ঋণের বোঝায় কাহিল বাংলাদেশ বিমান

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • আব্দুল্লাহ রায়হান
  • ১১ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৩০,  আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১০:২৬

কথায় আছে ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’। আর এই প্রবাদ বাক্যটির সত্যতা পাওয়া যায় রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে। বিমানের আয় নিয়ে বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটির যে হম্বি তম্বি তাতে অনেককেই বলতে শোনা যায়, বিমানের আয় শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।

প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২১৮ কোটি টাকা লাভ করেছে বলে ঢাক ঢোলও পেটানো হচ্ছে। আদৌ কি এ আয় হয়েছে বিমানের? এটাকে কি নিট আয় বলা চলে? এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান এখন ঋণের বোঝায় কাহিল। এত পরিমাণ ঋণের টাকা মাথায় নিয়ে বিমানের লাভ হয়েছে এ কথা বলাটা যুক্তিযুক্ত নয়। দেনা পরিশোধ না করে নিট আয় সম্ভব নয়, বলে সূত্র জানায়।

জানা গেছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ছয় বছর বিমানের মোট লোকসান এক হাজার  ৪৫৬ কোটি টাকা, বাকি সময়ে সংস্থাটির মোট লাভের পরিমাণ ৭৭৭ কোটি টাকা। এদিকে গত ১০ বছরে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বিমান। এখনো ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা বাবদ বিমানের কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাওনা এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর বাকিতে তেল দেয়া পদ্মা অয়েল পাবে এক হাজার ৯০ কোটি টাকা। বিগত ২০০৭ সালে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক থেকে ২৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪১৯ কোটি টাকায়।

এখনো পরিশোধ করা হয়নি ১৯৮৪ সালে ডিসি-১০ কেনার ঋণের ২২২ কোটি টাকা। বকেয়া কর, যন্ত্রাংশ আমদানি ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিল বাবদ সরকারের কাছে বিমানের দেনা ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এমন বিশাল দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে বিমান লাভের মুখ দেখেছে এটা নিছকই কথার কথা ছাড়া কিছু নয়। বিমান সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকে ক্রমাগত লোকসানের মুখে বিমান বাংলাদেশকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

২০০৭ সালে বিমানকে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করা হয়, তারপরও বিমান লোকসান কমাতে পারেনি। ২০১৯ সালে সংসদে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিমানের লোকসান হয়েছে ২০১ কোটিরও বেশি টাকা। কিন্তু পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিমান মোট আয় করেছে পাঁচ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা, একই সময়ে সংস্থাটির ব্যয় হয় পাঁচ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। এতে ২১৮ কোটি টাকা লাভ হয় সংস্থাটির। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যে লোকসান কাটিয়ে মুনাফা করার যে দাবি বিমান করছে, তাকে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে করেন না বিশ্লেষকরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা পদ্মা অয়েল কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের কাছে এখনো সংস্থাটির পাওনা দুই হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এ নিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম প্রশ্ন তোলেন, বিমানের যে বিশাল ঋণ, তা পরিশোধ না করে কিভাবে লাভের হিসাব করা যায়। যে কোনো বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় এর জ্বালানি অর্থাৎ জেট ফুয়েলের পেছনে।

এরপর আরো অন্তত ১০-১৫ শতাংশ খরচ হয় বিভিন্ন কর এবং ফি এর পেছনে, যেটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আদায় করে। এখন বিমানের জ্বালানি ব্যয়ের একটি বড় অংশ অপরিশোধিত যদি থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান লাভ কিভাবে করলো সেটা একটা বড় প্রশ্ন। কেবল পদ্মা অয়েল নয়, আরেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছেও বিমানের বকেয়া রয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ বিমানকে লাভজনক করতে বিগত ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৯০০ কর্মী কমানো হয়। আগে ২৯টি আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করলেও বিমান এখন ১৫টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রায়ই বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। এমনকি অনলাইনেও টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ বাস্তবে বিমানের আসন খালি যায়। বিমানের কর্মকর্তারা কমিশন নিয়ে ওসব কাজ করে বলে দুদক সাম্প্র্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

বিমান সংশ্লিষ্ট অনেকেই সংস্থাটির আগের মুনাফার হিসাবকে আজগুবি বলছেন। তাদের মতে, বিমানের মুনাফা কাগজ-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে সত্য নয়। বিমানের বকেয়া চার্জ এবং তেলের মূল্য পরিশোধ করলে মুনাফা তো দূরের কথা, লোকসান দেখাতে হবে। মূলত বহুমুখী দুর্নীতির কারণেই লাভের মুখ দেখছে না বিমান। আর বিমানকে যদি দুর্নীতিমুক্ত করে ভালো যাত্রীসেবা দিতে না পারা যায়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠান কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

সূত্র আরো জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি রীতিমতো কুখ্যাত। ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিমানসেবা হিসেবে বিমানের নাম উল্লেখ করা হয়। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশি বিমান সংস্থার প্রতিটি ফ্লাইট গড়ে ৩ ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছে বলে জানায় টাইম। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিমানের ওই ফ্লাইট ডিলে বদনাম আজও ঘোচেনি।

