• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

শ্রমবাজারে বছরজুড়ে ছিল অস্থিরতা

শ্রমবাজারে বছরজুড়ে ছিল অস্থিরতা

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২৯

শ্রমবাজারে অস্থিরতা লেগেই ছিল পুরোবছর। জনশক্তি রফতানি কঠিন সময় পার করেছে বাংলাদেশ। সংকুচিত হয়েছে জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া। জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। যা গত বছরের চেয়ে ৮০ হাজার ৯০২ জন কম। নারীশ্রমিকের বিদেশ যাওয়ার সংখ্যা ছিল বেশি। চলতি বছরের ১১ মাসে ৯৭ হাজার ৪৩০ জন নারীশ্রমিক বিদেশে গিয়েছেন, যা আগের একই সময় ছিল ৯১ হাজার ৯২১ জন। এবার পাঁচ হাজার ৫০৯ জন বেশি নারীশ্রমিক এবার বিদেশ গেছেন। বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরতের মিছিল লেগেই ছিল বছরজুড়ে। গ

ত ১১ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আউট পাস (ট্রাভেল পাস) নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ৩৩৫ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে শুধু সৌদি থেকে ফেরা ২৪ হাজার ২৮১ জন শ্রমিক। এই ১১ মাসে ৩ হাজার ৮৩৮ জন প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে ১২৯ নারীর মরদেহ রয়েছে। আর সৌদি আরব থেকে মরদেহ ফিরেছেন ৫৭ নারীর। যার মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ২৪ নারী। আর চলতি বছরের চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি থেকে ১ হাজার ২৫০ জন নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরছেন।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে ভুগতে হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এর মধ্যে সৌদি আরবে অস্থিরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। আকামা (কাজের অনুমতি) থাকা সত্ত্বেও অনেক শ্রমিকদের ধরে দেশে পাঠায় দেশটি। বাংলাদেশ থেকে সে দেশে যাওয়া নারীশ্রমিকদেরও কর্মজীবন সুখকর ছিল না। শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে সহস্রাধিক নারীকে।

বছরের শুরু থেকেই সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে বিদেশে শ্রমশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া। বন্ধ ছিল মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাতে বাজার বন্ধ। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের চালু করার জন্য নানা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হলেও সফল হয়নি বাংলাদেশ। বিরূপ পরিস্থিতিতে থমকে ছিল বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার। সৌদি আরবের শ্রমবাজারে ছিল অস্থিরতা। বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর ধড়পাকড় চালায় সৌদি আরব। আকামা থাকা সত্ত্বেও ফেরত পাঠানো হয় শ্রমিকদের। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তারা নিয়োগকর্তাকে জানালেও নিয়োগকর্তা তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসেননি।

এমনকি বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানালেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত নারীশ্রমিকদের ওপর নিপীড়ন চালান নিয়োগকর্তারা। গণধর্ষণ, শারীরিক ও অমানুষিক বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক বাংলাদেশি নারীশ্রমিককে দেশে ফিরতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খোলা নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ ছিল না জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা ও প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময় ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৬২ জন। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে ৮০ হাজার ৯০২ জন কম শ্রমিকের অভিবাসন হয়েছে চলতি বছরের ১১ মাসে।

চলতি বছরের ১১ মাসে ৯৭ হাজার ৪৩০ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গিয়েছেন, যা আগের একই সময় ছিল ৯১ হাজার ৯২১ জন। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে পাঁচ হাজার ৫০৯ জন বেশি নারীশ্রমিক এবার বিদেশ গেছেন।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশ থেকে আউট পাস (ট্রাভেল পাস) নিয়ে দেশে ফেরত আসা শ্রমিকদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৪ হাজার ২৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ৩৭২ জন, মার্চে ৩ হাজার ৮৪৪ জন, এপ্রিলে ৩ হাজার ৪৬ জন, মে মাসে ৪ হাজার ২০৪ জন, জুনে ২ হাজার ৪২৯ জন, জুলাইয়ে ৩ হাজার ৮৮০ জন আগস্টে ৩ হাজার ৬৩৩ জন, সেপ্টেম্বরে ৮ হাজার ৭২৫, অক্টোবরে ৯ হাজার ৩০ জন, নভেম্বরে ৯ হাজার ১৪৪ জন শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।

সৌদি থেকে ফেরা ২৪ হাজার ২৮১ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৭৭১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মার্চে ২ হাজার ৩৪৮, এপ্রিলে ৯৮৭ জন, মে মাসে ১ হাজার ৩১০ জন, জুনে ১ হাজার ৬০৩ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৬৭৫ জন, আগস্টে ১ হাজার ৫২৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৩৩৯ জন, অক্টোবরে ৪ হাজার ৬৬২ নভেম্বরে ৩ হাজার ৫৮৯ জন শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান মানবকণ্ঠকে বলেন, গত দু’বছর থেকে একটা আলোচিত বিষয় ছিল বিদেশ থেকে নারীদের নির্যাতিত হয়ে ফেরা। এই বছর প্রথমবারের মতো সরকার বিষয়টি অস্বীকার না করে ইতিবাচকভাবে সমাধানের পথ খুঁজছে। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের পর সরকার সৌদি আরবে গিয়ে শক্তভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। সৌদি আরবও নারী নির্যাতন বন্ধ ও বৈধ কর্মীদের ফেরত না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারও নতুন করে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। আশা করছি সৌদি আরব যদি তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো মানে এবং আমাদের নির্দেশনাগুলো বাংলাদেশে মানা হয় তাহলে বিষয়টি সমাধান হবে।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফেরার বিষয়টা আমরা সেভাবে আলোচনা করি না। কিন্তু এটাও অভিবাসনের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাজেই ফেরত আসা মানুষদের পাশে কিভাবে দাঁড়াতে হয় সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। এ ছাড়া অনেকে ইউরোপে অবৈধ পথে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে মারা গেছে। এই অবৈধপথে মানব পাচারের বিষয়টা আমাদের বন্ধ করতে হবে। পরপর ৩ বছর বাংলাদেশ ওয়াচ লিস্টে আছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে। এ বিষয় থেকে আমাদের উত্তরণ হতে না পারলে সঙ্কট তীব্রতর হবে। এর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী প্রেরণের দিকে নজর দিতে হবে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস ইউনিটের (রামরু) সভাপতি অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, প্রবাসে নারীকর্মীদের নিগ্রহের ঘটনা বড় আকারে প্রকাশ পেলেও চলতি বছর তাদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।

সৌদি আরবে নারীকর্মীদের সুরক্ষায় সরকারি ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত তৎপরতা জোরদারের সুপারিশ করে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরো দায়বদ্ধ করার পাশাপাশি বিদেশে সেইফ হোম ও স্থানীয় আদালতে মামলার সুযোগ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সিভিল সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৎপর হতে হবে। নিগ্রহের কেইস স্টাডি তৈরি করে তাদের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় ফোরামে তুলে ধরার ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...