ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ড : কর্তৃপক্ষ-ভবন মালিক উভয়ই দায়ী

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৭

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি কেশরিতা এলাকায় লাক্সারি ফ্যান কারখানায় গত ১৫ ডিসেম্বর রোববার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ শ্রমিক নিহত ও ২ জন দগ্ধের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ওই তদন্ত কমিটির সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া কারখানাটি পরিদর্শন এবং শ্রমিক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর ইসলাম পরিদর্শন শেষে বলেন, আমাদের যে নিয়ম-কানুন আছে, মিনিমাম নিয়ম-কানুনও তারা মেনে চলেনি। বড় স্থাপনা হলেও জরুরি কোনো এক্সিট পয়েন্ট (বাহিরের পথ) নেই। যে কারণে ১৯ জন শ্রমিকের মধ্যে ১০ জনই মারা গেছেন। মূলত পেছন দিকে যদি একটি গেট থাকত, তাহলে তারা সেখান থেকে উদ্ধার হতে পারত।

তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং ভবন মালিক উভয়কে আমরা দায়ী মনে করছি। কারণ, এটি একটি আবাসিক এলাকা, একটি নিভৃত গ্রাম। সেই গ্রামে এ রকম একটি ফ্যানের কারখানা ভাড়া দেয়া মোটেই উচিৎ হয়নি। পাশাপাশি যারা কারখানাটি করেছেন তারাও দায়ী। কারণ, এ কারখানায় অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার হয়। এখানে বিস্ফোরক থেকে ছাড়পত্র নেয়ার কথা ছিল, পরিবেশ এবং ফায়ার থেকে ছাড়পত্র নেয়ার দরকার ছিল। তারা যদি এই ছাড়পত্রগুলো নিতো, তাহলে তাদেরকে নিয়মের মধ্যে আনতে বাধ্য করা হতো। তাহলে ইমার্জেন্সি গেট করার নির্দেশনা হয়ত থাকত। সেক্ষেত্রে তারা বেঁচে যেতেও পারত।

তিনি আরো জানান, এ রকম দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য তারা শক্তভাবে রিপোর্ট প্রদান করবেন। অন্য যে কারখানা আছে, সেগুলোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেবে তারা। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রত্যেক উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হবে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এসময় তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, শিল্প পুলিশ-২ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ, কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের পরিদর্শক মো. ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads