর্তেও বসে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর জন্য দলীয় আইন সমান। যারা ব্যক্তি সুবিধা আদায়ের জন্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতি আমাদের দুর্বলতা থাকতে পারে। কিন্তু নীতি ও আদর্শের দিক থেকে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তের প্রতিই আমরা অবিচল। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে কোনো নেতার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী মো. জামাল মোস্তফা মানবকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তার কাছে নেতাকর্মী নেই কী করবে বিএনপির পোলাপান কাজ করে। আর বিএনপি ওদের কাঁধে ভর করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে সিল মারবে।

তবেও আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী সালাউদ্দিন রবিন মানবকণ্ঠকে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপিকে হাতে নিয়ে নিছে। তারা আমাদের ক্ষতি করছে। ইনশাআল্লাহ অচিরেই সব বন্ধ হয়ে যাবে। দলের হাইকমান্ডের ব্যবস্থা নেবে। আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি, মানুষ আমাকে আশা ভরসা দিচ্ছে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর ওপর রাগ করে অনেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তারা (বিদ্রোহী) দলের ত্যাগী হিসেবে প্রার্থিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু দল থেকে সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের অপ্রকাশ্যে ইন্ধন দিচ্ছেন দলেরই কয়েক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা নিজেদের লোকজনকে প্রার্থিতা দিতে না পেরে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

আওয়ামী লীগের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা দলের সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু দেখেন মাঠে প্রচারণায় আমাদের দলেরই আরেক ব্যাক্তি অবস্থান করছে। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করলেও ভোটে তো প্রভাব পড়বে। কেন্দ্রীয় নেতা বিদ্রোহীদের বিষয়ে যেভাবে নমনীয় কথা বলছেন তাতে বিদ্রোহীরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। বিদ্রোহীদের অনেকেই কেন্দ্রের এক শীর্ষ নেতার অনুসারী। কেন্দ্রীয় সেই নেতার সোনার হরিণ হলো সিটি নির্বাচনের বিদ্রোহীরা। যা আমাদের জন্য গলার কাঁটা।’

সূত্রে মতে, মেয়র পদে দলীয় প্রতীক দেয়া না হলেও কাউন্সিলরদের দল থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এবার কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের ভোটের সুবিধার্থে বিএনপির কাউন্সিল প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগে সমর্থিত প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের জন্য রোষানলে পড়েছে। স্থানীয় নেতাদের অনেককেই পাশে পাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতার ইন্ধনে বিদ্রোহীরা নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন বলে জানান সমর্থিত প্রার্থীরা। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকলে সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

মানবকণ্ঠ/টিএইচডি





ads







Loading...