বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে কাজ করছে সরকার

বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে কাজ করছে সরকার
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে কাজ করছে সরকার - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫

বজ্রপাত নিয়ে সরকার অনেক কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, দ্রুতই আমরা বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হব। তবে খেয়াল রাখা লাগবে যে সচেতনতার নামে ভীতি সৃষ্টি করা যাবে না। তাল গাছ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটা ১০ বছর লাগে বড় হতে, তবে এত দীর্ঘ দিন মৃত্যুর হার কমাতে তালগাছের ওপর ভরসা রাখা যাবে না। তাল গাছ লাগালে পরিচর্যাও করতে হবে। আমরা পারি সচেতনতা তৈরি করতে। পূর্বাভাস ও সচেতনতাই পারে মৃত্যুর ঝুঁকির হার কমাতে।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে বজ্রপাতের ঝুঁকি নিরসন শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহসীনও এতে উপস্থিত ছিলেন।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক হিউম্যনিটারিয়ান প্রোগ্রামের ডিরেক্টর সাজেদুল হাসান। তিনি বলেন, দিনকে দিন বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সঠিক পরিসংখ্যান কখনই পাওয়া যায়নি। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সরকারের ইউনিয়ন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে বজ্রপাতের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব রাখেন সাজেদুল হাসান। তিনি আরও বলেন, সরকারের সাথে কীভাবে মিলে বজ্রপাত মোকাবিলায় কাজ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম।

এরপর বক্তব্য রাখেন আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ডা. মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, আগে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বজ্রপাত হলেও এখন সারা বাংলাদেশে বজ্রপাত ছড়িয়ে গেছে। পরিবর্তন হয়ে গেছে বজ্রপাতের সময়ও। আব্দুল মান্নান আরও বলেন, তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে বজ্রপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় কয়েক গুণ। বজ্রপাতের পূর্বাভাসের যন্ত্র এরই মধ্যে ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সরকার। সেটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে অধিদফতর।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মোহসীন জানান, এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে বজ্রপাতের হার ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ১৯৭১ সালের পর থেকে ০.৭ ডিগ্রি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বজ্রপাতে আহত সাইদুর রহমান ও হোসেন মিয়া। বজ্রপাতে মুহূর্তটি বর্ণনা করে হোসেন মিয়া বলেন, কখন বজ্রপাত তাকে আঘাত করেন তিনি টেরও পাননি। ওই স্থানে ৬ জন মানুষ ছিলেন। ছয়জনের ওপরই বজ্রপাত হয়। কিন্তু কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারেননি তারা। ওই বজ্রপাতের আঘাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়, আর বাকি দুই জন আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেই বিকট শব্দ হোসেন মিয়া এখনও ভোলেননি।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...