এবার পেনশন নিয়ে চাকরিজীবীদের সুখবর দিলো সরকার

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৬

সরকারি চাকরিজীবীদের সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে তারা অবসরে যাওয়ার পর পেনশন শতভাগ সমর্পন করা বা তুলে নিলেও মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী, বিপত্মীক স্বামী ও কোনো প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তারা সেই পেনশনের সুবিধা পাবেন।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর পেনশন পুনঃস্থাপিত হয়ে থাকলে তার মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্মীক স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান (যদি থাকে) পুনঃস্থাপিত পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া তাদের চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা প্রাপ্যতার বিষয়ে অর্থ বিভাগের ২০১৭ সালের ৩ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুসরণীয় হবে।

গত বছরের ৮ অক্টোবরের অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর অতিক্রান্তের পর তাদের পেনশন পুনঃস্থাপন করা হবে।

প্রচলিত পদ্ধতি ও নিয়ম অনুসরণ করে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নতুন পেনশন সুবিধাদি নির্ধারণ করা হবে। আর পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা যেতে পারে। তবে ওই তারিখের আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সুবিধার আওতায় আসবেন প্রায় বিশ হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। এজন্য সরকারের পেনশন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সাল থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘শতভাগ’ পেনশন বিক্রি বা সমর্পণ প্রথা চালু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ জুন এ পদ্ধতি বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি একই বছরের ১ জুলাই থেকে পেনশনের ৫০ শতাংশ সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণের বিধান চালু করা হয়।

গত ২৩ বছরে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনের ১০০ ভাগ টাকা তুলে নিয়ে অবসরে গেছেন। বর্তমানে এসব চাকরিজীবী বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী দু’টি উৎসব বোনাস, বাংলা নববর্ষ ভাতা ও মাসিক চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছেন।

শতভাগ পেনশন উত্তোলনের পর ১৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে- এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৯৫৩৮ জন। এ প্রস্তাবটি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হলে তাদের পেনশন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা।

বিদ্যমান পেনশন পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে পেনশন সুবিধাভোগীরা ইনক্রিমেন্ট (বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি) পাবেন। ফলে ওই হিসেবে প্রস্তাবিত সুবিধার আওতায় ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সরকারের আরো অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। ফলে এ সুবিধা দিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, শতভাগ সমর্পণকারী পেনশনার্স ফোরাম ২০১৮ সালে উল্লিখিত সুবিধা পেতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করে। পরবর্তীকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শতভাগ সমপর্ণকারী পেনশনার্স ফোরামের নেতারা এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন পেনশন পুনঃস্থাপনের আবেদন করে।

এছাড়া একই সুবিধা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে আবেদন করেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারী যারা শতভাগ পেনশন তুলে নিয়েছেন তাদের জন্য এ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরবি‌




Loading...
ads






Loading...