পাশাপাশি একের পর এক কারিগরি ত্রূটিসহ নানা কারণে অভ্যন্তরীণ রুটেও মাঝেমধ্যে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হচ্ছে। ওসব কারণে বিমানবন্দরে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে বিমান স্টাফদের বাক-বিতণ্ডা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিমানবহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৮টি। বিমান ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি করে। এরইমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ১২টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮, দুটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০। চলতি বছর কানাডা থেকে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ও দেশে আসছে।

বিমানের কর্মকর্তারা আরো জানান, স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনের জন্য বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ কেনা হয়েছিল। মূলত ঢাকা-ব্যাংকক, ঢাকা-সিঙ্গাপুর, ঢাকা-কুয়ালালামপুরের মতো আঞ্চলিক রুটে চলবে বোয়িং ৭৩৭। এই দুটি বাদে সবগুলো উড়োজাহাজই কেনা হয়েছিল দূরপাল্লার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য। বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ড্রিমলাইনার টানা ১৬ ঘণ্টার বেশি উড়তে সক্ষম। ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম ড্রিমলাইনারের উচ্চতা ৫৬ ফুট এবং এর পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরপাল্লার রুটে চলা প্রতিটি উড়োজাহাজকে গড়ে ১২ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করতে পারলেই এর যথাযথ ব্যবহার সম্ভব। কিন্তু বিমান একেকটি উড়োজাহাজ গড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করতে পারছে না শুধুমাত্র সঠিক রুট পরিকল্পনার অভাবে।

বিমানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১০ সালে বিমান যখন বোয়িংগুলো কেনার চুক্তি করে তখন থেকেই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রুট প্ল্যানিং সম্পন্ন করা উচিত ছিল। অথচ দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টার ফ্লাইটও পরিচালনা করা হচ্ছে এসব উড়োজাহাজ দিয়ে। এতে দামি এই বোয়িংগুলোর সাইকেল নষ্ট হচ্ছে। দুই ঘণ্টার ফ্লাইটেও যেমন একটি সাইকেল নষ্ট হবে, আবার ১২ কিংবা ১৬ ঘণ্টার ফ্লাইটেও একটি সাইকেল নষ্ট হবে। এভাবে ১৫০০ সাইকেল নষ্ট হলে উড়োজাহাজের বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। আর এতে প্রয়োজন হয় কয়েক কোটি টাকা। বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এ আসন সংখ্যা ৪১৯ আর ড্রিমলাইনারে আসন ২৭১টি। অথচ এসব স্বল্প রুটের ফ্লাইটে পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় উড়োজাহাজসমূহের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এদিকে দুদকের মতে বিমানকে ডোবাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ও উড়োজাহাজ কেনা-কাটায় দুর্নীতি এবং হজ মৌসুমে ও অন্যান্য কারণে পুকুরচুরিতে নাকাল হয়ে পড়েছে বিমান। যাত্রীরা অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যাগেজ নিয়ে বিমানে ওঠে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাগেজের জন্য যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ করা হলেও তা মূল হিসাবে না দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিমানের দুর্নীতি রোধে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের তালিকা, কখন কেনা হয়েছে, কী দামে কেনা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, কত টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে- এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতির পরিমাণ নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছে দুদক। বিমান বলছে, ১৯৭২ সাল থেকে পদ্মা অয়েল এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছে বিমানের কয়েক হাজার কোটি টাকার বেশি দেনার একটি বড় অংশ গভর্নমেন্ট ইক্যুয়িটি’তে পরিণত করা হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাওনা অর্থের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২০১৯ সালে বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও এখনো বিষয়টি সুরাহা হয়নি। পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য বিমানের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা চুক্তি হয়েছে। বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, বিমানের ঋণের সঙ্গে মুনাফার হিসাব মেলানো যাবে না। বিমানের যেটা বকেয়া অর্থ সেটাকে আলাদা হিসাবে নেয়া হয়েছে। সেটা আমাদের ম্যানেজমেন্ট আলাদাভাবে দিচ্ছে, আলাদা অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কিস্তিতে দেয়া হচ্ছে। তবে এ বছর আমাদের নিট মুনাফা ২১৮ কোটি টাকা।

আর সেটা অর্জন করার জন্য আমাদের টিকিট বিক্রি এবং নতুন রুট চালু করা হয়েছে, সেটার ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে মুনাফার সাথে সাথে বিমানের যাত্রী পরিবহন সংখ্যাও বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান গত বছর পাঁচ লাখ সাত হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে সাড়ে ২২ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এ টি এম নজরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিমানেও দুর্নীতি হয়, তা সবার জানা। তবে দুদকের উচিত কোথায় কারা দুর্নীতি করছে তাদের চিহ্নিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানো। দুর্নীতিমুক্ত হলেই বিমানের আয় বাড়বে এবং লাভবান হবে বিমান।

বহু বছর থেকে বিমানে অনিয়ম দুর্নীতি চলে আসলেও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এসব ঘাটতি উত্তরণে মনোযোগ দিয়েছে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ঘাটতি উত্তরণে বাড়তি মনোযোগ দেবার কারণেই ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ২১৮ কোটি টাকা লাভ করেছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিমান লোকসান করার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, আমরা একে একে সেসব চিহ্নিত করে সমাধান করার চেষ্টা করছি।

মানবকণ্ঠ/ টিএইচডি





ads







Loading...